জয়ের ১০০ বছর আগেই এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপ করেছিলেন এই বাঙালি

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :  “বিশ্বজনের বিস্ময়, দুর্লঙ্ঘ দুর্জয়, হিমালয়…হিমালয়…হিমালয়…” – ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র হীরক রাজার দেশের একটি গানে হিমালয়কে দুর্লঙ্ঘ ও দুর্জয় বললেও ১৯৫৩ সালের ২৯ মে হিমালয় তথা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি ও নেপালের তেনজিং নোরগে। কিন্তু ইতিহাসের ঢাকা পড়া পাতার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ে এমন একজন বাঙালি গণিতবিদ রয়েছেন, যিনি ২৯,০৩২ ফুট উঁচু মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের শতবর্ষ আগেই  শুধুমাত্র গাণিতিক হিসাব ও জরিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রমাণ করেছিলেন যে পিক XV, অর্থাৎ আজকের মাউন্ট এভারেস্টই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। জানেন কী, কে সেই গণিতবিদ? তিনি হলেন রাধানাথ শিকদার (১৮১৩-১৮৭০) — বাংলার গর্ব, ভারতীয় বিজ্ঞানের এক অগ্রপথিক।

 মাউন্ট এভারেস্ট পরিমাপের পটভূমি

১৮০০ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে একটি বৃহৎ জরিপ প্রকল্প শুরু হয় — গ্রেট ট্রিগনোমেট্রিক্যাল সার্ভে (GTS)। এর লক্ষ্য ছিল গোটা ভারতবর্ষকে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিমাপ ও মানচিত্রায়ন করা। এই প্রকল্পে হিমালয়ের রহস্যময় একটি তুষারাবৃত শৃঙ্গ — পিক XV বিশেষ গুরুত্ব পায়। তখন অনেকেই বিশ্বাস করত, কাঞ্চনজঙ্ঘাই বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত, কারণ তা দৃশ্যমান এবং তার উচ্চতা পূর্বেই জানা। কিন্তু পিক XV সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য তখনও কারও  জানা ছিল না। এটাই ছিল ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ — যা সার্থকভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন গণিতজ্ঞ রাধানাথ শিকদার।

 রাধানাথ শিকদারের পরিচয় ও শিক্ষাজীবন

রাধানাথ শিকদার জন্মগ্রহণ করেন ১৮১৩ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর শিকদারপাড়ায়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি ভর্তি হন হিন্দু কলেজে (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়), যেখানে তিনি ডিরোজিও ও গণিত শিক্ষক ড. টাইটলারের প্রভাব ও সান্নিধ্যে গণিতে অসামান্য পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১৮৩০ সালে কলেজের পাঠ শেষ করে তিনি সরাসরি নিয়োগ পান ব্রিটিশ সরকারের জরিপ দপ্তর — Surveyor General of India Office-এ। এখান থেকেই শুরু হয় তার পথচলা।

 ত্রিকোণমিতি ও পর্বতশৃঙ্গের উচ্চতা নির্ণয়

১৮৪০-এর দশকে, রাধানাথ শিকদার অংশ নেন গ্রেট ট্রিগনোমেট্রিক্যাল সার্ভে-র হিমালয় অংশে। তার দায়িত্ব ছিল দূরবর্তী পাহাড়গুলোর উচ্চতা নির্ণয় করা, যেখানে মানুষের পক্ষে তখন যাওয়া অসম্ভব ছিল। তিনি ত্রিকোণমিতির জটিল সূত্র, বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ (atmospheric refraction), এবং পারদের উষ্ণতাজনিত প্রসারণ সম্পর্কিত ত্রুটির সংশোধনসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন পিক XV-এর উচ্চতা।

১৮৫২ সালের ৯ মার্চ, তিনি প্রমাণ করেন যে, পিক XV-এর উচ্চতা ৮,৮৩৯.৮ মিটার (২৯,০০২ ফুট), যা ছিল পৃথিবীর যে কোনও পর্বতের তুলনায় সর্বোচ্চ। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এই হিসাব তদানিন্তন সার্ভেয়ার জেনারেল অ্যান্ড্রু  ওয়াঘ কর্তৃক যাচাই ও অনুমোদিত হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কয়েক বছর পরে এই ঘোষণা আসে ।

 মাউন্ট এভারেস্ট নামকরণ

পিক XV-এর নামকরণ হয় তদানিন্তন সার্ভেয়ার জেনারেল জর্জ এভারেস্ট-এর নামে। যদিও জর্জ এভারেস্ট নিজে এর বিরোধিতা করেছিলেন, কারণ তিনি মনে করতেন স্থানীয় নাম ব্যবহার করাই বাঞ্চনীয় । তবে পিক XV-র কোনও স্থানীয় নাম না থাকায় এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে “Mount Everest” নামটি চূড়ান্ত হয়।

 প্রযুক্তিগত অবদান ও গবেষণা

রাধানাথ শিকদার শুধু এভারেস্টের উচ্চতাই  মাপেননি, তিনি জরিপবিদ্যাকেও একটি উচ্চতর বৈজ্ঞানিক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নিজেই ব্যারোমিটার পাঠের ত্রুটি সংশোধনের জন্য একটি সূত্র উদ্ভাবন করেন, যা ইউরোপীয় সূত্রের চেয়ে অধিক কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। এই সূত্র প্রকাশিত হয় Asiatic Society of Bengal Journal-এ। ১৮৫১ সালে প্রকাশিত Manual of Surveying নামক পুস্তিকার বৈজ্ঞানিক অংশটি ছিল তাঁর সেই লেখা। তিনি ছিলেন বায়ু চাপ ও উষ্ণতা সংক্রান্ত পরিমাপের একজন অগ্রগামী গবেষক। এই অবদানের জন্য ১৮৬২ সালে জার্মানির Bavarian Philosophical Society তাঁকে সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদান করে।

 পরবর্তী জীবন ও শিক্ষা আন্দোলন

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে (তৎকালীন General Assemblies Institution) গণিত শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৮৫৪ সালে, তিনি ও বন্ধু প্যারীচাঁদ মিত্র শুরু করেন “মাসিক পত্রিকা”, যা ছিল নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে প্রথম উদ্যোগগুলোর একটি। তিনি সরল ভাষায়, সহজবোধ্য উপায়ে বিজ্ঞানের কথা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতেন — যা ছিল সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রসর একটি দৃষ্টিভঙ্গি। জানা যায়, শেষ জীবনে তিনি হুগলির চন্দননগরের গোন্দল পাড়া এলাকায় নিজের বাগানবাড়িতেই থাকতেন। সেখানেই তাঁর শেষ জীবন কেটেছে। যেখানে তাঁর বাগান বাড়িটি ছিল বর্তমানে সেই রাস্তার নামকরণ হয়েছে রাধানাথ শিকদার রোড। তবে সেই বাড়ির আর অস্তিত্ব নেই।

 একজন নীরব নায়ক

রাধানাথ শিকদার কখনও মাউন্ট এভারেস্টে পা রাখেননি। কিন্তু, তিনিই বিশ্বকে প্রথম জানিয়েছিলেন এভারেস্টই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। কেবলমাত্র গণিত, বিজ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যা মানুষের চোখে দেখা সম্ভব ছিল না। ১৯৫৫ সালে, ভারতীয় জরিপে এর উচ্চতা পুনরায় নির্ধারণ করা হয় ৮৮৪৮ মিটার, যা পরে ১৯৭৫ সালে চীন দ্বারা নিশ্চিত হয়। আশ্চর্যের বিষয়, রাধানাথের গণনা মাত্র ৮ মিটার ব্যবধানে সঠিক ছিল — যা আধুনিক প্রযুক্তির সামনে এক বিস্ময়কর সাফল্য। মাউন্ট এভারেস্টের প্রথম শারীরিক আরোহণ ঘটেছিল ১৯৫৩ সালে, তেনজিং নোরগে ও এডমন্ড হিলারির মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় ১০০ বছর আগেই, একটি বাঙালি মস্তিষ্ক — রাধানাথ শিকদার গণিতের সিঁড়ি বেয়ে পর্বতের চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল । তিনি শুধু বাংলার বা ভারতের নন, তিনি ছিলেন বিশ্বের এক গর্বিত উত্তরাধিকার।

করবা চৌথে বিরল ত্রিগ্রহী যোগ! ভাগ্যের দরজা খুলছে ৪ রাশির জাতকদের

200Mp ক্যামেরার সেরা ফোল্ডেবল! বাজারে এল Vivo X Fold 6

৭০০০mAh ব্যাটারি, ১০৮MP ক্যামেরা! চমকে দেওয়া দামে নতুন ফোন আনল Motorola

চুরির পর কিশমিস-খেজুর দিয়ে হুইস্কি পান, চোরের কাণ্ডে চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের

দুঃসংবাদ ভারতীয় শিবিরে, এক দিনের দল থেকে ছিটকে গেলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ

শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তিরস্কৃত হ্যারিস রউফ, নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পাক ক্রিকেটার

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস, আরামবাগে দুর্ঘটনায় আহত বহু

৪৮ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২ হাজার করে টাকা! মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

‘৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফর্মে পরিবর্তন করতে পারে না কমিশন’, জ্ঞানেশদের এক্তিয়ার বাঁধল সুপ্রিম কোর্ট

দিওয়ালি উপহার মোদি সরকারের, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

জমি দুর্নীতির পর মাটি চুরির অভিযোগ, অভিষেকের প্রাক্তন পিএ সুমিতকে শোন অ্যারেস্ট পুলিশের

ক্ষেপে ড্রোনে লাথি কষালেন সঞ্চালক, ছিটকে গিয়ে লাগল তরুণী মডেলের ঠোঁটে, রক্তারক্তি কাণ্ড

ঈশানকে পিছনে ফেলে ICC-এর ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করলেন অভিষেক