চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মা দুর্গার আরাধনায় ৬২২ বছর ধরে ব্রাত্য মর্ত্যের দুর্গারা, কোন বাড়িতে এমন নজির?

নিজস্ব প্রতিনিধি, দাসপুর : নারীশক্তির আরাধনাতে ব্রাত্য নারীরাই। প্রায় ৬০০ বছরের বেশি সময় ধরে দেবী আরাধনা হয়ে আসছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের নাড়াজোল রাজবাড়িতে। চলতি বছর রাজবাড়ির এই পুজো ৬১২ বছরে পদার্পন করবে। ৬০০ বছরের বেশি সময় ধরে নাড়াজোল রাজবাড়ির প্রথা অক্ষরে অক্ষরে মেনেই পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোতে ব্রাত্য মহিলারাই।

রাজ পরিবার সূত্রে খবর, বর্ধমান রাজার নায়েব ছিলেন উদয়নারায়ন ঘোষ। মেদিনীপুরের দাসপুরের নাড়াজোল জঙ্গলে শিকার করে ফেরার পথে হঠাৎই দেখেন একটি সারস পাখি বককে তাড়া করছে। এই দৃশ্য দেখে চমকে গিয়েছিলেন। সারস শিকার করতে গিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলে এখানেই রাত্রিযাপন করেন তিনি। সেই রাতেই স্বপ্নাদেশ পান জঙ্গলের মধ্যেই একটি বাড়িতে রয়েছে দুর্গার অষ্টধাতুর মূর্তি। সেই মুর্তি পুজো করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। মায়ের নির্দেশে মূর্তি উদ্ধার করে নাড়াজোল এলাকার জঙ্গল সাফাই করে বাড়ি তৈরি করে অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি পুজো করেন। এই পুজো শুরু করেন বাংলার ৮২০ বঙ্গাব্দে। উদয়নারায়ণ ঘোষ দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে উদয়নারায়ণ ঘোষ নাড়াজোল রাজ বাড়ির প্রতিষ্ঠা করেন।

দুর্গাপুজোর যাবতীয় বিধি নিষেধ তিনি চালু করেন। তখনকার সময়ে চার পুরুষ ‘ঘোষ’ পদবি নিয়েছিলেন। তারপর নেন ‘রায়’ পদবি। ১০৩০ বঙ্গাব্দে মুঘোল আমলে আকবরের নাজিম সাহেব এই রাজবাড়িতে এসেছিলেন। তাকে খাওয়াদাওয়া ও উপঢৌকন দেওয়ার জন্য ‘খান’ পদবি দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই ‘খান’ পদবি ব্যবহার করে আসছেন। মেদিনীপুর জমিদারির সদর দপ্তর কর্ণগড়ের সাথে নাড়াজোল রাজবাড়ীর শাসকদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। বর্তমানে নাড়াজোল রাজবাড়ি ধ্বংসের পথে। রাজবাড়ির এখন ভগ্নপ্রায়, আগাছায় ঢাকা পড়ছে, রাজবাড়ির সৌন্দর্য্য ও কারুকার্যের নিদর্শন লুকিয়ে গিয়েছে। প্রথা মেনে আজও রাজবাড়িতে অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি পূজিত হন। রাজবাড়িতে বৈষ্ণবমতে পূজিত হন মাদুর্গা। এখানে বলিপ্রথা নেই। আগেই প্রথা চালু হয়েছিল মহিলারা মায়ের অঞ্জলি দিতে পারবেন না। সেই প্রথা আজও চলে আসছে। প্রসাদ বেলপাতা পাওয়া থেকে ব্রাত্য তাঁরা। সমস্ত পুজোর জোগাড় করে দিলেও মায়ের প্রসাদ ও ভোগ রান্না করেন পুরোহিত। তবে মায়ের বিদায় বেলায় সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারেন রাজ পরিবারের মহিলারা।

রাজবাড়ির অষ্টধাতুর মূর্তিতে মায়ের সঙ্গে নেই কার্তিক,গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। এখানে যেহেতু অষ্টধাতুর দুর্গা তাই বিসর্জন হয় না। শুধুমাত্র ঘট নিরঞ্জন দেওয়া হয়। দাসপুর ছাড়াও দুরদুরান্তের বহু মানুষ পুজোয় ভিড় জমান নাড়াজোল রাজবাড়ীর দুর্গাপুজোয়। দাসপুরের নাড়াজোল রাজবাড়ি ঐতিহাসিক স্থান। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ি। রাজা নরেন্দ্রলাল খান ও তার পুত্র দেবেন্দ্রলাল খান প্রকৃত দেশপ্রমিক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ক্ষুদিরাম বসুর বাবা তৈলক্ষনাথ বসু নাড়াজোল রাজবাড়ির প্রধান কর্মচারী ছিলেন। রাজবাড়ির আদায় করা খাজনা রাজাবাহাদুরকে দিতেন। এই রাজবাড়িতে বিশিষ্ট অতিথিদের আগমন ছিল। এই রাজবাড়িতে এসেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্যাসাগর, কাজি নজরুল ইসলাম থেকে মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহেরু, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী। তাঁদের সঙ্গে এই রাজবাড়ির সম্পর্ক ছিল মধুর। রাজবাড়ির সদস্যদের কথায়, এখন পুজোর জৌলুস না থাকলেও সমস্ত রীতিনীতি এখনও বজায় রয়েছে। আর্থিক অনটনের জেরে পুজোর এলাহি আয়োজনে অনেক কাটছাঁট করতে হয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ