দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Grishneshwar Jyotirlinga: এই জাগ্রত জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনে পাপ খণ্ডন হয়

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবতাদের আদি দেবতা মহাদেব এবং তিনিই সকল দেব-দেবীদের দেবতা। তিনিই সৃষ্টি , তিনিই প্রলয়। বিভিন্ন সময় ও কালে নিজের ভক্তদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই স্থানগুলিই জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে খ্যাত। সেগুলির মধ্যে মূল বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে ভক্তরা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। জানা যায়, এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম ও শেষ জ্যোতির্লিঙ্গ হল ঘৃষ্ণেশ্বর বা ঘুশ্মেশ্বর। এই জ্যোতির্লিঙ্গটি ভারতের মহারাষ্ট্রের অওরঙ্গাবাদ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইলোরা গুহার সন্নিকটে অবস্থিত। শিবপুরাণের কোটিরুদ্র সংহিতার ৩২ ও ৩৩তম অধ্যায়ে এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গটি পূর্বমুখী। জানা যায়, ইন্দোরের মহারানি অহল্যাবাঈ হোলকার, যিনি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি ও গৌতমীবাল (বায়জাবাই) ঘৃষ্ণেশ্বর শিবমন্দিরটি সংস্কার করান। অহল্যাবাঈয়ের জমানাতেই মন্দিরের সুন্দর প্রাচীরটিও তৈরি হয়েছিল। ঘৃষ্ণেশ্বর  মন্দিরের গাত্র-অলংকরণে প্রাগৈতিহাসিক মন্দির প্রথা ও প্রাগৈতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। মন্দিরটি লাল পাথরের তৈরি। এতে মোট পাঁচটি চূড়া  লক্ষণীয়। মন্দিরে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে, মন্দিরের গায়ে লাল পাথর দিয়ে দশাবতারের মূর্তি খোদাই করানো হয়েছে। এই মন্দিরের দরবার কক্ষে মোট ২৪টি স্তম্ভ আছে। এই স্তম্ভগুলোয় সুন্দর চিত্র খোদাই করা আছে। দরবার কক্ষেই আছে নন্দিকেশ্বরের মূর্তি। জানা যায়, এই মন্দিরের গর্ভগৃহটি বর্গাকার, যার আয়তন ১৭ ফুট বাই ১৭ ফুট।

শিবপুরাণে বর্ণিত কাহিনী অনুসারে, দক্ষিণ ভারতে দেবগিরি পর্বতে ব্রহ্মবেত্তা সুধর্ম নামে এক ব্রাহ্মণ তাঁর স্ত্রী সুদেহাকে নিয়ে বাস করতেন। সেই ব্রাহ্মণ দম্পতির কোনও সন্তান ছিল না বলে সুদেহার মনে দুঃখ ছিল। সন্তানলাভের সবরকম চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। সুদেহা তখন তার বোন ঘুশ্মার সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহ দেন। সুদেহার কথামতো ঘুশ্মা ১০১টি শিবলিঙ্গ তৈরি করে পূজা শুরু করেন ও পুজো শেষে সামনের হ্রদে সেই সমস্ত শিবলিঙ্গ বিসর্জন দেন। দেবাদিদেব প্রসন্ন হলে তাঁর আশীর্বাদস্বরূপ সুধর্ম ও ঘুশ্মার এক পুত্রসন্তান হয়। ফলস্বরূপ ঘুশ্মা অহংকারী হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি সুদেহা আবার তার বোনের প্রতি চরম ঈর্ষান্বিত হন। সেই ঈর্ষায় সুদেহা ঘুশ্মার ছেলেকে হত্যা করে হ্রদে ফেলে দেন। পরে ঘুশ্মা মহাদেবের পুজো করাকালীন এই সংবাদ জানতে পারলে তিনি ও সুধর্ম কেউই পুজো ছেড়ে ওঠেন না। উপরন্তু বলেন যে, যিনি তাঁদের সন্তান দিয়েছেন, তিনিই তাঁদের সন্তানকে রক্ষা করবেন। এরপর দেবাদিবেদ তাঁদের ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে তাঁদের সন্তানের জীবন ফিরিয়ে দেন। সন্তানকে ফিরে পেয়ে ঘুশ্মা নিজের অহংকারবোধের জন্য দেবাদিদেবের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হন এবং মহাদেবকে অনুরোধ করেন যে, সুদেহাকে যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। মহেশ্বর তাতে সম্মত হন এবং ঘুশ্মাকে বরদান করেন। তখন ঘুশ্মার অনুরোধে মহাদেব  সেখানে জ্যোতির্লিঙ্গরূপে অবস্থান করেন এবং ঘুশ্মার নামানুসারেই এই জ্যোতির্লিঙ্গের নাম হয় ঘুশ্মেশ্বর বা ঘৃষ্ণেশ্বর। জানা যায়, যে হ্রদে ঘুশ্মা শিবলিঙ্গ বিসর্জন দিতেন, সেই হ্রদটির নাম শিবালয়।

কথিত আছে, এই জাগ্রত জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনে পাপ খণ্ডন হয়। এছাড়াও এই জ্যোতির্লিঙ্গ পূজার ফলে ভক্তের মনস্কামনা পূরণ হয়। প্রতিবছর মহাশিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে অগণিত ভক্তের ভিড় হয় এই ঘৃষ্ণেশ্বর মন্দিরে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

চা-কফি বাদ, মেকআপে শুধুই সানস্ক্রিন, সুতির শাড়ি-চুড়িদার পরেই প্রচারে ঝড় তুলছেন লাভলি

গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল পুরুলিয়ার গন্ধডি, ৭ কিমি পথ পেরিয়ে ভোট দিলেন গ্রামবাসীরা

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ