এই মুহূর্তে

কড়া নিরাপত্তায় বিহারে শুরু ভোট গণনা, ২,৬১৬ প্রার্থীর ভাগ্য ফল জানা যাবে  

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটনা: অপেক্ষার অবসান। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল আটটা থেকে শুরু হল বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। ৩৮ জেলার মোট ৪৬টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে গণনার কাজ। চলতি নির্বাচনে রাজ্যের ২৪৩ আসনে ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছিলেন ২,৬১৬ প্রার্থী। ২৪৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার ছাড়াও কাউন্টিং পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরা রয়েছেন গণনা কেন্দ্রে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গোনা চলছে। পোস্টাল ব্যালট গোনা শেষ হলে শুরু হবে ইভিএমে বন্দি ভোটের গণনা। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন,  সকাল দশটা নাগাদ প্রাথমিক প্রবণতার আভাস মিলবে। অর্থা‍ৎ পাটলিপুত্রের কুর্সি নীতীশ কুমার-বিজেপি জোটের দখলেই থাকবে নাকি তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বাজিমাত করবে তার ইঙ্গিত মিলবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ভোট গণনা নিয়ে যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে তার জন্য বাড়তি সতর্ক নির্বাচন কমিশন। গণনা শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রোহতাস জেলার চেন্নারি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (আরও) ললিতভূষণ রঞ্জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও রোহতাসের অতিরিক্ত জেলাশাসক ললিতভূষণকে কি কারণে সরানো হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ সিংহ গুঞ্জিয়াল জানিয়েছেন, ‘চেন্নারি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন রোহতাসের ভূমি অধিগ্রহণ দফতরের আধিকারিক জাফর হাসান।’

গত ৬ ও ১৪ নভেম্বর দুই দফায় বিহারে বিধানসভা ভোট হয়েছে। প্রথম দফায় অর্থা‍ৎ ৬ নভেম্বর ১২১ আসনে ও ১১ নভেম্বর শেষ দফায় ১২২ আসনে ভোট হয়েছে। দুই দফাতেই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৬৫.০৮ শতাংশ। সেখানে দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছিল ৬৮.১৪ শতাংশ। সার্বিকভাবে ভোট পড়েছিল ৬৭.১৩ শতাংশ। ১৯৫১ সালে আলাদা রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরে এটাই ছিল রেকর্ড সংখ্যক ভোটদান। পুরুষদের চেয়েও মহিলাদের বুথে হাজিরা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটদানের ক্ষেত্রে পুরুষদের টেক্কা দিয়েছেন মেয়েরা।

২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার হল ১২২। যদিও শেষ দফার ভোটের পরে বিভিনন সমীক্ষক সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছে, মহিলা ভোটারদের কল্যাণে ফের ক্ষমতায় ফিরছে এনডিএ জোট। নীতীশ-বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটের উপরেই বিহারবাসী আস্থা রেখেছেন। প্রথমবার ভোটে লড়তে নামা প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি তেমন দাগ কাটতে পারছে না। সর্বোচ্চ পাঁচটি আসন পেতে পারে। তবে ভোট কাটুয়া হিসাবে অবতীর্ণ হয়ে বিজেপি-নীতীশের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন জন সুরাজের প্রার্থীরা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বুথফেরত সমীক্ষায কোন সংস্থা কি আভাস দিয়েছে-

বিজেপি-পন্থী হিসাবে পরিচিত ‘দৈনিক ভাস্কর’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী বিহারে ১৪৫ থেকে ১৬০টি আসন জিতে সরকার গঠন করছে এনডিএ। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ৯১ আসন। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির ঝুলিতে যেতে পারে ০-৩ আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ৫-৭ আসনে।

‘জেভিসি’ নামে অন্য সমীক্ষা সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছে, ১৩৫ থেকে ১৫০ আসনে জয় পেতে চলেছে এনডিএ। উল্টোদিকে মহাজোট পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০৩ আসন। জন সুরাজের ঝুলিতে যেতে পারে মাত্র একটি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৩-৬ আসন।

‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ –এর সমীক্ষা বলছে, এনডিএ জিততে পারে ১৩০ থেকে ১৩৮ আসন। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হতে পারে ১০০ থেকে ১০৮ আসনে। খালি হাতে ফিরবে প্রশান্ত কিশোরের দল। তিন থেকে ৫ আসন জিততে পারে অন্যান্যরা।

‘ম্যাট্রিজ’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ জিততে চলেছে ১৪৭ থেকে ১৬৭ আসনে। মহাজোটের দখলে যেতে পারে ৭০ থেকে ৯০ আসন। প্রশান্ত কিশোরের দল সর্বাধিক পেতে পারে দুটি আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ২-৮ আসনে।

‘পি-মার্ক’ বলছে, ১৪২ থেকে ১৬২টি আসনে জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে এনডিএ। ৮০ থেকে ৯৮ আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তেজস্বী যাদবের মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ জিততে আরে ১-৪ আসনে। নির্দল ও অন্যান্যরা পেতে পারে ০-৩টি আসন।

সমীক্ষক সংস্থা ‘পিপলস ইনসাইট’ তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে ১৩৩ থেকে ১৪৮ আসনে জিতে ফের পাটলিপুত্রের কুর্সিতে ফিরছে নীতীশ কুমারের এনডিএ। ৮৭ থেকে ১০২টি আসন নিয়ে ফের বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চেই বসতে হবে মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ জয়ী হতে পারে ০-২ আসনে। আর নির্দল ও অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ৩-৬টি আসন।

‘পিপলস পালস’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ‘১৩৩ থেকে ১৫৯টি আসন জিততে চলেছে এনডিএ। ৭৫ থেকে ১০১ আসনে জিততে পারে মহাজোট। ০ থেকে ৫টি আসনে জিততে পারে জন সুরাজ। ২ থেকে ৮টি আসনে জিততে পারেন অন্যান্যরা।

যদিও বুথফেরত সমীক্ষার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং বহু ক্ষেত্রেই বুথফেরত সমীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফল মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত বছরের লোকসভা ভোট। যদিও বিজেপি পন্থী গদি মিডিয়ার তরফে প্রত্যেক ভোট শেষেই এনডিএ’র জয়-জয়কার ঘোষণা করা হয় বুথফেরত সমীক্ষায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কয়লা পাচার ও আইপ্যাক তদন্তে বিশেষ দল গঠনের ভাবনা ইডির

আবাসন লক্ষ্য করে গুলি নাকি অন্য কিছু? পুলিশের জালে অভিনেতা কমল আর খান

খুন হননি! বেলডাঙার সেই পরিযায়ী শ্রমিকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আনল ঝাড়খণ্ড পুলিশ

মদ্যপ স্বামীকে খাটে বেঁধে চরম মারধর, অবৈধ পিস্তল দিয়ে হত্যার হুমকি স্ত্রীর

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা আইপ্যাক কর্তার, ফোন দেখার অনুমতি পেল ইডি

মানালিতে বরফ বৃষ্টির মধ্যেই বিকিনি পড়ে উদ্দাম নাচ মহিলার, দেখুন ভিডিও

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ