এই মুহূর্তে

‘‌সৈকত পরিষ্কার আমাদের অঙ্গীকার’‌, গঙ্গাসাগর ঝাঁটা হাতে সাফাই করলেন ৬ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেখানে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পর সৈকত নোংরা হয়ে যায়। কে পরিষ্কার করবে?‌ এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার সেখানে উঠল একটি স্লোগান—‘‌সৈকত পরিষ্কার আমাদের অঙ্গীকার’‌, এই বার্তাকে দিয়েই গঙ্গাসাগর মেলায় এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল। মেলা শেষের পর সমুদ্র সৈকতে ঝাঁটা হাতে নেমে পড়লেন রাজ্যের ৬ জন মন্ত্রী। যা দেখে স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে আসেন। আর সকলেই ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রত্যেকবার এই সৈকত পরিষ্কার করে স্থানীয় পৌরসভার সাফাই কর্মীরা। সেখানে এবার মাঠে নেমে পড়লেন খোদ মন্ত্রীরা।

এদিকে কোনও কাজই ছোট নয় বলে মনে করেন রাজ্যের এই ৬ মন্ত্রী। তাই প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেরাই হাতে–কলমে সৈকত পরিষ্কারের কাজে অংশ নিলেন তাঁরা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমে গঙ্গাসাগর মেলায় বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমে ওঠে। প্লাস্টিক, থার্মোকলের প্লেট, খাবারের প্যাকেট–সহ নানা বর্জ্যে ভরে যায় বেলাভূমি। সাগর সৈকত পরিষ্কার রাখতেই দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই ছিল প্রশাসনের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যকে আরও জোরালো করতে মন্ত্রীদের এই প্রতীকী উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ৬ মন্ত্রী হলেন, রাজ্যের বিদ্যুৎ ও আবাসন দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী, পুলক রায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রী, কৃষি ও বিপণন বিভাগের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।

অন্যদিকে মন্ত্রীদের সঙ্গে অন্যান্য আধিকারিকরা। সেখানে কাজে লেগে পড়েন। ঝাঁটা হাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগ দেন প্রশাসনের আধিকারিক, সাফাই কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও। সমুদ্র সৈকত জুড়ে চলে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ। আর সেই কাজ করে খুশি মন্ত্রীরাও। এখানে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সব সরেজমিনে খতিয়ে দেখে গিয়েছিলেন। গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করতে এসে মেলা শেষের পর যাতে সৈকত পরিষ্কার থাকে সে কথা বলে গিয়েছিলেন। এই বিষয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য, ‘‌গঙ্গাসাগর শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। সৈকত পরিষ্কার রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।’‌

এছাড়া ঝাঁটা হাতে মন্ত্রীদের সেই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে নেটিজেনরাও ভয়সী প্রশংসা করেছেন। আর মন্ত্রীরা মনে করেন, এভাবে তাঁদের দেখে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নের বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের কাছেও এবং সেটাই তাঁরা পৌঁছে দিতে চান। এই বিষয়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘‌ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী এই গঙ্গাসাগরে এসেছেন। পুণ্যার্থীরা জানিয়েছেন গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় মেলা। মানুষ স্বীকৃতি দিয়েছে আমাদের আর কারও স্বীকৃতির প্রায়োজন লাগে না। পুণ্যার্থীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। মন্ত্রীদের এমন উদ্যোগ দেখে সাধারণ মানুষও ভবিষ্যতে সৈকত নোংরা না করার বিষয়ে আরও সচেতন হবেন। গঙ্গাসাগর মেলা এখন শেষ। তাই শুধু পুণ্যের স্মৃতিই নয়, পরিবেশ রক্ষার এক ইতিবাচক বার্তাও রাখতে চাই আমরা।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাড়ির বাইরে রাখা চাবি ব্যবহার করে জমি কেনার টাকা নিয়ে চম্পট চোরের

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, এবার গণ ইস্তফা দিনহাটার বিএলওদের

জোর ধাক্কা হুমায়ুনের, জানুয়ারিতে ব্রিগেডে সভার অনুমতি দিল না সেনা

SIR সংক্রান্ত নথি নিতে অমর্ত্যর বাড়িতে হাজির কমিশনের প্রতিনিধিরা

‘উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে জুড়বে ভলভো বাস’, নতুন বছরে নয়া পরিষেবা চালু মমতার

তপসিয়ায় সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৯ ইঞ্জিন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ