পুলিশের একাংশের মদতেই ঘটেছে ক্যানিংয়ের হত্যাকাণ্ড, অপসারিত আধিকারিক

পুলিশের একাংশের মদত ছিল ক্যানিংয়ের হত্যাকাণ্ডের পিছনে। স্বপন মাজি তোলাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েই খুন হয়ে গেলেন।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: গড়ে উঠেছিল তোলাবাজির সাম্রাজ্য। আর তাতে মদত ছিল খোদ উর্দিধারীদের। কারণ তোলার ‘ভাগ’ পৌঁছে যেত উর্দিধারীদের পকেটেও। আর সেই তোলাবাজির সব থেকে বড় কাঁটা হয়ে উঠেছিল স্বপন মাজি(Swapan Maji)। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া না হলে যে তোলাবাজির সাম্রাজ্য ধসে পড়বে। অগ্যতা উর্দিধারীদের একাংশের মদতেই খুনের নীল নকশার অবতারণা। আর সেই নকশা অনুযায়ী মসৃণ অপারেশন। ‘খাল্লাস’ স্বপন মাজি। ঘটনার সাক্ষী ঝন্টু হালদার ও ভূতনাথ প্রামাণিকও ‘খতম’। তবুও শেষরক্ষা হল না। সিট গঠনের পরে পরেই গ্রেফতার অন্যতম অভিযুক্তের দাদা। আর তাকে জেরা করতেই সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য। তার জেরে অপসারিত হলেন পুলিশ আধিকারিক। আতস কাঁচের তলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা(South 24 Pargana) জেলার ক্যানিং(Canning) থানার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাজি, বুথ সভাপতি ঝন্টু হালদার ও অপর এক বুথ সভাপতি ভূতনাথ প্রামাণিকের খুনের(Murder) ঘটনা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যানিংয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য সরকার ৬ সদস্যের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করেছে। তাতে আছেন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু, ক্যানিংয়ের এসডিপিও দিবাকর দাস, ক্যানিং থানার আইসি সৌগত ঘোষ, বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের ওসি লক্ষ্মীকান্ত বিশ্বাস ও আরও ২ সদস্য। আর তারপরে পরেই রাতেই গ্রেফতার হয় আফতাবউদ্দিন শেখ। ৩ খুনের ঘটনায় ক্যানিং থানায় যে এফআইআর দায়ের হয় তাতে নাম রয়েছে বশিরউদ্দিন শেখের। এই বশিরের দাদাই হচ্ছে আফতাব। ঘটনার দিন স্বপনবাবুর গতিবিধি সংক্রান্ত খবর খুনিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল সে। স্বপনবাবু কখন বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কাদের সঙ্গে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে খোঁজ রাখতে বলা হয়েছিল আফট্যাবকে। এর জন্য তাকে মোটা টাকা দেওয়ার লোভও দেখানো হয়। অপারেশনের সময় মোটরবাইক নিয়ে ৩ তৃণমূল নেতাকে অনুসরণ করার পাশাপাশি, আততায়ীদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছিল আফতাব। গুলি চলার পরেই সে এলাকা ছাড়ে।

কিন্তু তাকে জেরা জেরা করে সিট আরও ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে। ক্যানিংয়ের এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী রফিকুল সর্দার(Rafikul Sardar)। তার বাড়ি এলাকারই ধর্মতলা এলাকায়। সেই এলাকাতে তো বটেই আশেপাশের জেলেপাড়া, হেড়োভাঙা এলাকায় কার্যত ‘তোলাবাজি’র সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল সে। আর তাতে ছিল স্থানীয় পুলিশের প্রত্যক্ষ মদত। কেননা সেই তোলাবাজির ভাগ পেতেন স্থানীয় ধর্মতলা পুলিস ক্যাম্পের আধিকারিক সহ আরও বেশ কিছু পুলিশকর্মী। এই ক্যাম্প অফিসই কার্যত হয়ে উঠেছিল রফিকুলের ঘাঁটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সিট জানতে পেরেছে প্রতি সন্ধ্যায় ক্যাম্পের আধিকারিক ও অন্যান্যদের সঙ্গে সদলবলে আড্ডা বসাত রফিকুল। সেই ‘ঘনিষ্ঠতা’র বিনিময়ে জুটত পুলিশের প্রত্যক্ষ ‘মদত’। আর এই তথ্য সামনে আসার পরে পরেই গতকাল রাতে ওই ক্যাম্পের পুলিস আধিকারিককে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু জানিয়েছেন, ধর্মতলা পুলিশ ক্যাম্পের আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। গোটা বিষয়টির তদন্ত চলছে। জেরায় আফতাব জানিয়েছে, স্বপন মাজি রফিকুলের তোলাবাজির বিরুদ্ধে সার্বিক ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনও গতি ছিল না। 

আফতাব জানিয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন আগেই রফিকুল এই হামলার ঘটনার ছক কষে যা জানতেন ধর্মতলা ক্যাম্পের ওই পুলিশ আধিকারিক। আর ঘটনা ঘটার ১০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে হাজিরও হয়ে যান ওই পুলিশ আধিকারিক। কোনও ঘটনা ঘটলে এত দ্রুত পুলিশের দেখা মেলে না বাংলার কোথাও। সেখানে ওই পুলিশ ক্যাম্পের আধিকারিক কীভাবে অত দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে এলেন? তাহলে কী তিনি অপেক্ষা করছিলেন ‘অপারেশন’ কত দ্রুত শেষ হয় তা জানার জন্য? প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। আর এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে পুলিশকেও। এলাকাবাসীরা আরও জানিয়েছেন, পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই ইটভাটা থেকে অটোস্ট্যান্ড সর্বত্র তোলাবাজি চালাত রফিকুল ও তার সঙ্গীরা। স্থানীয় গৃহবধূ থেকে যুবতী-কিশোরীরা তাদের ইভটিজিং থেকে শ্লীলতাহানির শিকারও হয়েছে। অথচ ভয়ে কেউ একটা টুঁ শব্দও করতে পারেনি। থানায় দায়ের হয়নি কোনও অভিযোগ। আফতাবকে গতকার রাতে কুলতলি থেকে গ্রেফতার করা হলেও আদতে সে ক্যানিংয়েরই বাসিন্দা। পুলিশের ধারনা ঘটনার মূল অভিযুক্ত রফিকুল সহ বাকিরা বাংলাতেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।

আজ ধনতেরাসের সন্ধ্যায় এই ৫ জায়গায় জ্বালান প্রদীপ, মা লক্ষ্মীর কৃপায় আসবে সুখ-সমৃদ্ধি!

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন

দীপাবলির আগে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ সূর্যকুমারের পরিবারের, খুদের ভজন শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

সন্দেশখালিতে ছেলের সামনেই মায়ের শ্লীলতাহানি, পুলিশের জালে শাহজাহানের শাগরেদ

রিলস স্ক্রল করা বন্ধ করতে পারছেন না? জেনে নিন এই সহজ কৌশল

আঘাতের পর ফের ওয়ার্কআউট! জানুন হাঁটু সুরক্ষিত রাখার সহজ উপায়

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

দীপাবলির আগে অমিতাভের ‘জলসা’য় বোমা হামলার হুমকি!

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় এবারও অনলাইনে স্টল বুকিং, থাকছে বিশেষ শর্ত

সর্ষে অতীত, এবার ভাত পাতে রাখুন পোস্ত পাবদা, রইল রেসিপি

অল্প তেলেই বানিয়ে ফেলুন ফুলকপি পাতুরি, ভাত বা পরোটার সঙ্গে জমে যাবে