ঘন জঙ্গলের মধ্যেই শুরু কালী সাধনা, এই মায়ের পুজোয় রয়েছে বিশেষ রীতি

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্থানীয়রা বলেন এই গ্রাম মা কালীর আশীর্বাদ ধন্য। তাঁর নামেই গ্রামের নামকরণ ‘কালীকাপুর’(Kalikapur)। যখন এই পুজোর সূচনা হয় তখন আশেপাশে ছিল ঘন জঙ্গল। কানা দামোদর নদী(Damodar River) তখন স্রোতস্বিনী। গ্রামের ঠিক পাশ দিয়েই বইত এই নদী। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানা নদীর অবস্থান বদলেছে। তবে এই গ্রামে কিভাবে শুরু হল মা কালীর আরাধনা সেই কাহিনী আরও চমকপ্রদ। বর্তমানে যেখানে জনবহুল গ্রাম, আগে সেই স্থানে ছিল ঘন কচু বন। সেই সঙ্গে বন্য প্রাণীদের উপদ্রব ছিল সাধারণ ঘটনা। আশেপাশের কেউই এই কচু বনের গাঢ় জঙ্গলে ঢোকার সাহস পেতেন না। জনশ্রুতি থেকে শোনা যায়, এই জঙ্গলের মধ্যে বসবাস করতেন এক কাপালিক। তিনি ছিলেন ঘোর কালীভক্ত। জঙ্গলে একাকী থেকেই তিনি মা কালীর সাধনা করতেন।

সময়টা ছিল বর্ধমান রাজার রাজত্বকাল। কথিত রয়েছে, কাপালিকের অবর্তমানে রাজার আদেশ মতোই মা কালীকে সেবা করার দ্বায়িত্ব পেয়েছিল বর্ধমানের ঘোষ পরিবার। সেই সময় বর্ধমান রাজসভার নবরত্নের একজন ছিলেন তিলক রাম ঘোষ। বর্ধমান থেকে রাজার আদেশ পেয়ে মা কালীর সেবার উদ্দেশ্যে সপরিবারে হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে বসবাসের জন্য চলে আসেন ঘোষ পরিবার। তৎকালীন ঘোষ পরিবার ‘ভাট’ উপাধি পেয়েছিল রাজার কাছে। হাওড়া তথা ভরশুট পরগনায় এই উপাধি ছিল যথেষ্ট সম্মানের। কালক্রমে সেখানে বসতি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

যদিও মায়ের পুজোর স্থানটি ঘন জঙ্গলে অরণ্যাবৃত হওয়ায় সেখান থেকে কিছুটা দূরে বসবাস শুরু করেছিল ঘোষ পরিবার। বর্তমানে সেই স্থান দেবীপুর গ্রাম নামে পরিচিত। কিন্তু পুজোর জন্য জঙ্গলের নির্দিষ্ট স্থানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে যে স্থানে কালী মন্দির রয়েছে তখন সেখানে ঘন জঙ্গল থাকার কারণে পুজো করার জন্য পুরোহিতের সঙ্গে লেঠেল নিয়ে আসা হতো বন্য পশুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। মন্দির সংলগ্ন ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে ঘন জনবসতি। এই কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে ওঠার কারণেই গ্রামের নামকরণ কালীকাপুর।

এই মায়ের পুজোয় লক্ষ্য করা যায় বেশ কিছু বিশেষ রীতি। একদম সূচনা কালে কোনও মূর্তি ছাড়াই ঘট প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর পুজো হতো। সেই ঘট নাকি আজও মন্দিরে রয়েছে বলেই জানান বর্তমান পুরোহিত। একেবারে আদি নিয়ম মেনেই হয় পুজো(Traditional Kali Pujo)। জানা যায়, মন্দিরে কষ্ঠি পাথরের মায়ের যে মূর্তিটি রয়েছে তা প্রায় দু’শো বছর প্রাচীন। একটা সময় অবধি এই মায়ের পুজো ছাড়া অন্য সকল পুজো নিষিদ্ধ ছিল এই গ্রামে। তবে এখন সেই নিয়ম খর্ব হয়েছে। কালীপুজোর সময় জাঁকজমক সহকারে উৎসব পালন করে থাকেন গ্রামবাসীরা। সারা রাত ধরে চলে মায়ের পুজো। দেবীমূর্তি কষ্টি পাথরের হওয়ায় এখানে বির্সজনের কোনও রীতি নেই, তবে বিশেষ বিশেষ তিথিতে মাকে স্নান করানো হয়। এইভাবেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে হাওড়ার কালীকাপুরের কালীপুজো, যা ক্রমেই হয়ে উঠেছে এলাকার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।

পুজোর আগেই বড় উপহার! ১৫ অক্টোবর খুলছে দ্বিতীয় ফরাক্কা সেতু, কমবে যানজট

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানালেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

ইলিশ-চিংড়িকে দেবে টক্কর! বানিয়ে নিন সর্ষে-পোস্তর ‘পনির ভাপা’

প্রয়াত ‘ময়ূরী’-খ্যাত প্রখ্যাত পরিচালক সিঙ্গিথাম শ্রীনিবাস রাও, চোখে জল কমল, রাজামৌলিদের

খেলার মাঝেই নৃত্যগুরু কোহলি! যশস্বী জয়সওয়ালকে দিলেন বিশেষ তালিম, ভাইরাল ভিডিও

পুজোর আগে মুখে ক্লান্তির ছাপ! ‘স্ট্রেসড স্কিন’ থেকে মুক্তি পাবেন কী ভাবে?

ইঞ্জিনিয়ারের সুইসাইড নোটে জ্ঞানেশের নাম, তদন্তের নির্দেশ কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বক্সঅফিসে সুনামি! দুই দিনেই ১৭৭ কোটি টাকা আয় করে ফেলল ‘দৃশ্যম ৩’

J W Marriott-এ ফের মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেফতার ১

রবিতে উপনির্বাচনের আগে শেষ প্রচারে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু, করবেন পদযাত্রা

অলৌকিক! নেপালে দুর্যোগের ৩৭ দিন পর জীবিত ফিরলেন মালয়েশিয়ান পর্যটক

ঘাস কাটার সময়ে ‘পথের কাঁটা’ বৌদিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করল দেওর

‘জিরো জিরো মিলে গেলে জিরোই হয়’, বাম-তৃণমূল সমীকরণে মমতাকে কটাক্ষ দিলীপের

মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজি