এই মুহূর্তে

‘বহু কালনেমি সনাতন ধর্মকে দুর্বল করছে’, ছদ্মবেশী ধর্মগুরুদের মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি যোগী আদিত্যনাথের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘বহু কালনেমি সনাতন ধর্মকে দূর্বল করছে’, ছদ্মবেশী ধর্মগুরুদের মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। সম্প্রতি প্রয়াগরাজ মাঘ মেলায় ধর্মগুরুদের নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ অভিযোগ করেছিলেন, মৌনি অমাবস্যায় তাঁর শিষ্যদের উপর হামলা করেছে যোগীর পুলিশ প্রশাসন। সেই কারণে তিনি মাঘ মেলায় স্নান প্রত্যাহার করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ তাঁর শিষ্যদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। তাঁদের মারধর করেছে। সনাতন ধর্মের এমন অনাচার তিনি সহ্য করবেন না। এমন বিতর্কের মধ্যে এবার ধর্ম, জাতি এবং সনাতন ধর্ম নিয়ে তীক্ষ্ণ এবং স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি শঙ্করাচার্যের বিরোধীতা এবং কারও নাম না করেই জানালেন, ‘আজ ধর্মের আড়ালে সনাতন ধর্মকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাজকে এই ধরণের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। এই ধরণের উপাদানগুলিকে ‘কালানেমি’ বলা হয়। এই কালনেমি ব্যক্তিরা বাইরে থেকে এসে নিজেদের ধর্মীয় বলে দাবি করছেন। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তাঁরা ধর্মবিরোধী এজেন্ডা অনুসরণ করছে। ধর্মের আড়ালে সনাতন ধর্মকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাঁরা। এই সব মানুষজনের থেকে দূরে থাকুন।’

এবার ছদ্মবেশী ধর্মগুরুদের মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগী বলেন, ‘একজন যোগী, সাধু বা সন্ন্যাসীর কাছে ধর্ম এবং জাতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। একজন সন্ন্যাসীর কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই। তাঁর আসল সম্পদ হল ধর্ম, এবং জাতি হল তাঁর আত্মসম্মান। তাই কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করলে, সে যেই হোক না কেন, তাঁকে চিরন্তন ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।’ তবে যোগী তাঁর বক্তব্যে ‘কালানেমি’ শব্দটি ব্যবহার করে কী বোঝাতে চাইলেন? ‘কালনেমি’ শব্দটির গভীর অর্থ রয়েছে। রামায়ণে কালনেমির ছিলেন একজন অধরা রাক্ষস। যিনি ঋষির ছদ্মবেশে হনুমানকে প্রতারিত করার ছাতা করেছিলেন। বাহ্যিকভাবে, তিনি ছিলেন ধার্মিক এবং তপস্বী। কিন্তু তাঁর অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য ছিল, ভগবান রামের কাজে বাধা দেওয়া। অবশেষে, হনুমান তাঁর প্রতারণা বুঝতে পেরে তাকে হত্যা করে।

তেমনই যোগী আদিত্যনাথ ধর্মগুরুদের তোপ দেগে বলেছেন, আসলে শঙ্করাচার্যরা ধর্মের নামে অনাচার করছে। তাঁদের সনাতন ধর্মকে বিনাশ করার অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। মৌনী অমাবস্যায় শঙ্করাচার্যকে তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে রথে করে মন্দিরে যেতে বাধা দেওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তারই পরোক্ষভাবে উত্তর দিলেন যোগী। যদিও মুখ্যমন্ত্রী কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর কথা বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সিএম যোগী আরও বলেছেন যে, ধর্ম কেবল চেহারা বা কথায় নয়, আচরণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তাই ধর্মের নামে বিভ্রান্তি এবং ভণ্ডামি থেকে সমাজকে দূরে থাকো। সনাতন ধর্ম সর্বদা সত্য, সংযম এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং এই পথ অনুসরণ করাই এর প্রকৃত সেবা।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

প্রতিবন্ধী কোটায় ডাক্তারি পড়তে পায়ের আঙুল কেটেছিলেন যুবক, বান্ধবী ফাঁস করলেন রহস্য

রাতারাতি চুরি আস্ত সেতু, হাড় হিম কাণ্ড ঘটল কোথায়?

জনগণনা ২০২৬- প্রথম ধাপে কী কী প্রশ্ন করা হতে পারে? রইল তালিকা

ওড়িশার ঢেঙ্কানলে খ্রিস্টান যাজককে জুতোর মালা পরিয়ে, গোবর জল খাওয়াল বজরং দলের কর্মীরা

১৯৮৪ সালের শিখ–বিরোধী দাঙ্গা মামলা: সজ্জন কুমারকে বেকসুর খালাস করল দিল্লি আদালত

হাতের মেহেন্দি এখনও ওঠেনি, স্ত্রীকে গুলি করে আত্মঘাতী গুজরাতের আমলা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ