এই মুহূর্তে

জীবন্ত মানুষের মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে এই পরজীবী, মেক্সিকোতে প্রকাশ্যে ৫০৮৬টি কেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেক্সিকোতে মাংস ভক্ষণকারী স্ক্রুওয়ার্মের ঘটনা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি প্রাণী এবং মানুষ উভয়ের জন্যই মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ১৭ অগস্ট পর্যন্ত, মেক্সিকোতে প্রাণীদের মধ্যে ৫,০৮৬টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। জুলাইয়ের তুলনায় এই পরিসংখ্যান ৫৩% বেশি। এর মধ্যে ৬৪৯টি মামলা এখনও সক্রিয়। এই তথ্য মেক্সিকান সরকারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আগে প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এইভাবে বৃদ্ধি হলে তা যথেষ্ট চিন্তার বিশয়। মনে হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরুর মধ্যে এই রোগ দেখা গিয়েছে। তবে কুকুর, ঘোড়া এবং ভেড়ার মধ্যেও সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এই প্রাদুর্ভাব মধ্য আমেরিকা থেকে উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে মার্কিন সীমান্তের কাছাকাছিতে এসে পৌঁছেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক স্ক্রুওয়ার্ম কী? এটি কীভাবে ছড়ায়? এর প্রভাব কী?

স্ক্রুওয়ার্ম হল একটি পরজীবী, যা বৈজ্ঞানিকভাবে নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে পরিচিত। এটি উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের (যেমন গরু, ভেড়া, কুকুর, ঘোড়া এবং মানুষের) ক্ষতস্থানে শত শত ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। এরপরই এরা জীবিট প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এই লার্ভা মাংস খেতে থাকে। ফলে ক্ষতটি বড় হয়ে যায়। চিকিৎসা না করা হলে, প্রাণীর মৃত্যুও হতে পারে। লার্ভাগুলিকে স্ক্রুওয়ার্ম বলা হয় কারণ এরা মাংসের মধ্যে প্রবেশ করার সময় স্ক্রুর মতো দেখতে লাগে।

স্ত্রী মাছি ক্ষতস্থান, নাক, চোখ বা মুখের কাছে ডিম পাড়ে। উষ্ণ আবহাওয়ায় এগুলি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালে মধ্য আমেরিকা (পানামা, কোস্টারিকা, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ইত্যাদি) থেকে শুরু করে এটি মেক্সিকোতে পৌঁছেছিল । এখন ক্রমে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর চিকিৎসা হল ক্ষত পরিষ্কার করা, লার্ভা অপসারণ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া প্রয়োজন। যদি বিলম্ব হয়, তাহলে সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে ওঠে।

মেক্সিকান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু আগস্ট মাসে তা ৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছিল। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫,০৮৬, যার মধ্যে ৬৪৯ জন সক্রিয়। বেশিরভাগ আক্রান্তের ঘটনা দক্ষিণ মেক্সিকান রাজ্য চিয়াপাসে। সেখানের ৪১ জন এই পরজীবীতে আক্রান্ত।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মেক্সিকোর ১.৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে মূলত গবাদি পশু রফতানি বন্ধ থাকার কারণে। স্ক্রুওয়ার্মের প্রভাব ধ্বংসাত্মক। এটি গবাদি পশু এবং বন্যপ্রাণীকে ধ্বংস করে। এই রোগের বিস্তার রোধ করতে প্রতি সপ্তাহে ৫০ কোটি জীবাণুমুক্ত মাছি প্রয়োজন। মেক্সিকোতে স্ক্রুওয়ার্মের ক্ষেত্রে ৫৩% বৃদ্ধি একটি সতর্কতা। জীবন্ত প্রাণী খেয়ে ফেলা এই পরজীবীটি মার্কিন সীমান্ত অতিক্রম করছে, যার ফলে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। তাপের ফলে এর বিস্তার ত্বরান্বিত হচ্ছে। তবে জীবাণুমুক্ত মাছি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এটি বন্ধ করতে পারে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

রক্ত বন্ধ করতে মাথায় সেলাইয়ের পরিবর্তে স্ট্যাপলার পিন! চিকিৎসকের কীর্তি নিয়ে শোরগোল

হোমওয়ার্ক পরে, নাচ আগে! অচেনা বিয়ের অনুষ্ঠানে স্কুলছাত্রের কীর্তি ভাইরাল

ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ভিসা দিল না ব্রাজিল

ইরানের পাশে দাঁড়াল চিন, বড় পদক্ষেপ বেজিংয়ের

১১ লাখ ফলোয়ার্স! বিশেষ এই কাজের মাধ্যমে গিনেস বুকে নাম তুলল শূকর মেরলিন

বাগদাদের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ