গৃহিনীদের কাজের মাসিক পারিশ্রমিক ৩০ হাজার ধরা উচিত, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেন গৃহিনীরা। তাঁদের সেই অবদান জাতি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য গৃহিণীরা ‘জাতি-নির্মাতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি এ জি মাসিহের বেঞ্চ। সেই সঙ্গে এক যুগান্তকারী রায়ে বিচারপতিরা এও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পথ দুর্ঘটনায় কোনও গৃহিনীর মৃত্যু ঘটলে, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবৈতনিক কাজের আর্থিক মূল্য প্রতি মাসে ন্যূনতম ৩০,০০০ টাকা হিসেবে ধরতে হবে।’

২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ২৫ নভেম্বরে পঞ্জাবে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক মহিলা। তাঁর মৃত্যুর পর, মহিলার স্বামী ও তিন সন্তান ‘মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল’-এ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁদের মাত্র ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ওই সামান্য ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি হননি মহিলার স্বামী ও সন্তানরা। ‘মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল’-এর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮.৪৩ লক্ষ টাকা করে। সেই সঙ্গে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে দাবিদাররা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।

পথ দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতিরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এই ধরনের সংবেদনশীল মামলার সুরাহা এক বছরের মধ্যে হওয়া উচিত।’ দেশের সব হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের ‘মোটরযান আইন’ (Motor Vehicles Act) সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতির বিষয়টি তদারকি করার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তাঁরা যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করেন, যাতে ‘দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা’ মামলাগুলিকে উপযুক্ত বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ ‘দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা’ বলতে মূলত চার বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলাগুলিকে বুঝিয়েছেন তাঁরা।  ঘর-সংসার সামলানো মহিলারা যে আপাংক্তেয় নন, তা বোঝাতে গিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘মহিলারা যখন মজুরির বিনিময়ে (কারখানাই হোক কিংবা বাড়ি) কোনও সেবা প্রদান করেন, তখন তা জাতীয় লভ্যাংশের অন্তর্ভুক্ত হয়।  কিন্তু মা বা স্ত্রী হিসেবে তাঁরা যখন নিজেদের পরিবারের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দেন, তখন তা-এর অন্তর্ভুক্ত হয় না। ফলে, কোনও ব্যক্তি যদি তাঁর গৃহপরিচারিকা বা রাঁধুনিকে বিয়ে করেন, তবে জাতীয় লভ্যাংশ কমে যায়।’ ভারতীয় সমাজে মহিলাদের অবদানের বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে রায়ে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘সমাজে নারীদের অবদান শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং ‘মানবসম্পদ’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁরা প্রধান ভূমিকা পালন করেন—যার উপর ভিত্তি করেই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠার মতো স্বপ্ন ও অন্যান্য লক্ষ্য বাস্তবায়নের বিষয়টি দাঁড়িয়ে আছে। সোজা কথায় বলতে গেলে, ‘গৃহিণীরাই’ আসলে ‘জাতি-নির্মাতা’ এবং তাঁদের সেই হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

‘বিদ্রোহী শিবিরে নয়, মমতার পাশেই আছি,’ ডিগবাজি খেয়ে জানালেন শত্রুঘ্ন

ভারতীয় দলে জায়গা পেলেন রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে, কোথায় খেলবেন?

সব্জি বাজারে তোলাবাজি, গ্রেফতার আরও এক তৃণমূল নেতা

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি সেনার, প্রাণ গেল ১৬ জনের

‘নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে’, জানিয়ে দিলেন স্পিকার

‘সোশ্যাল মিডিয়া মানহানির জায়গা নয়’, সলমনের প্রতিবেশীকে তুলোধনা হাইকোর্টের

গেঞ্জি-হাফ প্যান্ট পরিয়ে ফলতার পুষ্পা জাহাঙ্গির খানকে হাঁটাল পুলিশ

‘কৌতুকশিল্পীদের অসম্মান করা বন্ধ করুন’, ‘৩৭০ টাকা বিরিয়ানি’-বিতর্কে প্রণীতের পাশে রণবীর

সুপ্রিম ধাক্কা জ্যাকলিনের, ২০০ কোটির জালিয়াত মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

তৃণমূলে আরও এক উইকেটের পতন, মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে প্রসূন

‘অভিষেকের জন্যই দল শেষ হয়েছে,’ এবার বেসুরো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মীর দেহ, ব্যাপক চাঞ্চল্য হাওড়ায়

৬২ বছরে প্রথম, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে চলেছেন ভারতে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটার

সন্দেশখালিতে ফের উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র, বেঙ্গল STF- এর অভিযানে মিলল কী কী?