চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জমিতে কীটনাশক, খাদ্যের অভাব, কৈলাস ছেড়ে আর মর্ত্যের বুকে আসছে না নীলকণ্ঠরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজয়ায় নীলকন্ঠ পাখি উড়িয়ে একসময় মাকে পরের বছর আসার জন্য আগাম নিমন্ত্রণ জানাতেন রাজারাজরা। নীলকন্ঠ পাখি নাকি কৈলাসের দূত। উমা পিতৃ গৃহে চারদিন কাটিয়ে যাত্রা করেছেন পতিগৃহে, এই খবর শঙ্করকে দিয়ে আসে নীলকন্ঠ পাখি। এসব অনেককাল আগের কথা। বর্তমান সময়ে নীলকন্ঠ পাখি ধরে রাখা আইনত অপরাধ। একটা সময় ছিল যখন নীল আকাশ ভেদ করে ডানায় ভর দিয়ে নেমে আসত নীলকন্ঠ পাখিরা। আশ্বিন মাসে যখন জমিতে সবুজ সোনার ফসল হাওয়ায় দোলা খেত, তখন সেই জমিতে থাকা কীট পতঙ্গ দিয়ে পেট পুজো সারত নীলকন্ঠ পাখিরা।

ধানি জমিতে সেভাবে কীটনাশক প্রয়োগ হতো না তখন। জমিতে খেলে বেড়াতো নানা ধরনের পোকামাকড়, ইতিউতি জল জমলে তাতে ভাসত ছোট বড় নানা আকারের মাছ। ফলে নীলকণ্ঠ পেট পুরে ভোজন করে তবেই যাত্রা করতো কৈলাসের দিকে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির বদল হয়েছে। এখন জমিতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে নীলকন্ঠ পাখিদের খাবারের অভাব দেখা দিচ্ছে, তারা বাসস্থানও হারিয়ে ফেলছে। নীলকন্ঠ পাখিরা সাধারণত পুরনো প্রাচীন গাছে ঘর বাঁধতে পছন্দ করে। সেই গাছই বা এখন কোথায়? হাতেগোনা সংখ্যায় থাকা সেই সব প্রাচীন বৃক্ষেও আজকাল আর হয় না নীলকন্ঠদের আনাগোনা। ফলে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে নীলকন্ঠ পাখির সংখ্যা।

একটু যারা বয়স্ক তাদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে প্রায়ই শোনা যায় শরৎকাল মানেই নীলকন্ঠ পাখির আগমন। তারা আকাশে উড়ছে মানেই মা দুর্গা তার চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে আসছেন পিতৃগৃহে। নীলকণ্ঠ জমিতে এসে পেটপুজো সারছে মানেই নতুন জামার গন্ধ, প্রচুর প্যান্ডেলে হাঁটাহাঁটি, কলার পাতায় বসে সবাই পাত পেরে বসে সকলে মিলে খিচুড়ি ভোগ খাওয়া। আবার উমা যে কৈলাসে ফিরছেন সেই বার্তাও নিয়ে যেত এই নীলকন্ঠ পাখি। ফলে হিন্দুদের কাছে এই পাখির গুরুত্ব অনেক বেশি।

আগে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের সময় নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হত। সেই সব দৃশ্য এখন অতীত, তাই বহু জমিদার বাড়িতে এখন নীলকন্ঠ পাখির আদলে মাটির পাখি তৈরি করা হয়। বনদফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন মানব সভ্যতা উন্নতি করছে ঠিকই, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে পাখির সংখ্যা। খাবারের অভাব দেখা যাচ্ছে জমিতে। কীটনাশক ছড়িয়ে ফসল চাষ হচ্ছে। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে পাখিদের সংখ্যা।

সেই সঙ্গে উঠে আসছে চোরাকারবারি তথ্য। আগে পুজোর সময় নীলকন্ঠ পাখি ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখত চোরাশিকারিরা। এই পাখি এমনিতেই খুব কম দেখা যায়। তাঁর মধ্যে চোরাশিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে ধরা পড়ে নীলকন্ঠরা। এমনিতে কৃষকবন্ধু পাখি নীলকণ্ঠ পাখি। এরা জমির পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ খেয়ে জমিকে আরও উর্বরা করে তোলে। নীলকন্ঠ পাখি কমে যাওয়াতে এখন কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শরৎকালে যে পাখি দেবী মহামায়ার আগমনের অনন্য বার্তা বয়ে আনত তা এখন যেন ইতিহাসে পরিণত হচ্ছে।

এখনও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বেশ কিছু জমিদার বাড়িতে নীলকন্ঠ পাখি আনা হয়। বিজয়া দশমীতে সেই পাখি ওড়াতে পারেন যারা তারা নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করেন। সেই সঙ্গে নিজে থেকেই জোড় হাত উঠে যায় কপালে, উচ্চারিত হয় ‘পরেরবার একটু তাড়াতাড়ি এসো মা’।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাড়ি বাড়ি নয়, লন্ড্রিতে বসেই চলল ভোটার স্লিপ বিলি, চাঞ্চল্য বারাসতে

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, কী কারণ?

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড আলিপুরদুয়ার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিলিং ভেঙে আহত ২বিডিও

বাইকই ভরসা! কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ

তৃণমূল প্রার্থী-ভোট ম্যানেজারদের প্রয়োজনে আটকে রাখার নির্দেশ কমিশনের

ভোটের মুখে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, কীভাবে দেখবেন?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ