এই মুহূর্তে

পাক ‘দালাল’ নাজমুলকে বাঁচাতে আচমকা আসরে জামায়াতপন্থী বিসিবি সভাপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: অনিশ্চয়তা ক্রমশই ঘিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিংহভাগ পরিচালক পাকিস্তানি এজেন্ট এম নাজমুল ইসলামকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করার কথা বলছেন, তখন উল্টো সুর সংস্থার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের গলায়। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসাবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর কট্টর সমর্থক বিসিবি সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কুকথা বলার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন না নাজমুল ইসলাম। তাতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা ২-৩ বছরের জন্য বন্ধ থাকবে।’ আর বিসিবি সভাপতির ওই হুঙ্কারের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে রাতেই বৈঠকে বসছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।

তামিম ইকবালকে ভারতীয় দালাল বলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অযোগ্য বলেও নিশানা করেছিলেন বিসিবির পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। রাজাকার পরিবারের সন্তান নাজমুলের ওই মন্তব্য নিয়ে ঝড় ওঠে। তাকে বিসিবি থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। নাজমুলকে না সরানো পর্যন্ত সব রকমের খেলা বয়কট করা হবে বলেও জানিয়ে দেয়। ফলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মিরপুরে এদিন বিপিএলের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা ভেস্তে যায়। চাপে পড়ে নাজমুলকে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানোর ঘোষণা করা হয়। তবে তাতে সন্তুষ্ট হননি ক্রিকেটাররা। সন্ধ্যায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম-সহ বেশ কয়েকজন পরিচালক।

সূত্রের খবর, ‘বৈঠকে ক্রিকেটাররা জানান দেশের স্বার্থে তারা খেলায় ফিরতে রাজি। তবে মোল্লা নাজমুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’ কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন বোর্ড সভাপতি। তিনি ক্রিকেটারদের বলেন, ‘নাজমুলের পিছনে পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের হাত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী মানুষ। প্রকাশ্যে তিনি ক্ষমা চাইবেন না।’ ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা তখন বুলবুলকে বলেন, ‘নাজমুল সম্মানিত ব্যক্তি, তাই বলে ক্রিকেটারদের কি সম্মান নেই! তিনি যেহেতু প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, ক্ষমাও তাঁকে প্রকাশ্যেই চাইতে হবে।’ ক্রিকেটারদের ওই কথা শুনে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত নই। শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ না হলে আমার মতো জামায়াতে ঘনিষ্ঠ কেউ কখনও বিসিবির সভাপতি পদে বসতে পারতেন না। যারা আমাকে বিসিবির সভাপতি পদে বসিয়েছেন তাদের সঙ্গে সঙ্ঘাতের রাস্তায় যাওয়ার পরিবর্তে দেশে কয়েক বছরের জন্য ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া অনেক শ্রেয়।’ বোর্ড সভাপতির ওই কথা শুনে ক্রিকেটাররা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।  এ বিষয়ে জানতে বিসিবির সভাপতি আমিনুল-সহ একাধিক পরিচালককে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বৈঠক হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাঙালি অভিজ্ঞানের ব্যাটে মার্কিন বধ, জয় দিয়ে ছোটদের বিশ্বকাপ শুরু ভারতের

ছোটদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ বৈভব সূর্যবংশী, মাত্র ২ রান করে ফিরলেন

বিপিএলের খেলা না হওয়ায় মিরপুর স্টেডিয়ামে ভাঙচুর দর্শকদের, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামল সেনা

বিসিবি থেকে ‘মোল্লা’ নাজমুলকে তাড়ানোর দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে BPL!

ক্রিকেটারদের দাবি মানল বাংলাদেশ বোর্ড, ‘রাজাকার’ মোল্লা নাজমুলকে গলা ধাক্কা দিল

‘রাজাকার’ নাজমুল ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত খেলবেন না, জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ