চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ঘন জঙ্গলের মধ্যেই শুরু কালী সাধনা, এই মায়ের পুজোয় রয়েছে বিশেষ রীতি

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্থানীয়রা বলেন এই গ্রাম মা কালীর আশীর্বাদ ধন্য। তাঁর নামেই গ্রামের নামকরণ ‘কালীকাপুর’(Kalikapur)। যখন এই পুজোর সূচনা হয় তখন আশেপাশে ছিল ঘন জঙ্গল। কানা দামোদর নদী(Damodar River) তখন স্রোতস্বিনী। গ্রামের ঠিক পাশ দিয়েই বইত এই নদী। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানা নদীর অবস্থান বদলেছে। তবে এই গ্রামে কিভাবে শুরু হল মা কালীর আরাধনা সেই কাহিনী আরও চমকপ্রদ। বর্তমানে যেখানে জনবহুল গ্রাম, আগে সেই স্থানে ছিল ঘন কচু বন। সেই সঙ্গে বন্য প্রাণীদের উপদ্রব ছিল সাধারণ ঘটনা। আশেপাশের কেউই এই কচু বনের গাঢ় জঙ্গলে ঢোকার সাহস পেতেন না। জনশ্রুতি থেকে শোনা যায়, এই জঙ্গলের মধ্যে বসবাস করতেন এক কাপালিক। তিনি ছিলেন ঘোর কালীভক্ত। জঙ্গলে একাকী থেকেই তিনি মা কালীর সাধনা করতেন।

সময়টা ছিল বর্ধমান রাজার রাজত্বকাল। কথিত রয়েছে, কাপালিকের অবর্তমানে রাজার আদেশ মতোই মা কালীকে সেবা করার দ্বায়িত্ব পেয়েছিল বর্ধমানের ঘোষ পরিবার। সেই সময় বর্ধমান রাজসভার নবরত্নের একজন ছিলেন তিলক রাম ঘোষ। বর্ধমান থেকে রাজার আদেশ পেয়ে মা কালীর সেবার উদ্দেশ্যে সপরিবারে হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে বসবাসের জন্য চলে আসেন ঘোষ পরিবার। তৎকালীন ঘোষ পরিবার ‘ভাট’ উপাধি পেয়েছিল রাজার কাছে। হাওড়া তথা ভরশুট পরগনায় এই উপাধি ছিল যথেষ্ট সম্মানের। কালক্রমে সেখানে বসতি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

যদিও মায়ের পুজোর স্থানটি ঘন জঙ্গলে অরণ্যাবৃত হওয়ায় সেখান থেকে কিছুটা দূরে বসবাস শুরু করেছিল ঘোষ পরিবার। বর্তমানে সেই স্থান দেবীপুর গ্রাম নামে পরিচিত। কিন্তু পুজোর জন্য জঙ্গলের নির্দিষ্ট স্থানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে যে স্থানে কালী মন্দির রয়েছে তখন সেখানে ঘন জঙ্গল থাকার কারণে পুজো করার জন্য পুরোহিতের সঙ্গে লেঠেল নিয়ে আসা হতো বন্য পশুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। মন্দির সংলগ্ন ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে ঘন জনবসতি। এই কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে ওঠার কারণেই গ্রামের নামকরণ কালীকাপুর।

এই মায়ের পুজোয় লক্ষ্য করা যায় বেশ কিছু বিশেষ রীতি। একদম সূচনা কালে কোনও মূর্তি ছাড়াই ঘট প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর পুজো হতো। সেই ঘট নাকি আজও মন্দিরে রয়েছে বলেই জানান বর্তমান পুরোহিত। একেবারে আদি নিয়ম মেনেই হয় পুজো(Traditional Kali Pujo)। জানা যায়, মন্দিরে কষ্ঠি পাথরের মায়ের যে মূর্তিটি রয়েছে তা প্রায় দু’শো বছর প্রাচীন। একটা সময় অবধি এই মায়ের পুজো ছাড়া অন্য সকল পুজো নিষিদ্ধ ছিল এই গ্রামে। তবে এখন সেই নিয়ম খর্ব হয়েছে। কালীপুজোর সময় জাঁকজমক সহকারে উৎসব পালন করে থাকেন গ্রামবাসীরা। সারা রাত ধরে চলে মায়ের পুজো। দেবীমূর্তি কষ্টি পাথরের হওয়ায় এখানে বির্সজনের কোনও রীতি নেই, তবে বিশেষ বিশেষ তিথিতে মাকে স্নান করানো হয়। এইভাবেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে হাওড়ার কালীকাপুরের কালীপুজো, যা ক্রমেই হয়ে উঠেছে এলাকার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

অমাবস্যায় সূর্য-চন্দ্র-শনির সংযোগে বদলে যাবে কোণ ৪টি রাশির ভাগ্য?

ডাইনিং টেবিলে কী কী জিনিস রাখলেই বাড়ে ঋণ!জেনে নিন সেইগুলি?

এই গরমে শরীরকে সতেজ ও চাঙ্গা রাখতে খান বিশেষ ভাবে তৈরি এই ফ্রুট রায়তা

গরমে ভিন্ন স্বাদ, বানিয়ে ফেলুন মরলা মাছ দিয়ে কাঁচা আমের ঝোল

অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশে কী কী নিয়ম মানলে মিলবে দীর্ঘস্থায়ী সুখ শান্তি

শুক্রে নতুন ব্যবসায়িক চুক্তির সম্ভাবনা, তবে স্বাস্থ্যে জটিলতা দেখা দেবে, সাবধানে থাকুন…

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ