এই মুহূর্তে

এসআইআর পর্বে বাংলার ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা, গবেষণা রিপোর্টে পর্দা ফাঁস

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেই বাংলায় চলছে এসআইআর পর্ব। আর তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে রাজ্য–রাজনীতিতে। এই নিয়ে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। ইতিমধ্যেই তা প্রচারে তুলে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি আজ বাংলার মানুষকে ধনে–প্রাণে মারতে চাইছে বলেও দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–মন্ত্রীদের। আর এই এসআইআর পর্বে বাংলার বৈধ নাগরিকদের দূর–দূরান্তে শুনানিতে ডেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য বলছে, এসআইআর পর্বে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষের প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা নিয়ে এখন আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

এদিকে এসআইআর নিয়ে তাড়াহুড়ো করে শুধু দীর্ঘ লাইনের দুর্ভোগই দেখা গিয়েছে তা নয়, মানুষকে অসহনীয় অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি কলকাতার এক সংস্থা তাদের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট তুলে ধরেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা প্রায় দেড় কোটি ভোটারের পরিবারগুলির উপর প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি নেমে এসেছে। শুনানির জন্য তলব করা প্রত্যেক ব্যক্তির যাতায়াত, খাবার এবং নথিপত্র তৈরি করার জন্য অন্তত ১০০ টাকা গাঁটের কড়ি খরচা হয়েছে। আর এসআইআরের কাজে নিযুক্ত থাকার জেরে প্রশাসনিক খরচও বেড়ে গিয়েছে। অনেক শিক্ষক বিএলও ডিউটিতে থাকায় স্কুলশিক্ষার মতো সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে এই গবেষক সংস্থার পক্ষে সাবির আহমেদ, আশিন চক্রবর্তী এবং সৌপ্তিক হালদার তথ্য বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিয়েছেন, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা সবথেকে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁরা তিনটি বিকল্প প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে আয়ের ক্ষতির অঙ্ক নির্ধারণ করেছেন। নোটিস পেয়ে একজন ব্যক্তির সঙ্গে গড়ে পরিবারের একজন সদস্য এসেছিলেন। ১.৫ কোটি মানুষকে ডাকা হয়েছিল। তাই উপস্থিতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি। বাংলার জিডিপির উপর ভিত্তি করে এখন আর্থিক বছরের জন্য একজন শ্রমিকের বার্ষিক আয় অনুমান করা হয়েছে ২০৪,৭৮১ টাকা। তার ফলে গড় দৈনিক আয় দাঁড়ায় ৫৬১ টাকা। দু’জনের ১,১২২ টাকা ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ ১.৫ কোটি মানুষের মোট ক্ষতির পরিমাণ ১,৬৮৩ কোটি টাকা। ৩০০ কোটি টাকার ব্যক্তিগত খরচ যোগ করলে (মাথাপিছু মাত্র ১০০ টাকা ধরে) মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৯৮৩ কোটি টাকা।

এছাড়া গবেষকরা মাথাপিছু আয় গণনার ক্ষেত্রে আরও দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। একটি হল রোজ ২৬০ টাকা এমজিএনআরইজিএ মজুরির উপর ভিত্তি করে এবং অপরটি গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার গড় ন্যূনতম মজুরির হারকে প্রতিফলিত করে দৈনিক ৪০০ টাকা। এসআইআর শুনানিতে সমস্ত অংশগ্রহণকারী দৈনিক ২৬০ টাকা আয় করতেন, তাহলে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হত ১,০৮০ কোটি টাকা। আর যাঁরা দৈনিক ৪০০ টাকা আয় করতেন, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, এসআইআর শুনানির জন্য ৮৮,১০০ জন কর্মীকে নিয়োগ করা হয়। যার মধ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথস্তরের কর্তা এবং ৮,১০০ জন মাইক্রো–অবজার্ভার অন্তর্ভুক্ত। ৯০ দিনের জন্য এই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করার অর্থ হল—সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া। সুতরাং প্রশাসন পরিচালনায় বড় ক্ষতিও মানতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, কোথায় কোথায় মোতায়েন হবে?

‘‌মৃত্যু পর্যন্ত মমতার পাশে থাকব’‌, ধর্নামঞ্চে আক্রমণ শানালেন জয় গোস্বামী

মহিষাদলে ২ স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, ধরা পরলে গণপ্রহার, উদ্ধার করল পুলিশ

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বোমাতঙ্ক, ঘটনাস্থলে বম্ব স্কোয়াড

পরিত্যক্ত ট্রাফিক বুথে পড়ে রয়েছে ভবঘুরের নিথর দেহ, চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে

‘‌আমার সিঙ্গুর–নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে’‌, কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী?‌

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

ISL 2025-2026
Live Score Mohun Bagan Super Giant vs Odisha FC 4 - 1
Goals
Goal By Jamie Maclaren 14' & 24'
Live Score 4 - 1
Match Status
Loading...
Powered by Ei Muhurte