আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সাগরের বুকেই শক্তিক্ষয় ‘ডানা’র, বঙ্গে ক্ষতির সম্ভাবনা কম

Courtesy - Windy

নিজস্ব প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে(Bay of Bengal) সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’(Cyclone Dana) ক্রমশই এগিয়ে আসছে স্থলভূমির দিকেই। দিল্লির মৌসম ভবনের(Mausam Bhawan) পূর্বাভাস মিলিয়ে ওড়িশার(Odisha) ভিতরকণিকা অভয়ারণ্য(Bhitarkanika Sanctuary) সংলগ্ন ধামরা বন্দর(Dhamra Port) এলাকাতেই ল্যান্ডফল(Landfall) করতে চলেছে ‘ডানা’। তবে যে সময়ে তার ভূমিস্পর্শ করার কথা ছিল তার আগেই সেই স্থলভাগে ঢুকে পড়তে চলেছে। সকাল ৯টা নাগাদ মৌসম ভবন সূত্রে প্রাপ্ত খবর, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টে নাগাদ ধামরার বুকে শুরু হবে ‘ডানা’র ল্যান্ডফল। রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে তা স্থলভাগে সম্পূর্ণ রূপে ঢুকে পড়বে। তবে স্থল্ভাগে পা রাখার আগেই ‘ডানা’র শক্তিক্ষয় শুরু হয়ে যাবে সাগরের বুকে। নেপথ্যে উত্তুরে হাওয়া। সেই হাওয়ার জন্যই ‘ডানা’ যেমন বেশি উত্তর দিকে এগোতে পারছে না, তেমনি উত্তুরে ঠাণ্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে এসে তার শক্তিও ক্ষয় হচ্ছে। আর এই কারণেই বাংলার(Bengal) বুকে ‘ডানা’র দাপটে যে প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছিল ততটা প্রভাব কিন্তু পড়তে দেখা যাচ্ছে না। তবে জলোচ্ছ্বাসের বিপদ থাকছে।

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, ‘ডানা’র দাপটে বুধবার রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো সাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হবে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের ৭-৮টি জেলায়। কিন্তু এই জেলাগুলি থেকে গতকাল বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির খবর মিললেও তা অনুমানের থেকে যথেষ্টই কম হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়া সেভাবে কোথাও দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের মোট ১০টি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। এমনকি শুক্রবারও রাজ্যের পশ্চিমের কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সাগরের বুকে ‘ডানা’র শক্তিক্ষয় দেখে মৌসম ভবনের বিশেষজ্ঞদের দাবি, ‘ডানা’র প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলায় যতটা পড়বে বলে মনে করা হচ্ছিল ততটা পড়বে না। কেননা সকাল ৯টা অবধি এদিন রাজ্যের কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি তো দূরের কথা, ভারী বৃষ্টির খবরও মেলেনি। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে যা সাধারণত নিম্নচাপের ক্ষেত্রে হয়। তবে ঝোড়ো হাওয়া সেভাবে মিলছে না। উপকূলবর্তী এলাকায় অবশ্য ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। সাগরও উত্তাল আছে। তবুও যতটা দুর্যোগের আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা দুর্যোগের মুখে বাংলাকে পড়তে হচ্ছে না।

মৌসম ভবনের দাবি, স্থলভাগে পা রাখার আগে সাগরেই শক্তি হারানো শুরু করে দেবে ‘ডানা’। ভিতরকণিকা অভয়ারণ্যের উপস্থিতির জন্যই হুট করে স্থলভাগে ঢুকে পড়তে পারবে না এই ঝড়। এদিন বিকালে যখন সে স্থলভাগে পা রাখবে তখন তার গতি ঘন্টায় ১০০ কিমি’র আশেপাশে থাকবে। যদিও প্রথমে মনে করা হয়েছিল এই গতি ঘন্টায় ১৩৫কিমি থেকে ১৪০কিমি বেগে হবে। কিন্তু সাগরের বুকে শক্তিক্ষয়ের দরুণ ‘ডানা’ খুব শক্তিশালী হয়ে স্থল্ভাগে পা রাখবে না। স্থলভাগে পা রাখার পর থেকেই সেই আরও দ্রুত হারে শক্তি হারাবে। শুক্রবার সকালের মধ্যে সে নিম্নচাপে পরিণত হবে। তবে শুক্রবার বেলার দিক অবধি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি চলবে। সঙ্গে সাগরেও জলোচ্ছ্বাস চোখে পড়বে। বাংলার বুকে শনিবার থেকেই কিন্তু আবহাওয়ার ভোলবদল চোখে পড়বে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সকালের দিকে হালকা কুয়াশা মিলবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে কুয়াশার গাঢ়ত্ব বেশি হবে। রাতের দিকে দক্ষিণবঙ্গের পারা কমবে। গায়ে দিতে হবে চাদর। বন্ধ করতে হবে এসি সহ পাখাও। কার্যত এখন ওড়িশার দুয়ারে ‘ডানা’ আর বাংলার দুয়ারে ‘ঠাণ্ডা’। বঙ্গবাসী সাক্ষী থাকছে আবহাওয়ার এই ভোলবদলের।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বকখালি যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, দুমড়ে মুচড়ে গেল গাড়ি, গুরুতর জখম ২

তৃণমূলকে সমর্থন নিয়ে আপত্তি অধীরের, ভোটের পর কংগ্রেস ছাড়ছেন বহরমপুরের রবিনহুড?

তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে মোমিনপুরের ‘ত্রাস’ সানির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, তদন্তে পুলিশ

গণনার কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মুচলেকা দিতে হবে, কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

সুজিত বসুকে ফের তলব সিজিও-তে! কোন নথি চেয়ে পাঠিয়েছে ইডি?

ই–ফার্মেসির প্রতিবাদে ভারত বনধের ডাক, ১২ লক্ষাধিক ওষুধের দোকান বন্ধের সম্ভাবনা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ