দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মুখের সামনে সুরা ভরা পাত্র ধরতেই হয়ে যায় খালি, কোথায় এমন রহস্যময় মন্দির?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবাদিদেব মহাদেব আদি দেবতা। তিনি সর্বশক্তিমান।তাঁরই একটি ভয়ঙ্কর রূপ হল কালভৈরব। অনেকে কালভৈরবকে মৃত্যু ও বিনাশের দেবতা হিসাবেও মনে করেন। তাঁর বাহন সাধারণত কুকুর এবং তিনি ত্রিশুল ধারণ করেন।মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এই কালভৈরব মন্দির ভারতের ধর্মীয় পর্যটনের এক অন্যতম আকর্ষণ।মহাদেবের রুদ্র রূপ কালভৈরবকে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরটি স্থাপত্যরীতির জন্য বিখ্যাত। এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো যে, ভগবান কালভৈরব মদ্যপান করেন। এই মন্দিরে মদ ভর্তি পাত্র মূর্তির মুখে স্পর্শ করানো মাত্রই পাত্রটি খালি হয়ে যায়। এই মন্দির প্রায় হাজার বছরেরও অধিক পুরনো। প্রাচীন কাল থেকেই এখানে তান্ত্রিকদের সমাগম রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে জনসাধারণের জন্যও উন্মুক্ত করা হয় মন্দির। কয়েক বছর আগেও এখানে পশুবলি দেওয়া হত, কিন্তু বর্তমানে এই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভগবান কালভৈরবকে সুরাপান করানোর নিয়মই কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে।

কথিত রয়েছে, বহু বছর আগে ব্রিটিশ আমলে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা তদন্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে, এই মদ কোথায় যায়? তার জন্য তিনি মূর্তির কাছাকাছি গভীরভাবে খননও করিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। তারপর সেই ইংরেজও কালভৈরবের ভক্ত হয়ে যান। এই মন্দির সৃষ্টির নেপথ্যে এক পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে।

স্কন্দ পুরাণে এই স্থানের ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে যখন চতুর্বেদের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা পঞ্চম বেদ রচনার সিদ্ধান্ত নেন, তাঁকে এই কাজে বিরত করানোর জন্য সমস্ত দেবতাগণ ভগবান শিবের কাছে যান। ব্রহ্মা তাঁর কথা শোনেননি বলে মহেশ্বর ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর তৃতীয় নেত্র দিয়ে বালক বটুক ভৈরবের উদ্ভাবন করেন। উগ্র স্বভাবের বটুক ভৈরব রেগে গিয়ে ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক কেটে ফেলেন। ব্রহ্মা হত্যার পাপ দূর করার জন্য তিনি বহু শ্মশানে গিয়ে তপস্যা করেও মুক্তিলাভ করতে না পেরে অবশেষে তাঁর সৃষ্টিকর্তা মহাদেবের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। মহাদেব তখন তাঁকে বলেন উজ্জয়িনীর শিপ্রা নদীর তীরে আখোর শ্মাশানে তপস্যা করলে তিনি এই পাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এরপরেই এই স্থানে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়।

এই মন্দিরে প্রতিদিন কালভৈরবকে কত মদ দেওয়া হয়, তার কোনও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে অনুমান করা হয়, এর পরিমাণ কয়েকশ লিটারেরও বেশি। ২০১৬ সালে উজ্জয়ন সিংহস্থের (বি.দ্র : উজ্জয়ন সিংহস্থ হল ভারতের মধ্য প্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রতি ১২ বছর পর পর অনুষ্ঠিত একটি হিন্দু ধর্মীয় মেলা) সময় রাজ্য সরকার উজ্জয়িনীতে এক মাসের জন্য মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু মন্দিরের সামনের দোকানগুলিতে মদ বিক্রির অনুমতি দেয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত?

মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ধরলেন না আপ ছেড়ে বিজেপিমুখী হরভজন সিংহ

লখনউয়ের গুরুকুলে ১১ বছরের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার অধ্যক্ষ ও তাঁর প্রেমিকা

হানা দিয়েছিল ইডি, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে সামিল হলেন অশোক মিত্তালও

শেয়ার বাজারে অব্যাহত রক্তক্ষরণ, ১০০০ সূচক কমল সেনসেক্স

জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রহরী খুন! উধাও দানবাক্সের টাকা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ