চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

পুরুলিয়ার কাটাচুয়ার জঙ্গল থেকে ঝাড়খণ্ডে ঢুকে পড়েছে ‘জিনাত’ , সতর্ক বন দফতর

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ‘জিনাত ‘নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে বন দফতরকে। পুরুলিয়ার কা কাটাচুয়ার জঙ্গল থেকে ঝাড়খন্ডের(Jharkhand) দিকে আরো প্রায় ১০ -১২ কিলোমিটার এগিয়ে গেল বাঘিনী ‘জিনাত’ । ঝাড়গ্রাম বনাঞ্চলে ঢুকে পড়া বাঘিনীর খোঁজে এখন জোর তল্লাশি চলছে ময়ুরঝর্ণা ও কাঁকড়াঝোড়ের জঙ্গলে। আজ সকাল ৬ টায় শেষবার তার রেডিও কলার লোকেশান পান বন দফতরের কর্মীরা। তার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। একই সঙ্গে বাংলা, ঝাড়খন্ড ও ওড়িশা তিন রাজ্যের বন কর্মীরা তন্নতন্ন করে বাঘিনীর খোঁজ চালাচ্ছে ময়ুরঝর্ণা ও কাঁকড়াঝোড়ের জঙ্গলে। রেডিও কলার ট্র‍্যাকার এন্টেনা নিয়ে ৬ টি টিম জঙ্গলে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় চলছে সতর্কতা ঘোষণা। জঙ্গলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় এলাকার জঙ্গলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন দফতর। রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম পেরিয়ে পুরুলিয়ায় বান্দোয়ানে ঢুকে পড়েছিল ‘জিনাত ‘। পুরুলিয়ার বন্ধনের এক নম্বর বনাঞ্চলের ঘাঘরাতে তার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সোমবার দুপুরের পর থেকে সে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোতে শুরু করে। এদিকে বন দফতরের রেডিও কলার জানাচ্ছি যমুনা বাংলায় নেই সে রয়েছে বালাসোরের জঙ্গলে। অপরদিকে ‘জিনাত’ ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে প্রবেশ করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ওড়িশার বাঘিনী যমুনা বাংলার বেলপাহাড়িতে প্রবেশ করার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকার বাসিন্দারা। মাইকিং করে বন দপ্তরের সতর্কতামূলক প্রচার চালায় বন দফতরের আধিকারিকরা। বাঘিনী জিনাতের পর এবার বাঘিনী যমুনা উড়িষ্যার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে নতুন জায়গার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।

বাঘিনী যমুনা বেশ কিছু সময় পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর দুই ব্লকের বেলপাহাড়ি থানার অন্তর্গত শিমুলপল গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় ছিল । যা চিন্তায় ফেলেছিল বনকর্তাদের। বাঘিনী জিনাত এবং বাঘিনী যমুনা উভয়কেই আনা হয় মহারাষ্ট্রের তাডবা অন্ধেরি টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে। বাঘিনী যমুনা উড়িষ্যার সিমলিপালের থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কুলডিহা ওয়াইল্ড সেঞ্চুরির দিকে ডিসেম্বর এর ১৫ তারিখ বেরিয়ে যায়। বাঘিনী যমুমা কে আনা হয়েছিলো ৯ নভেম্বর। ছাড়া হয় জনাবিল এর কোর এরিয়ায়। উড়িষ্যার সিমলিপাল বাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর প্রকাশ চাঁদ গোগিনানি ব্রাঘ্রপ্রকল্প থেকে বাঘিনী যমুনা বেরোনোর কথা স্বীকার করলেও তার গতিবিধির কথা বলতে নারাজ। ঝাড়খন্ড রাজ্যের বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী চাকুলিয়া বনবিভাগের রাজাবাসার জঙ্গলে বাঘিনী জিনাতকে এখনো উড়িষ্যা ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের বন বিভাগের আধিকারিকরা ধরতে পারেনি। এবার বাংলায় ফের বাঘ। তবে এটি বাঘিনী জিনাত নয়, এই বাঘিনী যমুনা। উড়িষ্যার সিমলিপালের টাইগার রিজার্ভ ফরেষ্ট থেকে বেরিয়ে এবার বাংলার বেলপাহাড়ি থানার শিমূলপাল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ছিল। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি থানারবাংলা, ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী গোটাশিলা পাহাড় লাগোয়া কাটাচুয়া জঙ্গলে গত দুদিন অবস্থান করছে বাঘিনী যমুনা, যা লোকালয় থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। বেলপাহাড়ি থানার(Belpahari P.S.) শিমূলপাল অঞ্চলের কাটাচুয়া, জোড়মা, বিরমাদল, শাখাভাঙা, জাম্বনী, মাছকাঁদনা এলাকার বাসীন্দাদের শুক্রবার সতর্ক করা হয়। বন দফতর এবং পুলিশের তরফ থেকে গ্রামবাসীদের সতর্ককরে শুক্রবার দুপুরে মাইকিং করে প্রচার চালানো হয়। গ্রামবাসীদের জঙ্গলে যেতে যেমন নিষেধ করা হয়, তেমনি বাড়ির বাইরে বের হতে ও নিষেধ করা হয়। পাশাপাশি ঝাড়খন্ড রাজ্যের ঘাঘরা, পাকুড়িয়া এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঝাড়খন্ড ও পশ্চিম বঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামবাসী দের শুক্রবারজঙ্গলে শুকনো কাঠ, পাতা কুড়াতে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বন দফতর। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাঘিনী যমুনাকে ধরার জন্য এলালয় খাঁচা নিয়ে যাওয়া হয়। ড্রোন উড়িয়ে বাঘিনী যমুনার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে বন দফতর। ওই বাঘিনী কে ধরার জন্য সুন্দরবন থেকে এক্সপার্ট নিয়ে আসা হয়।উড়িষ্যা রিজার্ভ ফরেষ্ট এর এসটিআর টিম ও পৌছেছে এলাকায়। বাংলা ও উড়িষ্যার বন দফতরের পক্ষ থেকে যৌথ ভাবে নজরদারি শুরু করা হয়। তবে বাঘিনী যমুনা বেলপাহাড়ি থানার শিমুলপাল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রবেশ করায় ওই এলাকার গ্রামবাসীরা বাঘিনী যামুনার আতঙ্কে যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ঘটনাস্থলে উড়িষ্যা ও বাংলার বন বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ওই এলাকাকে ঘিরে রাখে। পর্যটকদের ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়। পর্যটনের ভরা মরশুমে বেলপাহাড়ী থানা এলাকায় বাঘিনী যমুনা চলে আসায় রীতিমতো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাঘিনীকে ধরার জন্য শুক্রবার সারা রাত ধরে বন দফতর এর পক্ষ থেকে নজর দারি চালানো হয়। তাই বাঘিনীকে টোপ দিয়ে খাঁচাবন্দি করার জন্য একটি খাঁচা নিয়ে আসা হয়, সেই সঙ্গে আনা হয় দুটি মোষ শাবক ও একটি ছাগল। বাঘিনীকে ধরার জন্য ঘুমপাড়ানি বন্দুক হাতে মোতায়েন করা হয় বন দফতরের কর্মীদের। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডি এফও উমর ইমাম জানান, বেলপাহাড়ি থানার ওই গ্রামগুলির বাসিন্দাদের জঙ্গল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়, গ্রামবাসীদের যে কোন প্রয়োজন হলে রেঞ্জার ও বিট অফিসার কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই এলাকায় উড়িষ্যা ও বাংলার বন বিভাগের আধিকারিকরা ছিলেন। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা, শুক্রবার সারারাত নজর দারি চালানো হবে বলে তিনি জানায়। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, বাঘ ধরার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছুই প্রস্তুত রাখা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর দুই ব্লকের বেলপাহাড়ি থানা এলাকায় একটি বাঘিনী প্রবেশ করার পর ঘটনাস্থলে বন দফতরের আধিকারিকেরা পৌঁছে যান। প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়। ওই এলাকার গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সর্বশেষ জানা গিয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের মুখেই বিধাননগরের সিপি বদল কমিশনের, সরানো হল মুরলীধরকে

বুথে যেতে অপরাগ! বাড়িতেই ভোট দিলেন শতায়ুরা, রয়েছে আবেদন বাতিলের অভিযোগও

মালদা টাউন স্টেশন থেকে ২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

ভোটার লিস্টে শিক্ষিকার নাম নেই, কিন্তু এসেছে প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটির নোটিশ

‘৪ তারিখের পর সব অত্যাচারের হিসেব হবে’, সবং থেকে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ