দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

নাবালিকা পাচার ও গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রেমের নামে অভিনয় করে নাবালিকা মেয়েদের নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা সারা দেশজুড়েই বছর চলে। পুলিশ ও বিশেষ বিশেষ বাহিনীর তরফে মাঝে মধ্যে ওই সব নাবালিকাদের সন্ধানে নিষিদ্ধপল্লী এলাকায় অভিযানও চালানো হয়। কেউ উদ্ধার হয়, কেউ বা না। কেউ কেউ তো চিরতরেই হারিয়ে যায়। ফিরে আসতে পারে না সভ্য, শিক্ষিত, চেনা সমাজে। এবার বাংলার বুকে এমনই এক ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতের জেলা আদালতের(Barasat Court) পসকো কোর্ট চাঞ্চল্যকর এক রায় দিল। এক নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া ও তাকে গণধর্ষণ করার দায়ে ৬জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সোমবার সেই ৬জনকে সাজা শুনিয়েছে আদালত। তাতে ৪জনকে ২০ বছর এবং ২ জনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সেই সঙ্গে লিগল এডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ লক্ষ টাকা এবং চিকিৎসা বাবদ আরও ১ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মূল ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালে। তখন ওই নাবালিকার বয়স ছিল ১৫। কলকাতার বাগুইআটি এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া(Social Media) মারফত পরিচয় হয়েছিল রাহুল নামে এক যুবকের। তার ডাকেই ওই নাবালিকা ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সায়েন্সসিটিতে গিয়েছিল দেখা করার জন্য। সায়েন্সসিটিতে দুইজনে দেখা করে চলে যায় বাবুঘাটে। সেখানে রাহুল তার এক বন্ধুর সঙ্গে ওই নাবালিকার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। এরপর রাহুল সেখান থেকে চলে যায় ও রাহুলের ওই বন্ধুর সঙ্গে হাওড়া স্টেশনে চলে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। মেয়েটি জানত না যে রাজুল আদতে আড়কাঠির ভূমিকায় কাজ করে। মানে প্রেম করে মেয়েদের অন্য লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই সূত্রেই সে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই নাবালিকাকে বিক্রি করে দিয়েছিল। হাওড়া স্টেশনে রাহুলের বন্ধু ওই নাবালিকাকে একটি তরল পানীয় খাওয়াতে সে জ্ঞান। হারায়। জ্ঞান ফিরতে সে দেখতে পায় হাওড়া স্টেশন থেকে সে ট্রেনে করে উত্তরপ্রদেশে চলে এসেছে। সেখানেই এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।

এরপরেই শুরু হয় আসল ঘটনা। ওই ব্যক্তি শুধু যে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিল তাই নয়, তাকে বিক্রিও করে দিয়েছিল অন্য লোকের কাছে। এরপর ৭-৮জন ওই নাবালিকাকে কেনে ও ধর্ষণ করে। শেষে মুম্বইয়ে যৌনপল্লীতে ঠাঁই হয়েছিল ওই নাবালিকার। সেখান থেকেই সে একদিন অন্য এক যৌনকর্মীর ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানায়। এদিকে সে নিখোঁজ হওয়ার জেরে তার পরিবার থেকে বাগুইআটি থানায়(Baguihati Police Station) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও শুরু করেছিল পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল সিআইডি। শেষে মেয়েটির ফোন পেয়ে সিআইডি গোপনে অভিযান চালায় মুম্বইয়ের ওই যৌনপল্লীতে। সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধারও করে আনেন তাঁরা। এরপর রাহুল সহ গোটা ঘটনায় জড়িত মোট ৬জনকে গ্রেফতার করেন তাঁরা। এদেরকেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। জানা যায় ঘটনার মূল মাথা চিত্রা নামে এক মহিলা যার হয়ে রাহুল কাজ করত। আদালত এই দুইজনকেই ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। বাকি ৪জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ময়নায় ইভিএম মেশিন বুথ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপির হামলা, ১০ জন তৃণমূল এজেন্ট আহত

শুভেন্দু’র অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে নির্বাচন শেষে দাবি তৃণমূল প্রার্থীর

অশান্তি ছড়ানোয় ৪১ জনকে গ্রেফতার, পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা খারিজ সিইও’র

জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে ভোট দিতে পারলেন নন্দলাল বসুর নাতি

বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থীর নাম কী?‌ ভুল পরিচয় দিয়ে খোরাক অমিত শাহ

সন্ধে ছয়টা পর্যন্ত প্রথম দফায় গড়ে ভোট পড়েছে ৯১.৫২ শতাংশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ