চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় কড়া নজরদারি, স্কুলগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিটে উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের প্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের নম্বর প্রদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠে আসছে। কখনও অন্যায্য সুবিধা দেওয়া, আবার কখনও অকারণে নম্বর কেটে নেওয়ার অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নিয়ামক সংস্থা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার থেকে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় স্কুলগুলিতে আচমকা পরিদর্শনে যেতে পারেন সংসদের প্রতিনিধিরা। জেলাগুলিতে এই পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকতে পারেন ডিআইরা, আর কলকাতার স্কুলগুলিতে পরিদর্শনে যেতে পারেন সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকারসহ শীর্ষ আধিকারিকরা।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণির দুই সেমিস্টার মিলিয়ে মৌলিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রায়োগিক বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকে ৩০ নম্বর। অন্যদিকে কলা বিভাগের বিষয়গুলিতে ২০ নম্বরের প্রোজেক্ট থাকে। আগে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের বিষয়েই প্র্যাকটিক্যালের জন্য ২০ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ ছিল, আর কলা বিভাগের বিষয়গুলির মূল্যায়ন হত পুরোপুরি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে প্রোজেক্ট ও প্র্যাকটিক্যালের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ফের দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস! জেনে নিন ভিজবে কোন জেলাগুলি..

তবে এই প্রোজেক্ট ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সমস্ত দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট স্কুলের উপরেই। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে মূল্যায়ন ও নম্বর দেওয়া-সবকিছুই করেন সেই স্কুলের শিক্ষকরা। এখানে কোনও বহিরাগত শিক্ষক বা সংসদের মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকে না। ফলে অনেক সময়ই মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

এক শিক্ষক জানান, অনেক শিক্ষকই স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত টিউশনও করান। ফলে যেসব ছাত্রছাত্রী তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের অনেক সময় বেশি নম্বর দেওয়া হয় বা পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। অন্যদিকে যারা টিউশন নেয় না, তাদের নম্বর অকারণে কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এই ব্যবস্থায় নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার বলেন, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে আচমকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারণ বর্তমানে এই পরীক্ষাগুলিতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নম্বর বরাদ্দ থাকে।

যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংসদ সভাপতি যে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার উপর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। অনেক সময় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের চাপে পড়ে স্কুলগুলিকে ফুল মার্কস দিতে হয়, যা সঠিক মূল্যায়ন নয়। আবার অনেক পরীক্ষার্থী প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে অনুপস্থিত থাকে। পরে তাদের জন্য আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রজেক্ট জমা দিতে দেরি করে ছাত্রছাত্রীরা। এই ধরনের প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আগামী ২ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পাশাপাশি একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাকেও আরও গুরুত্ব দিতে চায় সংসদ। বর্তমানে একাদশের পরীক্ষার নম্বর উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত ফলে যোগ হয় না। প্রশ্নপত্র তৈরি, পরীক্ষা পরিচালনা এবং ফল প্রকাশ-সবই স্কুলগুলির উদ্যোগে হয়। ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী এই পরীক্ষাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। তাই আপাতত নিয়মে বড় পরিবর্তন না এনে প্রশ্নপত্র তৈরিতে নজরদারি এবং পরীক্ষার সময় পরিদর্শনের মতো পদক্ষেপ নিয়ে এই পরীক্ষাগুলিকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা করছে সংসদ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

হলফনামায় ত্রুটি, গায়িকা-তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

‘‌মহিলা বিলকে পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে জোড়া হল কেন?’‌ কেন্দ্রকে কড়া প্রশ্নবাণ মমতার

‘নির্লজ্জ অর্থমন্ত্রী এসে কার্ড বিলি করছে’, মাথাভাঙা থেকে নিশানা মমতার

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

‘‌যারা বলছে তাড়িয়ে দেব, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাব’‌, তোপ মমতার

ভোটমুখে বড় সাফল্য নবদ্বীপ থানার পুলিশের, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সহ গ্রেফতার ১

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ