চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অচ্ছুৎ হয়ে থাকার দিন শেষ, এই প্রথম দুর্গা আরাধনায় পুরুলিয়ার কুষ্ঠরোগীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বদলেছে সমাজ বদলেছে নিয়ম। এমন একটা সময় ছিল যখন কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজ অচ্ছুৎ হিসেবে গন্য করত। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত ছিল না সব জায়গায় প্রবেশাশিকার। তবে সময় গেলেও এখনও বহু জায়গা রয়েছে যেখানে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের এড়িয়ে চলেন অনেকে। তাই দুর্গাপুজো এলেই মন খারাপ হয় তাঁদের। পুজো সকলের কাছে আনন্দের হলেও তাঁদের কাছে মন খারাপের কারণ কোনও এক সময় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সমাজ ভালো ভাবে নেয় না। এমনকি পরিবারও এড়িয়ে চলে কুষ্ঠরোগীদের। বাবা-মায়ের জন্য সন্তানদেরও দূরে থাকার ফলভোগ করতে হয়। তবে এই বছরের চিত্রটা একটু আলাদা হতে চলেছে কারণ এই প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে পুরুলিয়ার আদ্রার মণিপুর লেপ্রসি রিহ্যাবলিটেশন সেন্টারে।

পুজো ঘিরে পুরুলিয়ার আদ্রার মণিপুর লেপ্রসি রিহ্যাবলিটেশন সেন্টারের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। পাঁচজনের মতো স্বাভাবিকভাবে ঘুরতে-ফিরতে না পারার দুঃখ মুছে যেতে চলেছে এতদিন পর। পুজো ঘিরে সেখানে এখন সাজো সাজো রব। হোমটি সেজে উঠেছে দেবী দুর্গা ও দুর্গোৎসবের হরেক কার্টুন-ব্যানারে। জানা গিয়েছে এই হোমে উমা প্রথমবার পা রাখছেন ওই হোমের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বয়ে। পুজোর চারটি দিন হই-হুল্লোড়ে মেতে উঠবে আবাসিকরা। হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যার প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। হোমের আবাসিকরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত ধরে আবাসিকদের হয়েছে নতুন জামা। উমার আগমনের খবরে আবাসিকের মুখে হাসি, উচ্ছ্বাস, আবেগ ভরে উঠেছে।

পুজোর আয়োজন সব নিজেদের হাতে সামলাচ্ছেন আবাসিকরা। পুজো আদ্রার মণিপুর লেপ্রসি রিহ্যাবলিটেশন সেন্টারের কর্ণধার নবকুমার দাস বলেছেন, ২০০২-০৩ আর্থিক বছর থেকে সরকারি তত্ত্বাবধানে তাঁদের এই হোম চললেও আগে কোনও পুজোতে তিনি হোমে এত আনন্দ, এত খুশি দেখেননই। তাঁর কথায় দেবীর আগমনের বার্তায় সমগ্র হোমের চেহারাটাই বদলে গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন আগে এই হোমের আবাসিকদের আগে পুজো দেখতে গিয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হত এখন সেটা দূর হবে।

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো যাদের আগে কুষ্ঠ হয়েছিল তাঁদের সন্তানরাও এই হোমে থাকেন। বর্তমানে হোমে প্রায় ১৫০ জন মানুষ থাকেন। যাঁদের পরিবার ফিরিয়ে নেয় না বা তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই তাঁরাই এই হোমে থাকেন বলে জানিয়েছে হোম কর্তৃপক্ষ। ‘এবার মা উমা আসছেন। আমাদের যে কী আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না।’ বলছেন হোমেরই এক আবাসিক।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের মুখেই বিধাননগরের সিপি বদল কমিশনের, সরানো হল মুরলীধরকে

বুথে যেতে অপরাগ! বাড়িতেই ভোট দিলেন শতায়ুরা, রয়েছে আবেদন বাতিলের অভিযোগও

মালদা টাউন স্টেশন থেকে ২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

ভোটার লিস্টে শিক্ষিকার নাম নেই, কিন্তু এসেছে প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটির নোটিশ

‘৪ তারিখের পর সব অত্যাচারের হিসেব হবে’, সবং থেকে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ