এই মুহূর্তে

নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ডুবল মাঠঘাট, ক্ষতি ফুলচাষের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দক্ষিন চিন সাগরে জন্ম নেওয়া ঘূর্ণাবর্ত মায়ানমার টপকে চলে এসেছিল বঙ্গোপসাগরের বুকে। সেখানে সে সাগর থেকে জলীয় বাষ্প শুষে ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হয় অতি গভীর নিম্নাচাপে(Deep Depression)। সেই অতি গভীর নিম্নচাপ বৃষ্টি ঝরিয়েছে দুই মেদিনীপুরের(Midnapur) পাশাপাশি রাজ্যের আরও বেশ কিছু জেলায়। তার মধ্যে যেমন কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলা রয়েছে তেমনি রয়েছে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই সব জেলার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মেদিনীপুরের মাটিতেই বেশি হয়েছে। বিশেষ করে কোলাঘাট(Kolaghat) ও পাঁশকুড়া(Panshkura) এলাকায় ফুল(Horticulture) চাষ নিদারুণ ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টি ঝরেছে মেদিনীপুরের মাটিতে। কখনও ঝমঝমিয়ে কখনও বা ঝিরঝিরে। সেই সঙ্গে বয়ে গিয়েছে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। আর তাতেই কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া এলাকার বিস্তীর্ণ ফুলের ক্ষেতে ফুলগাছ ও চারা নেতিয়ে পড়েছে। রজনীগন্ধা, দোপাটি, অপরাজিতা এবং গাঁদা ফুলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাপড়িযুক্ত ফুলে জল ঢুকে যাওয়ায় পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেশকিছু ফুলে দাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পুজোর মুখে এই ক্ষতিতে ফুলচাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট এবং পাঁশকুড়া ফুলচাষের জন্য পরিচিত। এছাড়াও শহিদ মাতঙ্গিনী এবং তমলুক ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ফুলচাষ হয়। এই বছর ওই ৪টি এলাকায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। কোলাঘাটের সিদ্ধা-১ ও ২, বৃন্দাবনচক, পুলশিটা ও খন্যাডিহি, পাঁশকুড়া ব্লকের মাইসোরা, গোবিন্দনগর, কেশাপাট এবং পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত এলাকায় রজনীগন্ধা, দোপাটি, অপরাজিতা, গাঁদা প্রভৃতি ফুলচাষ হয়েছে। এখন ওই সব ফুল চাষেই নিদারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফুলচাষীরা।

পুজোর সময় এমনিতেই ফুলের চাহিদা বাড়ে, দাম বাড়ে। সেই চাহিদা ধরে রাখতে যোগানের ধারাও বজায় রাখতে হয়। তার জেরে দামও বাড়ে ফুলের। কিন্তু এখন নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে যে ক্ষতি হল তাতে চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন ফুলচাষীরা। কেননা তাঁরা না পারবেন পুজোর সময় ফুলের যোগান দিতে না পারবেন এই ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত সামলে উঠতে। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ নায়ক জানিয়েছেন, ‘নিম্নচাপের জেরে ঝড়বৃষ্টিতে দুই মেদিনীপুর, হাওড়া ও দুই ২৪পরগনা জেলায় ফুলচাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত গাঁদা, দোপাটি সহ নরম প্রকৃতির ফুলগাছ ঝড়বৃষ্টিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। তাতে ফুলের উৎপাদন কমবে। স্বাভাবিকভাবে দাম বাড়বে। পুজোর আগে এই ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি ফুলচাষিদের চরম সমস্যার মুখে ঠেলে দিল। পুজো পর্যন্ত ফুলের দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই। এরমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফুলচাষে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় চাষিরা প্রচণ্ড সমস্যার মুখে পড়লেন।’ তবে ক্ষয়ক্ষতির জেরে ফুলচাষীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জেলা প্রশাসনের অন্দরে। জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাজি জানিয়েছেন, ‘ফুলচাষে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা উদ্যানপালন বিভাগ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। সব জায়গা থেকে এনিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করছি। রিপোর্ট আসার পর সবটা পরিষ্কার হবে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার ভোটের স্লিপ কারা দেবেন?‌ ‘ডেডলাইন’ বেঁধে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

মহিলা ব্রিগেডে জোর, নবীনদের বাহিনী তৈরির প্রতিশ্রুতি, নববর্ষে ইস্তেহার প্রকাশ মীনাক্ষীর

‘‌জয় বাংলা’‌ স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা, হাতাহাতি বালিতে

বৃহস্পতি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ৬ জেলায় সতর্কতা জারি

রাস্তায় ছড়িয়ে পোড়া বিজেপির দলীয় পতাকা, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য শান্তিপুরে

বজবজে বিরাট রোড–শো অভিষেকের, প্রার্থীকে নিয়ে ভাসলেন মানুষের ঢলে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ