কেন কামাখ্যাকে কামরূপ কামাখ্যা বলা হয় ? জেনে নিন এই পৌরাণিক ইতিহাস 

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : পরমাপ্রকৃতি পরমেশ্বরী সতী দক্ষযজ্ঞে আত্মবিসর্জনের পর দেবাদিদেব মহাদেব অত্যন্ত শোকাতুর অবস্থায় কৈলাশের নিকটস্থ  একটি গুহায় গিয়ে গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়েছিলেন। ততদিনে আবার দেবী সতী পার্বতী রূপে মহারাজা হিমালয় ও মেনকার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন। বছরের পর বছর কেটে যুগ অতিক্রান্ত। মহেশ্বর তখনও ধ্যানে নিমগ্ন। দেবতারা তখন অনেক চেষ্টা করেও মহাদেবের ধ্যানভঙ্গ করতে না পেরে প্রেমের দেবতা কামদেবকে দেবাদিদেবের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অতঃপর কামদেব হিমালয়ে উপস্থিত হয়ে ধ্যান ভাঙাতে শিবের  বুকে কাম বাণ নিক্ষেপ করলে ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব তাঁর তৃতীয় নেত্র দিয়ে কামদেবকে ভস্মে পরিণত করেছিলেন।

কামদেবের মৃত্যুর খবরে তাঁর স্ত্রী আকাঙ্ক্ষা এবং যৌন পরিতৃপ্তির দেবী রতি অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্থ ও মানসিকভাবে আহত হয়েছিলেন। তিনি মহাদেবের কাছে করুণ নিবেদন করেন এবং তাঁর স্বামীকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দেবাদিদেব তখন বলেছিলেন, “আমার ও পার্বতীর বিবাহের পর কামদেব পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবেন। কামদেবের খুব শিগগিরই পুনর্জন্ম হবে।” এরপর দেখতে দেখতে মহাদেবের কৃপায় রতি তাঁর স্বামীকে ফিরে পেলেও পুনঃজন্মপ্রাপ্ত কামদেবের রূপে অদ্ভুত বিপর্যয় দেখা গেল। কামদেবের সেই কাম স্বরূপ-কান্তি নেই। কারণ, তিনি তখন থেকে শরীরহীন বা অনঙ্গ (নির্গুণ) হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কেবল মানুষের অন্তরে অনুভূতির মাধ্যমে প্রেম ও আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারতেন, তিনি অদৃশ্য।

রতি ও কামদেবের আকুল আর্তিতে স্বয়ং মহাদেব জানান, ভারতবর্ষের ঈশাণ কোনে এক পর্বত রয়েছে। সেখানে সতীদেহের একান্নটা খণ্ডের এখনও একটা খণ্ড অনাবিষ্কৃত রয়েছে। সেটি মহামায়ার মহামুদ্রা। সেখানে গিয়ে দেবীর মহিমা প্রচার করলে এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করলে কামদেব তাঁর আগের রূপ পুনরায় ফিরে পাবেন। কামদেব নীলাচলে এসে মহামায়ার সেই মহামুদ্রা তথা যোনি প্রস্তরখণ্ড রূপে খুঁজে পেলেন এবং ভক্তি সহকারে পূজা পাঠ করলেন। মহামায়া কামদেব এবং রতির প্রার্থনায় তুষ্ট হয়ে তাঁকে তাঁর আগের রূপ প্রদান করলেন।

অতঃপর কামদেব তাঁর স্বীয় রূপ ফিরে পেয়ে বিশ্বকর্মার শরণাপন্ন হলেন। কামদেবের ইচ্ছায় বিশ্বকর্মা মহামায়ার জন্য কামাখ্যা মন্দির নির্মান করলেন। এছাড়াও  বিশ্বকর্মা মন্দিরের গায়ে চৌষট্টিটি যোগিনী, আর আঠারোটি ভৈরব-মূর্তি খোদাই করলেন। এই শক্তিপীঠে কামদেব নিজ রূপ ফিরে পাওয়ায় তাঁর নিজের নাম ও দেবী কামাখ্যার নাম মিলিত করে কামরূপ কামাখ্যা নাম রাখেন। তখন থেকেই এই নামে পরিচিতি পায় এই মহা শক্তিপীঠ। কথিত আছে যে সকল সাধক এই মন্দিরে কামাখ্যা দেবীর সাধন ও ভজন করেন তাঁরা জগতের তিনটি ঋণ তথা পিতৃঋণ, ঋষিঋণ এবং দেবীঋণ থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই শক্তিপীঠটি একান্নটি শক্তিপীঠের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী পীঠ হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে, প্রতি বছর অম্বুবাচীর সময় দেবী সতীর যোনি রক্তে ব্রহ্মপুত্রের জল লাল হয়ে যায় ও এই অনুষ্ঠানের তিন দিন এই মন্দির চত্বরে বিরাট মেলার আয়োজন হয়, যা অম্বুবাচী মেলা নাম পরিচিত।

বাড়িতে শ্মশান সামগ্রী রেখে বিজেপি নেত্রীকে খুনের হুমকি, উত্তপ্ত টাকি

বাংলার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নিউ টাউনের রামমন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজা

তৃণমূল থেকে সুবিধা পাওয়ার দিন শেষ, ইস্তফা দিলেন সন্তোষ কন্যা সুস্মিতা

কোহলির পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হার্দিক

বিশ্বের প্রায় ৫০০-৬৫০ জন মহিলার শয্যাসঙ্গী হয়েছেন, চেনেন বেপরোয়া সেই ক্রিকেটারকে?

তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সজল দাস

আলিপুরে সরকারি অফিসে বিধ্বংসী আগুন

আফগানিস্তানে নৃশংস হামলা পাক সেনার, নিহত ১১ নিরীহ শিশুসহ ১৩

নেহেরুকে ছাপিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেই গ্রেফতার অভিষেক! সিআইডির তৎপরতায় জল্পনা তুঙ্গে

পৃথিবীর প্রাচীনতম ফল কোনটি জানেন? শরীরের জন্যও বিশেষ উপকারী

২০ হাজার টাকার কমে নতুন স্মার্টফোন! জুলাইতেই আসছে OnePlus Nord CE 6