আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে জেনে নিন ২০১৬ ও ২০২১ সালের বুথফেরত সমীক্ষার ফল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা, জল্পনা আর রাজনৈতিক অঙ্ক কষার ব্যস্ততা। রাত পেরোলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election)। এবার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কার দখলে থাকবে নবান্ন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি এবার পালাবদলের খেলা। ভোট মিটতেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে বুথফেরত সমীক্ষার দিকে। কারণ, ভোটের ফল প্রকাশের আগে এই সমীক্ষাগুলোই সম্ভাব্য রাজনৈতিক ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করে। বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দায় ভোট মিটতেই শুরু হয় সংখ্যার খেলা, গ্রাফ, বিশ্লেষণ আর সম্ভাবনার হিসাব। তবে পশ্চিমবঙ্গের অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বলছে, বুথফেরত সমীক্ষা সবসময় বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন নয়। রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বুথ ফেরত সমীক্ষায় কী ছবি ধরা পড়েছিল দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election) ছিল বাংলার রাজনীতির অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। সেই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস টানা দশ বছরের শাসন ধরে রাখার লড়াইয়ে ছিল, আর বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে জোরদার প্রচার চালায়। অষ্টম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়। বেশ কিছু সমীক্ষায় বিজেপির শক্তিশালী ফলের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল। কিছু সংস্থা অনুমান করেছিল বিজেপি ১৪০টির বেশি আসন পেতে পারে।

আরও পড়ুন: মমতার বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ, হটস্পট আসনে ভারী বুটের শব্দ

অন্যদিকে কয়েকটি সমীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখলেও ফলাফল নিয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য ছিল না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে মহিলা ভোটারদের সমর্থন, সামাজিক প্রকল্প এবং গ্রামীণ সংগঠন তৃণমূলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ২ মে ভোট গণনার দিন চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশকে ভুল প্রমাণ করে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। দলটি ২০০-র বেশি আসনে জয় পায়, যেখানে বিজেপি প্রধান বিরোধী শক্তি হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) আগে বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থা ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল। সেই সব সমীক্ষার গড় হিসাব বা ‘পোল অফ পোলস’-এ ইঙ্গিত মিলেছিল যে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দলটি প্রায় ১৮৪টি আসন জিততে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, তৎকালীন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোটকে তুলনামূলকভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হলেও, তাদের ঝুলিতে প্রায় ১০৩টি আসন যেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। বিজেপির ক্ষেত্রে সমীক্ষাগুলিতে খুব সীমিত সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অধিকাংশ পূর্বাভাসে দলটির আসন সংখ্যা এক অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। এই সমীক্ষাগুলি ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনমত এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। বাংলার ভোটে বহুবার দেখা গিয়েছে ভোটাররা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন না। এই ‘নীরব ভোটার’দের সিদ্ধান্তই প্রায়শই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে। তাই ভোটের আসল রায় জানতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হয় গণনার দিনের জন্য।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট মিটলেও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে

তৃণমূল ১৪২, বিজেপি ১৪৩, বাংলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত বুথফেরত সমীক্ষায়

উদয়নারায়ণপুরে জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আড়াল কমিশনের

ভোট শেষের মুখে নোয়াপাড়ায় উত্তেজনা, বচসা ঘিরে তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষ

দিনের শেষে মায়ের সঙ্গে কসবা কেন্দ্রে ভোট দিলেন মিমি চক্রবর্তী

ব্যারাকপুরে পুরসভার কর্মী রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হয়ে বুথে বসার অপরাধে আটক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ