‘গুলামদের দ্বীপ’, জন্মের পর থেকেই মালিকদের ‘সম্পত্তি’ হয়ে যায় শিশুরা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জন্মের পর থেকে মন্ত্রের মতো কানে-কানে ঘোষণা, ‘তুমি ক্রীতদাস। ক্রীতদাস হয়েই জন্ম, ক্রীতদাস হয়েই মৃত্যু। এ এক অমোঘ বাস্তব।’ ক্রীতদাসদের নিয়ে অনেক উপন্যাস-গল্প রচিত হয়েছে। কিন্তু জানেন কি, একবিংশ শতাব্দীতেও এমন এক দ্বীপ রয়েছে, যেখানে রয়েছে ক্রীতদাস প্রথা। জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাধীন মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। বরং জন্মের মুহূর্ত থেকেই তাদের ‘মালিকের সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে এই অমানবিক প্রথা। না এটা কোনও কল্পকাহিনি নয়, বরং এক নির্মম বাস্তবতা।  কোথায় সেই দ্বীপ? সেই গল্পই বলব আজকে। 

ইন্দোনেশিয়ার সুম্বা দ্বীপ,যা বালির বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। বাইরে থেকে এই জায়গাটিকে সুন্দর জলপ্রপাত, পাহাড় এবং সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত একটি শান্ত পর্যটন কেন্দ্র বলে মনে হয়, কিন্তু এর গভীরে এখনও টিকে আছে শতবর্ষ প্রাচীন দাসপ্রথা। ৩৪ বছর বয়সী কানিসিয়াস কানিয়ালি হাম্বারিতা নিজেকে একজন দাস বা ‘আতা’ হিসেবে  পরিচয় দিয়েছেন, তিনি তার মনিব উম্বু আনা রারার সাথে একই বাড়িতে বসবাস করেন। মজার ব্যাপার হল, মনিব তার চেয়ে তিন বছরের ছোট। তার দাসত্ব নিয়ে তিনি বিচলিত কিনা জানতে চাইলে হাম্বারিতা নির্লিপ্ত কণ্ঠেই বললেন, ‘না। এ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। এটা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের অংশ। এটা আমাদের কাঁধের বোঝা নয়, বরং আমাদের পরিচয়।’

সুম্বার আরেক বাসিন্দা (পরিচয় গোপন রেখেছেন) জানিয়েছেন, শৈশব থেকেই তাঁকে মনিবদের জমিতে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তবে তিনি চান, এই ধারা যেন বংশপরম্পরায় টিকে না থাকে। প্রায় ১৬০ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ায় দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশটির ১৯৪৫ সালের সংবিধানেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যেকোনও ধরনের দাসপ্রথা বেআইনি। তা সত্ত্বেও, সুম্বা দ্বীপের কিছু এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন বর্ণপ্রথা এখনও টিকে আছে। এখানে সমাজ মূলত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রথমটি হল, মারাম্বা। অর্থাৎ অভিজাত। দ্বিতীয়টি হল-কাবিহু (যার মধ্যে সাধারণ মানুষ অন্তর্ভুক্ত) এবং অন্যটি হল-দাস।

মানবাধিকার সংস্থাগুলির সদস্যদের দাবি, এই ব্যবস্থায় নারীরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। পূর্ব সুম্বার প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জার প্রধান যাজক মার্লিন লোমি বলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এমন বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে মনিবরা তাদের নারী দাসীদের নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারত এবং এটিকে অন্যায় বলে মনে করা হতো না। এই অমানবিক ব্যবস্থার সবচেয়ে মর্মান্তিক উদাহরণ হল, এক ১৮ বছর বয়সী তরুণী। তার অভিযোগ, ১৩ বছর বয়স থেকে তার নিয়োগকর্তা ও তার ছেলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। কিছু ভূস্বামী পরিবার এখন এই প্রথা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। সুম্বার এক সম্ভ্রান্ত মহিলা নরলিনা রামবু জোলা কালুঙ্গা বিশ্বাস করেন যে এই প্রথার সংস্কার তাঁর নিজের পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত। সুম্বার এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সবক্ষেত্রে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই কোনও প্রথার অবসান হয় না। সামাজিক চিন্তাভাবনার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত  সমাজে পরিবর্তন সম্ভব নয়।

মোদিকে নিয়ে বিকৃত ভিডিও, মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান-সহ একাধিকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

১২,০০০ টাকা ছাড়ে মিলছে OnePlus-এর শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত 5G স্মার্টফোন

মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে চারতলা ভবন ধসে মৃত ৩, চলছে উদ্ধারকাজ

গ্লাসগোয় ভারতের জোড়া সাফল্য, রুপো-ব্রোঞ্জ জিতে নজর কাড়লেন লাভপ্রীত ও সীমা

গাজা নিয়ে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, হামাসের নিরস্ত্রীকরণে ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির দাবি

কেন প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্তত একবার কোথাও একা ঘুরে আসা উচিত?

পূর্ণিমার দিনেই চন্দ্রগ্রহণ! এবার কি ভাইয়ের কপালে ফোঁটা বা হাতে রাখি পরানো যাবে?

প্রতি বছর বাড়ছে শিবলিঙ্গের আকার! জানেন কোথায় রয়েছে রহস্যময় এই ধাম?

‘গুলামদের দ্বীপ’, জন্মের পর থেকেই মালিকদের ‘সম্পত্তি’ হয়ে যায় শিশুরা

‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ মিটল’, রাজ্যসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ বিল পাস হওয়ার পরেই বার্তা মোদির

লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাস ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ বিল’, ওয়াকআউট বিরোধীদের

মেটাল ডিটেক্টর থেকে বাঁচতে সোনার বিস্কুটে কালো টেপ লাগিয়েছিলেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলু

রিষড়ায় বসে গোটা দেশে প্রতারণা! বড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ

দ্বিতীয় বিয়ে করায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী