এই মুহূর্তে




‘মা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, যদি…’, আত্মহত্যার আগে ভিডিওতে মর্মস্পর্শী বার্তা BLO-র

নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের চাপ নিতে না পেরে উত্তরপ্রদেশে আরও এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মোরাদাবাদের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী সর্বেশ কুমারের জীবনের শেষ মুহুর্তের এক মর্মস্পর্শী ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ওই ভিডিওতে মায়ের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘মা, আমি বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। এসআইআরের কাজের চাপে গত ২০ দিন দু’চোখের পাতা এক করতে পারি নি। আরও কিছুটা বাড়তি সময় পেলে হয়তো সব কাজ শেষ করতে পারতাম। আমার ছোট চার সন্তানের দিকে নজর রেখো।’ পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য দূরে চলে যাওয়ার জন্য পরিজনেদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন সর্বেশ।  

মোরাদাবাদের এক সরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক সর্বেশ কুমার গত ৭ অক্টোবর বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গতকাল রবিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরে নিজের বাড়ির শোওয়ার ঘর থেকেই তাঁর নিথর দেহ  উদ্ধার হয়। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে রেখে গিয়েছেন সর্বেশ। তাতে তিনি জানিয়েছেন, ‘বিএলও হিসাবে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কাজের চাপ নিতে পারছেন না। আরও বেশ কয়েকজন বাড়তি সময় পেলে পুরোপুরি দায়িত্ব পালন করতে পারতেন।’ উল্লেখ্য, সর্বেশের আত্মহত্যার কয়েক ঘন্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কাজের সময় সাত দিনের জন্য বাড়িয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

আত্মহত্যার কয়েক ঘন্টা বাদে সর্বেশের এক ভিডিও-বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে হাউমাউ করে কাঁদতে-কাঁদতে সর্বেশকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘দিদি, আমাকে ক্ষমা করো। মা, দয়া করে আমার সন্তানদের দেখাশোনা করো। আমি এই নির্বাচনী কাজে ব্যর্থ হয়েছি। আমি একটা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি এবং তার জন্য শুধু  আমিই দায়ী। কারও কোনও দোষ নেই। আমি খুব খারাপ। আমি ২০ দিন ধরে ঘুমোতে পারিনি। যদি আমার সময় থাকত, তাহলে আমি এই কাজ শেষ করে ফেলতাম। আমার চারটি ছোট মেয়ে আছে। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমাদের পৃথিবী থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি।’এসআইআরের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পৈশাচিক চাপ যে তাঁকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে, তাও বলতে শোনা গিয়েছে সর্বেশ। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলসম। কিন্তু এসআইআরের অত্যধিক চাপ আমায় বাঁচতে দিল না।’

ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দূর করার বাহানায় পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ রাজ্যে SIR শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ওই কাজ শুরুর পরে অত্যধিক চাপ নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন একের পর এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে, উল্টে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও রয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ভারতীয় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে রুখতে মোদির কাছে ন্যায়বিচার ভিক্ষা চাইলেন পাকিস্তানি মহিলা

যাত্রী ভোগান্তির জের, কেন্দ্রের নির্দেশে চাকরি যাচ্ছে ইন্ডিগোর সিইও’র?

‘হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না’, ইঙ্গিত দিলেন জয়শঙ্কর

‘বাতিল বিমানের যাত্রীদের টিকিটের দাম ফেরত দিন’, ইন্ডিগোকে কড়া হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

জোটে সরকার চালালেও রাহুলের সঙ্গে ভিন্নমত ওমরের

‘সমস্ত পরিকল্পনা জলাঞ্জলি’, ইন্ডিগো বিভ্রাটে চোখে জল যাত্রীদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ