বালির ঠাকুরানির চক হরিসভায় ‘বাসরে ফুলশয্যা’ যাত্রাপালার শেষ সংলাপে চলে গেলেন শিল্পী

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভিড়ে ঠাসা দর্শকের মাঝে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল যাত্রা পালা ‘বাসরে ফুলশয্যা’। দোলযাত্রা উপলক্ষে হাওড়ার বালির(Bally) ঠাকুরানির চক হরিসভাতলায় বসেছিল যাত্রার আসর। সেই যাত্রা পালার একেবারে শেষ দৃশ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন যাত্রা শিল্পী মিলন। অভিনয় করার পাশাপাশি তিনি ছিলেন ওই যাত্রাপালার পরিচালকও। ওই যাত্রাপালার কাহিনীটা এরকম ছিল দুই ভাই জীবন এবং চন্দন গঙ্গোপাধ্যায় ও একমাত্র বোন সীতা। তাকে বিয়ের পর পণের জন্য অত্যাচার করছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সীতার ছোট ভাই চন্দন ছদ্মবেশে বনের অত্যাচারের বদলা নিতে খুন করেন শ্বশুরবাড়ির একজনকে। অপরদিকে বড় দাদা জীবন গঙ্গোপাধ্যায়(Jiban Gangopadhay) পণের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বোনকে খুন করেন। বড় দাদা জীবনের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন মিলন।

নাটকের একবার শেষ দিচ্ছে, পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করতে আসেন সেই সময় ছোট ভাই চন্দন গঙ্গোপাধ্যায় পুলিশের সামনে দুটি খুনের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন। এরপরই জীবনের ভূমিকায় অভিনয় করা মিলনের বাক্য সংলাপ ছিল ‘দোষী হয়েও আমি নির্দোষ হলাম’। যাত্রা দেখতে আসা মা বোনেদের চোখ দিয়ে তখন জল গড়াচ্ছে। সুরে বাজে সেতার আর বেহালার মেলবন্ধন। কিন্তু মিলন বাবু শেষ সংলাপ বলার আগে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মঞ্চে। সকলে ভাবলেন বিশ্বটা হয়তো এই ভাবেই শেষ হবে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ না ওঠার পর যাত্রার সহজ শিল্পীরা নাটক থামিয়ে এগিয়ে যান মিলনের দিকে। বারবার তাকে ডাকলেও সে আর ওঠেন না। এরপর সকলে মিলে হৈ হৈ করে মিলন বাবুকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। শেষ সংলাপ বলার আগে নির্দোষ জীবন বাবু তার নিজের মানব জীবন ছেড়ে পরলোকে গমন করেছেন। চিকিৎসকরা জবাব দিয়ে দেন।

জানিয়ে দেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন তিনি। সকলেই হতবাক হয়ে যান। গত শনিবার এইরকম একটি ঘটনা ঘটে হাওড়ার বালির ঠাকুরানির চক হরিসভা তলায়। বোনকে খুন করেও পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যাবেন দাদা, এই ছিল যাত্রাপালা শেষ দৃশ্য। নিখুঁত স্ক্রিপ ্ট সুন্দর সঙ্গীতের আবহাওয়া আর শেষ দিচ্ছে পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার অভিনয় শেষ সংলাপ বলার আগে চলে যেতে হল যাত্রা শিল্পী মিলন গায়েনকে(Milan Gayen)। তার বয়স মাত্র ৫৫ বছর। নিজেই ওই যাত্রাপালার পরিচালক ছিলেন। কিন্তু মন চেয়ে অভিনীত খ্যাত মিলন গায়েনের ওই যাত্রাপালার শেষ সংলাপ দোষী হয়েও আমি নির্দোষ হলাম। তা আর বলা হল না। সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন ইহ জগত থেকে।

চিৎপুরের যাত্রা পালার বর্তমান পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। আগের মত পালা বুকিং – এর সেই রম রমরমা নেই। তার মাঝে কোন কোন অপেরা দল বা কোন উৎসব উপলক্ষে এখনো গুটি কয়েক বুকিং পেয়ে থাকেন। যাত্রা শিল্পীদের এই ডিজিটাল(Digital) আধুনিক যুগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিমুহূর্তে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার যাত্রা শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে নানা ধরনের প্রয়াস গ্রহণ করেছে বটে। কিন্তু মিলন গায়েনের মতো যাত্রা শিল্পীরা আজও শেষ লড়াই লড়ছেন যাত্রা মঞ্চে। তাদের জন্য রইল ‘এই মুহূর্তের’ কুর্নিশ ও প্রণাম।

বাড়িতে শ্মশান সামগ্রী রেখে বিজেপি নেত্রীকে খুনের হুমকি, উত্তপ্ত টাকি

বাংলার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নিউ টাউনের রামমন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজা

তৃণমূল থেকে সুবিধা পাওয়ার দিন শেষ, ইস্তফা দিলেন সন্তোষ কন্যা সুস্মিতা

কোহলির পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হার্দিক

বিশ্বের প্রায় ৫০০-৬৫০ জন মহিলার শয্যাসঙ্গী হয়েছেন, চেনেন বেপরোয়া সেই ক্রিকেটারকে?

তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সজল দাস

আলিপুরে সরকারি অফিসে বিধ্বংসী আগুন

আফগানিস্তানে নৃশংস হামলা পাক সেনার, নিহত ১১ নিরীহ শিশুসহ ১৩

নেহেরুকে ছাপিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেই গ্রেফতার অভিষেক! সিআইডির তৎপরতায় জল্পনা তুঙ্গে

পৃথিবীর প্রাচীনতম ফল কোনটি জানেন? শরীরের জন্যও বিশেষ উপকারী

২০ হাজার টাকার কমে নতুন স্মার্টফোন! জুলাইতেই আসছে OnePlus Nord CE 6