আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

আদিবাসীদের সেঁন্দরা উৎসবকে কেন্দ্র করে কড়া নজরদারি বন দফতরের

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: রাত পোহালেই পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের সুতান টান্ডিতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব সেঁন্দরা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শিকার বা বন্যপ্রাণী হত্যা রুখতে আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই অযোধ্যা পাহাড়ে ওঠার প্রতিটি রাস্তায় চলছে বন দফতরের কড়া নজরদারি। আগামিকাল, শুক্রবার সকাল থেকেই বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের সুতান টান্ডিতে পালিত হবে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সেঁন্দরা ও শিকার উৎসব। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই বিশেষ উৎসব।

আরও পডুন: পূর্ব রেলের বেশ কিছু জায়গায় কাজের জন্য সপ্তাহান্তে বাতিল একাধিক ট্রেন

যদিও ভারত-জাকাত-মাঝি পারগানা মহলের জেলা-পারগানা রতন লাল হাঁসদা জানান, ‘শিকার শব্দ প্রয়োগ করলেই প্রাণী হত্যার বিষয়টি চলে আসে। বুদ্ধ পূর্ণিমা না, তার অনেক আগে থেকেই আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা, সামাজিক, রীতি-নীতি, কু-সংস্কার আলোচনা, আমাদের পরম্পরা, ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্যই সকলে বছরের এই দিনটিতে মিলিত হই। সেটাই উৎসবে পরিণত হয়েছে। একটি সংস্থা কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করেছে, তার ভিত্তিতে অস্ত্র নিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু আদিবাসীরা অস্ত্র নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাহাড়ে যায়।’ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে তাদের সংস্কৃতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান রতনলাল হাঁসদা।

বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী সেঁন্দরা ও শিকার উৎসব প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অসম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও বনভূমির ক্ষতি রোধে জেলা বন দফতর নিয়েছে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অযোধ্যা পাহাড়মুখী প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। সেখানে পাহাড়ে যাওয়া প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে চলছে তল্লাশি, পাশাপাশি চালানো হচ্ছে সচেতনতা প্রচারও। বন দফতরের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে-জঙ্গলে আগুন না লাগাতে এবং কোনওভাবেই শিকার না করা হয়। এই বিষয়ে ঝালদা রেঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত বিট অফিসার সদানন্দ কুইরি জানান, ‘উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য। বন দফতরের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা।’

এই বিষয়ে রতনলাল হাঁসদা আরও জানান, ‘সেঁদরা উৎসবে আমরা শিকার বা প্রাণী হত্যা করতে অযোধ্যা পাহাড়ে যাই না। আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা করতে যাই। এখন আমাদের সমাজের রীতিনীতি নিয়ে লোক আদালতের কায়দায় বসে আলোচনা চলে। যেখানে অনেক কিছু নিষ্পত্তি হয়। সমাজের অনেক কিছু রীতি নীতির সংযোজন-বিয়োজন হয়। সাঁওতালদের কাছে বুদ্ধ পূর্ণিমা নেই। এটা আমাদের ল বীর বাইসি। প্রশাসন যেটা করছে বাড়াবাড়ি, এটা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়।’ এমনটাই ‘এই মুহূর্ত’ ডিজিটালকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন রতনলাল হাঁসদা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

স্ট্রংরুমে ‘কারচুপি’-র অভিযোগ, প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ কুণাল-শশীর

চন্দ্রকোনায় বজ্রপাতে প্রাণ হারাল দুই ভাই, আহত অন্তত চারজন

ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমাল নির্বাচন কমিশন, কোন জেলায় কত? পডুন বিস্তারিত

পূর্ব রেলের বেশ কিছু জায়গায় কাজের জন্য সপ্তাহান্তে বাতিল একাধিক ট্রেন

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ধাক্কা’য় উদয়নারায়ণপুরে ভোটারের মৃত্যু? তদন্তে হাওড়ার জেলাশাসক

‘‌দু’জায়গা থেকেই জিতছি’‌, হুমায়ুনের দাবি শুনে হাসছেন বিরোধী নেতারা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ