এই মুহূর্তে




মুক্তিযুদ্ধের জল্লাদ সাকা চৌধুরী-নিজামীদের জন্য চোখের জল ফেললেন বিএনপি মহাসচিব

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও গণধর্ষণ সংগঠিত করার জন্য যখন নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জামায়াত ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান, তখন উল্টোসুর খালেদা জিয়ার দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গলায়। একাত্তরের গণহত্যাকারী ও গণধর্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলেছেন। পাক হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে নিরীহ বাঙালিদের উপরে নির্মম অত্যাচার চালানো মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী,  সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের ফাঁসি দেওয়া চরম আন্যায় হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধের সময় ফখরুল ইসলাম নিজেও ঠাকুরগাঁওয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চরম বিরোধিতা করেছিল জামায়াত ইসলামী। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বাঙালি নিধন যজ্ঞে সহযোগিতা করতে গড়েছিল ‘আল শামস’ ‘আল বদর’ সহ একাধিক বাহিনী। ওই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাক সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মহিলা-যুবতী-তরুণীদের ভেট হিসাবে পাক সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। নিজেরাও ধর্ষণ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। বিশেষ করে হিন্দু মেয়েদের গণধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনায় জড়িত ছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আজম আলী আহসান মুজাহিদী, কাদের মোল্লার মতো শীর্ষ জামায়াত নেতারা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের বাবা সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদও কুখ্যাত ধর্ষক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জমানায় মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত থাকায় নিজামী সহ একাধিক জামায়াত নেতার ফাঁসি হয়েছিল। যদিও গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানের পরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ‘রাজাকার’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের শীর্ষ পদে পুনর্বাসিত হয়েছে রাজাকার পরিবারের সন্তানরা।

দীর্ঘদিন ধরেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণ সংগঠিত করার জন্য জামায়াত ইসলামীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের সাধারণ মানুষ। অবশেষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার পথে হাঁটলেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান। গত বুদবার (২২ অক্টোবর) আমেরিকার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি যেমন ভুল করতে পারে, তেমনি একটি দলেরও ভুল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। কোনটা ভুল, কোনটা সঠিক, সেটা ইতিহাস নির্ধারণ করবে। আজকে যেটাকে ভুল বলা হচ্ছে, কাল সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সঠিক হিসেবে প্রমাণিত হবে। আমরা আদর্শবাদী একটি দল। আমাদের দ্বারা বা আমাদের সহকর্মীদের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সেই সকল মানুষের কাছে আমি শর্ত ছাড়াই ক্ষমা চাচ্ছি। মাফ চাওয়ার মধ্যে কোনও পরাজয় নেই, লজ্জা নেই। এটি আমার মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধের বিষয়।’

জামায়াত ইসলামীর আমীর যখন ক্ষমা চেয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন, তখন উল্টোপথে হেঁটে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংগঠিত গণহত্যা ও গণধর্ষণকে সমর্থন করেছেন। শুধু তাই নয়, মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী,  সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের মতো গণধর্ষক ও গণহত্যাকারীদের ফাঁসির বিরোধিতা করে চোখের জল ফেলেছেন বিএনপির মহাসচিব তথা নব্য রাজাকার বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক মির্জা ফখরুল ইসলাম। শনিবার (২৫ অক্টোবর) শিল্পকলা আকাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন ‘আল শাসম বাহিনীর নেতা তথা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, সালাউদ্দিন কাদেরসহ অনেকে আলেম-ওলামাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মিথ্যা মামলায়। এসব এই জাতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তারা যে গণহত্যা ও গণধর্ষণ সংগঠিত করেছিল তার মধ্যে অন্যায় কিছু ছিল না। পাকিস্তানপ্রেমী হিসাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।’ বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

হুমায়ুনের বাবরি মসজিদের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা ৩০০ বাংলাদেশি জঙ্গি!

৩৬ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল খালেদার দল বিএনপি, তালিকায় রয়েছে রাজাকারও

বাংলাদেশে পর পর ভূমিকম্পের পিছনে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা? আজব দাবি শেখ হাসিনার

খালেদাকে ঢাকায় রাখতে রাজি নন পুত্র তারেক, শিগগিরই নেওয়া হচ্ছে লন্ডন

হাসিনা পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

ফের কাঁপল বাংলাদেশের মাটি, কম্পাঙ্ক ৪.১

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ