এই মুহূর্তে

মোল্লা ইউনূসের কাছে নতজানু দিল্লি! মোদিতে মোহভঙ্গ বাংলাদেশি হিন্দুদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ১০ বছরেই বদলে গেল ছবি। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে জিতে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসায় খুশিতে ডগমগ হয়েছিলেন বাংলাদেশি হিন্দুরা। মোদির জয়ে খুশিতে মিষ্টিও বিলি করেছিলেন। ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের ‘মসিহা’ মনে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে গত চার মাসে লাগাতার সন্ত্রাসের মুখে পড়ার পরেই মোদি নিয়ে মোহভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দুদের। আর ওই মোহভঙ্গের পিছনে অণুঘটক হিসাবে কাজ করেছে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার ‘নতজানু’ মনোভাব।

শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পর থেকে লাগাতার বাংলাদেশ জুড়ে চলছে হিন্দু নিপীড়ন। শহর এলাকার চেয়ে গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেকের বাড়িঘর-বিঘের পর বিঘে জমি দখল হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের লেলিয়ে দিয়ে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। তার সঙ্গে চলছে অবাধ চাঁদাবাজি। রাতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হিন্দুদের শাঁসানো হচ্ছে, ‘প্রাণে বাঁচতে চাইলে দেশ ছেড়ে চলে যা’, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনারা কীভাবে ধর্ষণ আর খুন করেছিল, মনে আছে?’। নাটোরে হিন্দু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে প্রাণ ভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন।

লাগাতার হিন্দু নির্যাতন নিয়ে ভারত সরকার সরব হবে বলে আশা করেছিলেন বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠনগুলির নেতারা। কিন্তু ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে দায়সারা গোছের বিবৃতি দেওয়া ছাড়া মোদি সরকার আর কোনও পদক্ষেপই নেয়নি। শুধু তাই নয়, হিন্দুদের ওপরে নির্যাতনে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা। আর তাতেই ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি হিন্দুরা।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা বিভাস গায়েন খানিকটা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বাস করুন, মোদি ক্ষমতায় আসার পর খানিকটা হলেও এদেশের মুসলিম মৌলবাদী ও জঙ্গিরা ভয়ে চুপসে গিয়েছিল। পাকিস্তানের বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের (‌আদৌ হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) খবরের ভয়ে হিন্দুদের গায়ে হাত তুলতে দুই বার ভাবত মৌলবাদীরা। কিন্তু গত ৫ অগস্টের পরে নরেন্দ্র মোদি ‘মৌনিবাবা’ হয়ে থাকায় মৌলবাদীরা নখদাঁত বের করে ঝাঁপাচ্ছে। ভারত কিংবা মোদি যে আমাদের ‘মসিহা’ বা ‘হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পরে এ তেহু স্বর থেকে রক্ষাকর্তা’ নয়, তা চার মাসে বুঝে গিয়েছি।

একই কথা শোনা গিয়েছে বরিশালের বানরীপাড়ার সুভাষ মণ্ডলের গলায়। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির ছবি টাঙিয়েছিলেন তিনি। দুই ছবিই নামিয়ে ফেলেছেন। খানিকটা হতাশ কণ্ঠে সুভাষবাবু বলেই ফেললেন, ‘ইন্দিরা গান্ধি ছিল বাপের বেটি। একাত্তরে হিন্দুদের উপরে নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা দিয়েছিলেন। আজ এ দেশের হিন্দুরা সত্যিই ইন্দিরার অভাব বোধ করছেন। আমরা নিশ্চিত, ম্যাডাম গান্ধি থাকলে মোল্লা ইউনূসের এত সাহস হতো না, হিন্দুদের উপরে নির্যাতন চালানোয় ইন্ধন জোগানোয়।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ