বড়লাট হেস্টিংস গঙ্গায় ফেলে দিতে চেয়েছিলেন এই শিবলিঙ্গ

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবাদিদেব মহাদেব আদি, তিনিই অন্ত। তিনিই স্বয়ম্ভূ। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, ব্রহ্মা ও বিষ্ণুও স্বযং মহেশ্বরের আদি ও অন্ত খুঁজে পাননি। তিনি বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে আবির্ভূত হয়েছেন। কথিত আছে, সারা ভারত জুড়ে তাঁর বারোটি মুখ্য জ্যোতির্লিঙ্গ আছে, যাঁদের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ বলা হয়। তবে, বঙ্গদেশের উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণেশ্বরের পার্শ্ববর্তী আড়িয়াদহে গঙ্গার তীরে দেবাদিদেবের এমন এক প্রাচীন শিবলিঙ্গ বর্তমান, যা কোনও অংশেই কোনও জ্যোতির্লিঙ্গের চেয়ে কম নয়। যা দেখলে মহাদেবের ভক্তরা সত্যিই বিস্মিত হবেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই মন্দিরটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়নি। জনশ্রুতি রয়েছে, এই শিবলিঙ্গ প্রায় ২০০০ বছরের অধিক পুরনো। দেবাদিদেব এই স্থানে দক্ষিণেশ্বর বুড়ো শিব নামে বিরাজমান।  তাঁর নামানুসারেই এই স্থানের নামকরণ হয়েছিল দক্ষিণেশ্বর।

এই বুড়ো শিবের উৎপত্তির কাহিনী রীতিমতো অবাক করে দেয় ভক্তদের। কথিত আছে, দক্ষিণেশ্বর বুড়োশিব স্বয়ম্ভূ। প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, রাজা হোসেন শাহের আমলে এক শিবভক্ত ব্রাহ্মণ স্বপ্নে দেখেন যে, মহাদেব তাঁকে কিছু বলছেন। তিনি দেখতে পান, মহাদেব তাঁকে বলছেন যে, “অনেকদিন গঙ্গার ধারে জঙ্গলের মধ্যে রয়েছি। এবার একটু সেবার ব্যবস্থা কর।” পরদিন ওই ব্রাহ্মণ সকাল সকাল গঙ্গাপারে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে সত্যিই একটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। ব্রাহ্মণের মুখ থেকে এই কথা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই শিবলিঙ্গের পূজার ব্যবস্থা করেন। মন্দিরের প্রধান সেবায়েত শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষাল জানান, বর্তমান মন্দিরটি নাকি আনুমানিক ৪৫০ বছর পূর্বে বাণরাজার আমলে তৈরি করা হয়েছিল। মন্দিরের ফলকেও এমনটাই লেখা আছে। এমনিতে আড়িয়াদহ শ্মশান ঘাট অত্যন্ত পুরোনো। তার ঠিক পাশেই এই প্রাচীন মন্দির। তাই যে সময়েই তৈরি হোক না-কেন, সময়ের ঘাতে বহুবার এই মন্দির নষ্ট হয়েছে। মন্দিরের প্রধান সেবায়েতের তরফে পাওয়া তথ্যানুসারে জানা যায়, এই মন্দির ১৯৯০ সালে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, মহেশ্বরের স্বপ্নাদেশ অনুসারেই এই মন্দিরের কোনও চূড়া নেই। এই বুড়ো শিব মন্দিরের ঠিক উত্তর দিকেই অবস্থিত বাণেশ্বর।কথিত আছে, প্রায় ৪৫০বছর পূর্বে ঊমাচরণ দে নামে এক জমিদার বারাণসী থেকে এই বাণেশ্বর শিবকে এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বুড়ো শিবকে নিয়ে অলৌকিক কাহিনীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। তার মধ্যে অন্যতম ঘটনাটি হল বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংসের  জমানার। সেই সময় যেহেতু ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী কলকাতা, তাই হিন্দুবিদ্বেষী হেস্টিংস সাহেবের কানে দক্ষিণেশ্বর বুড়োশিবের সম্পর্কে নানা অলৌকিক কাহিনী পৌঁছাতেই তিনি নিজেই চলে এসেছিলেন বুড়োশিবের মন্দিরে ভক্তদের বিশ্বাস ভাঙাতে। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই পাথর বা শিবলিঙ্গ তুলে পাশে গঙ্গায় ফেলে দিতে। জানা যায়, হেস্টিংস বাহিনী যতই মাটি খোঁড়ে, শিবলিঙ্গের আর তল খুঁজে পায় না। এদিকে বড়লাটের নির্দেশ বলে কথা। কর্মীরা অমান্যও করতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত অনেক খোঁড়াখুঁড়ি করার পর ব্যর্থ হল হেস্টিংস সাহেবের বরকান্দাজরা। এরপর বড়লাটের ভুল ভাঙল। তিনি মহেশ্বরের অলৌকিক ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে বিষণ্ণ মনে ফিরে গেলেন।

প্রতি বছর শিবরাত্রি ও গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে অসংখ্য ভক্তের ভিড় হয় এই মন্দিরে। জনশ্রুতি আছে, স্বয়ং রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ ও আরও বহু সন্ন্যাসী এসেছিলেন এই মন্দিরে। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবা বুড়ো শিব সকলের মনস্কামনা পূরণ করেন। বাবা সকলকে মোক্ষ দান করেন। প্রতি বছর শ্রাবণের শেষ সোমবার বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করা হয় এই মন্দিরে। ভক্তরা বাবার কাছে এসে মাথায় জল ঢেলে হোমে আহূতি দিয়ে বাবাকে মনের ইচ্ছা জানান। এই মন্দিরের ঠিক বিপরীতেই আছে মুক্তকেশী কালীমাতার মন্দির। ভক্তরা শ্রী বুড়ো শিবকে দর্শন করে একেবারে মা মুক্তকেশীকে দর্শন করে ফেরেন। এই মন্দিরে কালসর্প যোগ, সাড়ে-সাতি, মাঙ্গলিক দোষ ও বিভিন্ন গ্রহদোষ খণ্ডন করানো হয়।

বাবা বুড়ো শিবকে দর্শন করতে ইচ্ছুক ভক্তরা দক্ষিনেশ্বর থেকে টোটো বা ই-রিক্সা ধরেও এই মন্দিরে আসতে পারেন, আবার যারা উত্তরপাড়ার দিক থেকে আসতে চান, তারা ফেরী পার করে অনায়াসে এই মন্দিরে পৌঁছে যাবেন।

সফল হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরও কেন পাতলা হয়ে যাচ্ছে চুল?

চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ১৭ জনের, আহত ৪৫

নিয়মিত পিরিয়ড মানেই কি সুস্থতা? অলক্ষ্যেই বাসা বাঁধতে পারে PCOS

বৃষ্টির মধ্যেই কলকাতায় এলেন অমিত শাহ, রবি সকালে যাবেন বেলুড়ে

কোথায় ছুটি কাটাবেন? ঘুরে আসুন শিলংয়ের নীল উপত্যকা ‘ক্রাংশুরি’

পদপিষ্টের ঘটনার পর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করা হল চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপ

চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে আহত ৩৫, তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

জল্পনার অবসান, ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় বসছে আইপিএলের মিনি নিলামের আসর

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যা মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের

আগরকরের বিকল্প খুঁজে পেল বোর্ড, কে হচ্ছেন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান?

বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টির কারণে ঢেকে দেওয়া হল পিচ, টস হতে দেরি

পুজোয় জমিয়ে খাওয়াদাওয়া, তারপরই গ্যাস-অম্বল? সুস্থ থাকতে রইল পরামর্শ

বাড়ির দেওয়ালে এই ৪ রং করাচ্ছেন? বড়সড় বিপদে পড়ার আগে সাবধান!

মহীশূর প্যালেসের আদলে সেজেছে হাসনাবাদের পুজোমণ্ডপ, নজর কাড়ছে আলোকসজ্জা