এই মুহূর্তে

প্রধানমন্ত্রীকে বয়কট করল দলের কর্মীরাই, কথা না শুনে চেয়ার ফাঁকা করে চম্পট

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে আজ, শনিবার ব্রিগেডে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলা নিয়ে নানা কথা এবং গ্যারান্টির কথা বলেছেন। কিন্তু বিজেপি কর্মীরাই যেন বয়কট করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রীকে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ডাক দেওয়া হয়েছিল ‘‌বয়কট বিজেপি’‌। এবার সেই ছবিই ধরা পড়ল। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে সেই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, সাধারণ মানুষ তো যোগ দেননি, উলটে কর্মী–সমর্থকরা দূর–দূরান্ত থেকে এসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ না শুনে পিকনিক মুডে চেয়ার ফাঁকা রেখে হাঁটা লাগালেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শনিবারের ব্রিগেড সভাকে ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘিরে তৈরি রাখা হয় বহুস্তর নিরাপত্তা বলয়। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে ছিলেন এডিজি (কোস্টাল) হরিকিশোর কুসুমাকার। আজ শহরে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিল। ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকা একাধিক সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়। প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার একজন করে অফিসার। কয়েকটি সেক্টর মিলিয়ে একটি জোন তৈরি করা হয়। প্রত্যেকটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম কমিশনার (জেসি) পদমর্যাদার অফিসাররা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্রিগেড ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ বাহিনী মোতায়েন ছিল। তাঁদের সূত্রেই খবর, ভিড় সামনে ছিল। পিছন থেকে কর্মীরা চেয়ার ফাঁকা করে অন্যত্র চলে যায়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এলেন, একগুচ্ছ মিথ্যাচার করলেন, চলে গেলেন। ২০১৪ সাল থেকে যেভাবে দেশবাসীকে বোকা বানাচ্ছেন, সেই ধারা অব্যাহত রেখেই মিথ্যের ফুলঝুরি, অপপ্রচার চালিয়ে গেলেন। বাংলা দখলের নেশায় মত্ত হাতির মতো আচরণ এখন বিজেপির বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এবার ১৮ হাজার কোটি টাকার নতুন ললিপপের আমদানি করেছেন মোদিবাবু। এই প্রকল্প কবে হবে, কীভাবে হবে কেউ জানে না। বাংলার মানুষকে নির্বাচনের আগে রাজনীতির পর্যটক হিসেবে ফের একবার স্বপ্নের বুদবুদের মধ্যে ফেলতে চাইছেন মোদি বলে কটাক্ষ করেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। আর বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা আছে বলে বিজেপি নেতারা দু’‌দিন ধরে দাবি করলেও ফাঁকা চেয়ারের সারি দেখা গেল।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছিল। তাই রাস্তা দিয়ে আপন গন্তব্যে ফিরে যেতে দেখা গেল বিজেপি কর্মীদের। আর তাই চেয়ার ফাঁকা পড়ে রইল বিজেপির মেগা সভাতে। বরং আজ এই সভা করতে আসা কিছু কর্মী রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে এবং তাঁর উপর হামলা চালায়। তাই নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। আর শশী পাঁজা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী নারী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন কোন মুখে? আজকে মিঠুন চক্রবর্তী যা বলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে, এটা কোনও বিজেপি নেতার ভাষা হতে পারে? তাছাড়া উন্নাও, হাথরস, বিলকিস বানুর মতো ঘটনা–সহ একের পর এক অপরাধ হয়ে চলেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। আগে নিজেরা আয়নার দিকে তাকান, তারপর বাংলার দিকে আঙুল তুলবেন।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কোথায় নাগরিকত্ব?‌ মুখে কুলুপ মোদির, মহামেলার প্রাক্কালে হতাশ মতুয়ারা

রান্নার গ্যাসের সমস্যা নিয়ে মুখে কুলুপ মোদির‌, গাড়ি ভর্তি সিলিন্ডার বিজেপির ক্যাম্পে

শনিবার তো কি হয়েছে! মোদির সভায় সুপারহিট চিকেন ভাত

জল্পনার অবসান, ‘বামপন্থী’ নারায়ণ ডাক্তার ডিগবাজি খেয়ে ‘রামপন্থী’

‘‌বঙ্কিম দা’‌–‘‌স্বামী রামকৃষ্ণের’‌ পর ‘‌লোকমাতা রানী রসমণি’‌, নয়া নামকরণে মোদি

মোদির সভায় যাওয়ার আগে মদের বোতল কিনল কর্মীরা, ভিডিও ভাইরাল তৃণমূলের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ