এই মুহূর্তে

‘ইরানের বিক্ষোভকারীদের ইন্ধন জোগালে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে’, ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি খামেইনি ঘনিষ্ঠের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের সন্মুখসমরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ‘মোল্লা’  সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে মার্কিন সেনারা তাঁদের  ‘উদ্ধারে’ ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে জানিয়ে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সাহায্যের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে। আর ওই হুমকির পরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনির ঘনিষ্ঠ আলি লারিজানি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জনপ্রিয় মাইক্রো ব্লগিং সাইটে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সুপ্রিম সিকিওরিটি কাউন্সিলের সচিব লারিজানি লিখেছেন, ‘ইজরায়েল ও আমেরিকার শীর্ষ নেতাদের উউস্কানিমূলক মন্তব্যেই স্পষ্ট ইরানের চলতি আন্দোলনের পিছনে দুই দেশের হাত রয়েছে। ট্রাম্পের বোঝা উচিত ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযথা নাক গলানো পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে। তাতে আমেরিকারই ক্ষতি হবে। মার্কিন সেনাদের যদি কোনও ক্ষতি না চান, তাহলে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করুন।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার জেরে গত কয়েক মাস ধরেই প্রচণ্ড চাপে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। তার জেরে হুড়মুড়িয়ে পড়ছে রিয়ালের দাম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। গত সপ্তাহেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লা আলি খামেইনি-সহ মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ আধিকারিকদের ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়ে চলছে। গত মঙ্গলবারই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেন।

সরকার বিরোধী আগুনে পুড়ছে গোটা ইরান। আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লোরেস্তান প্রদেশের একটি পুলিশ সদর দফতরে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। ওই হামলায় অন্তত ৩ বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে কয়েকটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান প্রদেশেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস দাবি করেছে,  কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধা সামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে এক পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং তাদের হত্যা করা ইরানের পুরোনো অভ্যাস। যদি তারা আবারও এমনটি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যে কোনও পদক্ষেপ নিতে তৈরি আছি।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বিমানে পাশের আসনে বসা মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার ভারতীয়

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ মিথ্যে, ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি চিনের

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ভারত-সহ বিশ্বের ৫০ কোটি শিশুর ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা

মার্কিন নৌবাহিনীর কড়াকড়িতে হরমুজের দিকে ফিরল নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকার

যুদ্ধ শেষের পথে, তবু ইরানকে চাপের মুখে রাখতে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

‘বাঁচতে হলে হরমুজ অবরোধের সিদ্ধান্ত থেকে সরুন’, ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ