এই মুহূর্তে

দক্ষিণেশ্বরের এই মন্দিরে প্রতিদিন দেবীকে সাড়ে বাইশ সের চালের ভোগ নিবেদন করা হয়

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদ্যাপীঠ, দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণির স্মৃতিবিজড়িত ভবতারিণীর পরেই এই দেবীকে নিয়েও রয়েছে নানা কথা। কালীক্ষেত্র কলকাতার প্রসিদ্ধ কালীমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম হল আদ্যাপীঠ। দেবী আদ্যার এই পীঠস্থান দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির কিছু দূরেই অবস্থিত।

আদ্যা; আদিভূতা, আদিতে জন্ম হয়েছে এমন, শক্তির দেবী। দশমহাবিদ্যার পৌরাণিক অনুষঙ্গে আদ্যার কথা অনেকক্ষেত্রে না বলা হলেও আদ্যাও কালীর এক রূপ। যাঁকেও শিবের ঘরণী হিসেবেই অভিহিত করা হয়। মর্ত্যে আদ্যা বা আদ্যাশক্তির আরাধনায় জড়িয়ে রয়েছে অন্নদা ঠাকুরের নাম। যাঁকে ঘিরে রয়েছে রহস্যের ঘনঘটা। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অন্নদা ঠাকুর। তিনি আসলে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা। সেখানেই জন্ম তাঁর। আসল নাম অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য।

কথিত আছে, শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শে চলার পর একদিন শ্রী শ্রী ঠাকুর অন্নদাকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ স্বপ্নাদেশে তাঁকে ইডেন গার্ডেনসে গিয়ে ঝিলের ধারে নারকেল এবং পাকুড় গাছের মাঝখান থেকে একটি কালীমূর্তি উদ্ধার করে আনতে বলেছিলেন। অন্নদাচরণ তারপর ওই জায়গায় গিয়ে দেখেন সত্যিই একটি ১৮ ইঞ্চির কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি সেখানে রয়েছে। তিনি মূর্তিটি উদ্ধার করে আনেন। দিনটি ছিল রামনবমী। রাতে দেবী আদ্যাশক্তি অন্নদাকে দেখা দিয়ে পরের দিন অর্থাৎ দশমীতে সেই মূর্তিটি মাঝ গঙ্গায় বিসর্জন দিতে আদেশ দেন। এরপরে দেবীর কথা মতো দেবী মূর্তিটি দশমীর দিন গঙ্গায় বিসর্জন দেন তিনি। সেই মূর্তির একটি ছবিও তুলে রাখেন অন্নদা। যেই ছবির আদলে বর্তমানের আদ্যা মূর্তি তৈরি করা হয়।

আদ্যার মূর্তির অবস্থানে রয়েছে বিশেষত্ব। মন্দিরের ওঙ্কারের মধ্যে রয়েছে আদ্যার মূর্তি। মূর্তির মাথার উপরে রাখা হয় রাধাকৃষ্ণের ছবি বা মূর্তি। পায়ের কাছে থাকেন রামকৃষ্ণদেব। কিন্তু রাধাকৃষ্ণ এবং রামকৃষ্ণের প্রাধান্য বেশি এখানে। বেদিতে লেখা থাকে জ্ঞান, কর্ম এবং রামকৃষ্ণের মূর্তির নিচে লেখা থাকে গুরু। আদ্যার গায়ের বর্ণ কালো হলেও তাঁর সাজে থাকে অভিনবত্ব। নবদ্বীপের আগম্বেশ্বরী দেবীর মুকুটের মতো তাঁর মুকুট। যেখানে বিভেদ নেই শাক্ত এবং বৈষ্ণবের। এখানে দেবী আড়ম্বরহীন। আদ্যাপীঠের ভোগ রান্নায় রয়েছে আলাদা আলাদা নিয়ম। এই মন্দিরে আদ্যার পাশাপাশিই রোজ ভোগ রান্না হয় শ্রীরামকৃষ্ণের জন্য, রাধাকৃষ্ণের জন্যও। আদ্যার ভোগের জন্য সাড়ে বাইশ সের চাল নেওয়া হয় নিয়মিত। আর রাধাকৃষ্ণের জন্য থাকে সাড়ে বত্রিশ সের চালের ভোগ রান্নার ব্যবস্থা। রামকৃষ্ণদেবের ভোগ হয় সাড়ে বারো সের চালে। পঞ্চব্যঞ্জনে নিবেদন হয় তাঁদের ভোগ। থাকে পরমান্ন বা পায়েস। অন্নদা ঠাকুরের নির্দেশে এখানে বড় বা মূল মন্দিরে সব ভোগ যায় না। শুধু পরমান্ন নিবেদন করা হয় দেবীকে। বাকি ভোগ নিবেদন হয় পাশের ভোগালয়ে। ভক্তদের জন্যও এখানে রোজ ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

সাতসকালে কলকাতার পাঁচ জায়গায় সিবিআই তল্লাশি, ইডির পর সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের সংগঠন থেকে ছেঁটে ফেলায় খুশি আদি নেতারা, নির্বাচনের আগে আদি–নব্য কোন্দল চরমে

শীতের বিদায় কবে? কী বলছে আবহাওয়া দফতর?

রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে টানা এক ঘন্টা কাটালেন অভিষেক, কী খেলেন সেখানে….

যতদূর বাংলা ভাষা: দেশ বিদেশের দুই হাজার কবি সাহিত্যিকের মিলন উৎসব

আরজি কর আন্দোলনের প্রধান মুখকে সংগঠন থেকে তাড়াল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ