এই মুহূর্তে




বাংলাদেশে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, বিয়েতে মাইক বাজানোয় বাবা-মা ও কনেকে বেত্রাঘাত মৌলবাদীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের ইন্ধনে তালিবানি রাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বাংলাদেশে। আর সেই তালিবানি রাজত্বে ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। বিয়ে বাড়িতে মাইক বাজানোর অপরাধে কনে, কনের বাবা-মা সহ পরিবারের সবাইকে বেধড়ক মারধর করল এক দল মৌলবাদী। শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি বাংলাদেশি তালিবানরা। ইসলাম ধর্মের অবমাননার দায়ে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।  ক্ষমা চেয়েও মেলেনি পরিত্রাণ। দাবি করা হয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানা। সেই জরিমানা দিতে না পারায় বরের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও আটকে রাখা হয়েছে। সব কিছু জেনেশুনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে পুলিশ। ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের।

ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহানের মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু তখন কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনন্দ করতে বাজানো হয় মাইক। আর তাতেই চটে যান এলাকার মুসলিম মুরুব্বিরা। বেশ কয়েকজন ধর্মীয় মুরুব্বি মাইক বাজানো বন্ধের নির্দেশ দেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।   পরে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন সালিশি সভা বসান। ।

ওই সালিশি সভায় শাহজাহান, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সহ পরিবারের সবাইকে ১৫টি করে বেত্রাঘাতের দণ্ড দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শাহজাহানের কথায়, ‘মাইক বাজানোর জন্য আমি এবং পরিবারের সবাই বারবার ক্ষমা চাওয়ার পরেও মুরুব্বিরা কোনও কর্ণপাত করেনি। সবাইকে বেত মারার পর তারা ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করে। জরিমানার টাকা জোগাড় করতে না পারায় মেয়ের জামাইয়ের অটোরিকশা আটকে রেখেছে। সমাজে অনেকের কাছে গিয়েছি, কোনও বিচার পাইনি।’

সালিশি সভার অন্যতম হোতা তথা জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা আলাউদ্দিন মাঝির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এখন মোল্লা ইউনূসের জমানা। ফলে শরিয়াহ আইনেই দেশ চলবে। ইসলাম ধর্মে গান-বাজনা নিষিদ্ধ। তা অমান্য করায় শাহজাহানের পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাতের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। যেমনটা ইরান-সৌদি আরবে ঘটে। এর মধ্যে অন্যায়ের কিছু নেই।’

চোখের সামনে মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখেও নীরব দর্শক ছিল স্থানীয় থানার আধিকারিকরা। এ বিষয়ে সাগরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক এসআই ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করায় আমি আর সেখানে থাকিনি। এরপরে তারা আমাকে আর কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আইপিএলের নিলামে দল পাবেন সাত বাংলাদেশি ক্রিকেটার?

পাক হানাদারদের পথ অনুসরণ করে এবার বুদ্ধিজীবী‌ নির্মূল অভিযান শুরু মোল্লা ইউনূসের

ইউনূস সরকারের মনগড়া অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বিদেশ মন্ত্রকের

বাংলাদেশের ভোট বানচালের চেষ্টার অভিযোগে ভারতের দূতকে তলব ইউনূস সরকারের

সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত ১৪ বাংলাদেশি সেনার‌ পরিচয় প্রকাশ

সুদানে জঙ্গি হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি সেনা, আহত ৮

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ