এই মুহূর্তে




‘বাড়ি যেতে চাই’, পড়াশোনার চাপে শৈশব হারিয়ে কাঁদছে শিশুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: শৈশব তুমি কার? বিদ্যালয়ের নাকি খেলার? যে বয়সে শিশুদের খেলে বেড়ানোর বয়স সেই বসেই তাঁদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্কুলের ভারী ব্যাগের বোঝা। তারা স্কুলের মানেই ঠিক করে জানে না অথচ পড়ে গিয়েছে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে ২ থেকে ৩ বছর বয়সী ছোট স্কুলছাত্রদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা সকলেই চোখে জল এনে দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একরত্তি স্কুল ছাত্ররা একটি জানালার ভিতরে দাঁড়িয়ে কাতর ভাবে বলছে বাড়ি যাওয়ার কথা। প্রাথমিক শিক্ষার নামে শিশুদের উপর পড়াশোনার ভার চাপিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দুটি শিশু শ্রেণীকক্ষের জানালার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে এবং ছোট আঙ্গুলগুলি দিয়ে লোহার রডের চারপাশ আঁকড়ে ধরে রয়েছে  ও তাদের গাল বেয়ে বেদনার অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওতে শোনা গিয়েছে একটি শিশু হৃদয়বিদারকভাবে ফিসফিসিয়ে বলছে, “আমার মাকে ডাকো… আমার মায়ের নাম মা” অন্য আরেক শিশুকে দেখা গিয়েছে চুপচাপ দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সেই সঙ্গেও চার দেওয়ালের বাইরের বেরানোর আশা এবং ভয়ে নিয়ে বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। সমস্ত প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে, একদল শিশু তাদের শিক্ষককে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলছে যাতে তারা মায়ের কাছে যেতে পারে। তাদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে অসহায়তা। ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে সুরজ কুমার বৌদ্ধ শেয়ার করেছেন এবং তিনি লিখেছেন, “শৈশবের মিষ্টিতা ভারাক্রান্ত! স্কুলের শিশুরা তাদের শিক্ষিকা ম্যাডামকে অনুরোধ করছে যেন তারা তাদের মায়ের কোলে শুয়ে দুধ পান করতে চায় বলে তাদের বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়। LKG-র ২-৩ বছর বয়সী শিশুদের স্কুলে পাঠানোর শিক্ষা নয়। এটি শৈশবের নিষ্পাপ সময়কে চুরি।”

ভাইরাল এই ভিডিওটি দেখা যাওয়া দুই বা তিন বছরের শিশুদের কি LKG-র মতো স্কুল পরিবেশে রাখা উচিত? তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সেই সঙ্গেই অনেকে শৈশবের গুরুত্বকেও তুলে ধরেছেন । বলেছেন এই সময় শিশুদের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া মানে তা অপুরণীয় ক্ষতি। ২ থেকে ৩ বছরের শিশুদের যে মানসিক নিরাপত্তা, মায়ের আলিঙ্গনের উষ্ণতা প্রয়োজন তা দেওয়া প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত। ভিডিও দেখে বহু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বলেছেন, শিশুদের কাছে এমন সময় মানসিক ভাবে বেড়ে ওঠার উপযুক্ত  তা একবার হারিয়ে গেলে তা কখনই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই অনেকেই বলছেন শিশুদের এমন সময় স্কুলের চার দেওয়ালে বন্দি রেখে নষ্ট করে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “দুঃখজনক বাস্তবতা হল, এই বয়সে শিশুদের নার্সারি স্কুলে পাঠানো বেদনাদায়ক, তাদের সত্যিই এই সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে থাকা দরকার।” অন্য একজন বলেছেন, “এটা খুবই হৃদয়বিদারক।”

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

না ফেরার দেশে রাম মন্দির আন্দোলনের পুরোধা রামবিলাস দাস, বয়স হয়েছিল ৭৫

‘সুস্থ থাকুক মেসির ফুসফুস’, দিল্লির বাতাসে বিষ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ চিকিৎসকের

সপ্তাহের শুরুতেই চমক! এক লাফে ৩,০০০ টাকা বাড়ল রূপোর দাম, গগনচুম্বী সোনাও

ওয়াংখেড়েতে মেসিকে ভারতীয় দলের জার্সি উপহার শচিনের

নাড্ডার জায়গায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নীতিন নবীন, কে তিনি?

আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠন FIA-র সভাপতি পদে নির্বাচিত শ্রীকান্ত আকাপাল্লি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ