আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘তাঁর চরিত্র মোটেই সাধুসন্ত সুলভ নয়’, মমতার সুরে কার্তিক সুর অধীরেরও

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: কেউ তাঁকে চিনতো না। বাংলার(Bengal) মানুষ তো নয়ই। কিন্তু গত শনিবার থেকেই তাঁর নাম মুখে মুখে ফিরছে। তবে এদিন অর্থাৎ সোমবার তিনি ধাক্কা খেলেন INDIA জোটের কাছে। প্রথমে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো এবং পরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর কাছ থেকে। এখন তাঁর পাশে শুধুই গেরুয়া। নজরে রেজিনগরের ভারত সেবাশ্রম সংঘের(Bharat Sevasram Sangha) কার্তিক মহারাজ(Kartik Maharaj)। রাজ্য রাজনীতিতে যে অধীর রঞ্জন চৌধুরী(Adhir Ranjan Chowdhury) চিরাচরিত ভাবে অন্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত তিনিও এদিন মমত্রার সুরে সুর মিলিয়েই নিশানা বানালান কার্তিক মহারাজকে। সাফ জানালেন, ‘তাঁর চরিত্র মোটেই সাধুসন্ত সুলভ নয়। তাঁর পরিচিতি নিয়ে এখানে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।’ বস্তুত জানা গিয়েছে, কার্তিক মহারাজের কর্মকাণ্ড মুর্শিদাবাদ জেলা তথা বহরমপুরেই বেশি। মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনীতিতে কার্তিকের প্রভাব রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কারও কারও মতে, বিজেপির প্রচারে এবার কার্তিকের বিশেষ ভূমিকা ছিল। হতে পারে মমতা আর অধীরের ক্ষোভও সেই কারণে।

গত শনিবার মমতা প্রথম সরব হন বাঁকুড়ার সভা থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘সব সজ্জন সমান হয় না। সব সাধুও নয়। আমাদের মধ্যেই কি সবাই সমান আছেন? আমি আইডেনটিফাই করেছি বলেই বলছি। আমি ভারত সেবাশ্রম সংঘকে অনেক সম্মান করতাম। কিন্তু কিছু সন্ন্যাসী পলিটিক্স করে দেশের সর্বনাশ করছেন। যে লোকটা তৃণমূলের এজেন্টকে বসতে দেন না তাঁকে আমি সাধু বলে মনে করি না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের ওঁর আশ্রম। আশ্রম করুন, আপত্তি নেই। কিন্তু ওখানে বুথে আমাদের এজেন্ট ছিল না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ওখানে আমাদের এজেন্ট নেই কেন? আমার লোক বলল, কার্তিক মহারাজ বসতে দেননি। কার্তিক মহারাজ বলেছেন, তৃণমূলের লোককে বসতে দেব না। রেজিনগরে যেখানে দাঙ্গা হয়েছিল, সেখানেই ওনার আশ্রম। ওখানে কিছু ছানার ব্যবসায়ীকে উনি খেপিয়েছিলেন। খবর আমিও রাখি। এলাকায় এলাকায় গিয়ে আপনি বিজেপি করে বেড়ান। আমি বলি, আপনি বিজেপি করুন। বুকে ব্যাচ লাগিয়ে করুন, লুকিয়ে লুকিয়ে কেন? আপনারা কী মনে করেন দাঙ্গা করলে ছেড়ে দেওয়া উচিত? বাংলায় আমি অশান্তি পাকাতে দেব না।’

রবিবার পুরুলিয়া এবং বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন কার্তিক মহারাজও। সোমবার বাঁকুড়ার ওন্দা থেকে সেই নিয়ে ফের মুখ খোলেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, ‘আমি ভারত সেবাশ্রম বা রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধে নয়। আমি নির্দিষ্ট করে  দু’একজনের কথা বলেছি। তার মধ্যে একজন হলেন ওই কার্তিক মহারাজ। আমিও খবর রাখি। ভোটের ২দিন আগে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার হোতা ছিলেন এই কার্তিক মহারাজ।’ মুখ্যমন্ত্রীর সেই দাবির পরে পরেই সাংবাদিকদের কাছে কার্তিক মহারাজকে নিয়ে মুখ খোলেন অধীর। তিনি বলেন, ‘যার যা ইচ্ছা করতেই পারেন। তবে যার কথা বলছেন, তিনি এখানে সেভাবেই পরিচিত। তাঁর চরিত্র মোটেই সাধুসন্ত সুলভ নয়। তাঁর পরিচিতি নিয়ে এখানে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। সে সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসাবে এলাকার মানুষের কাছে পরিগণিত হয়। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ দেশের সেবা করে। গোটা পৃথিবী জুড়ে তাদের সংগঠন রয়েছে। তার মধ্যে কি বিচ্যূতি নেই। অবশ্যই আছে। আমার বক্তব্য একটাই, যাঁরা সাধু বা সন্ত তাঁদের কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যাওয়া উচিত নয়। তাতে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট দিতে গিয়ে উদয়নারায়নপুরে কেন্দ্রীয় জওয়ানের ধাক্কায় মৃত্যু বৃদ্ধের

কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নেওয়ার নির্দেশ ফাঁস, শাহকে মিথ্যেবাদী বলে তোপ মহুয়ার

মধ্য হাওড়ায় অস্ত্র নিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের চাপ দিতে যুবকের দাপাদাপি

‘আমি এইরকম ভোট কখনও দেখিনি’, মিত্রস্কুল থেকে বেরিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ মমতার

ভোটকেন্দ্রে দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জে সিলিং ফ্যান ভেঙে আহত ভোটার

‘শেষ জীবনে এসে এটা দেখতে হবে ভাবতে পারিনি’‌, ভোট দিতে না পেরে কাঁদলেন বৃদ্ধ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ