রতির প্রার্থনাতেই কামদেবের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মহাদেব

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভক্তের ভগবান দেবাদিদেব মহাদেব। তিনি তাঁর ভক্তের আকুল প্রার্থনা শোনেননি, এমন কখনও শোনা যায়নি। তিনি অনেক সময় ক্রোধ বশত কারোর প্রাণ নাশ করলেও অনেক ক্ষেত্রে ভক্তকুলের প্রার্থনায় বিগলিত হয়ে প্রাণ ফিরিয়েও দিয়েছেন। এমনই এক নিদর্শন পাওয়া যায় প্রেমের দেবতা কামদেবের জীবনেও। পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানতে পারা যায়, ভগবান মহেশ্বর কামদেবের স্ত্রী রতির প্রার্থনাতেই কামদেবের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ করেছিলেন কাম ও রতিকে।

জানা যায়, সতীর মৃত্যুর পর অত্যন্ত শোকাহত হয়েছিলেন মহেশ্বর শিব। তিনি একটি গুহায় গিয়ে ধ্যানে মগ্ন হয়েছিলেন। জানা যায়, ইতোমধ্যে সতী পার্বতী হিসেবে জন্ম নিয়ে নিয়েছিলেন। দেবতাদের অনেক চেষ্টাতেও শিবের ধ্যান ভঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। অতঃপর দেবতারা প্রেমের দেবতা কামদেবকে পাঠিয়েছিলেন দেবাদিদেবের কাছে। কামদেব বাসন্তী ঋতুতে হিমালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেসময় চারিদিকে ফুল ফুটছিল, বাতাসে সুগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছিল, পাখিরা গাছের শাখে শাখে গান গাইছিল – এই সবই ছিল কামদেবের প্রেমের শক্তি জাগ্রত করার কৌশল। অপর দিকে মহাদেব গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। কামদেব ধ্যান ভাঙাতে শোকাচ্ছন্ন শিবের বুকে পুষ্প ধনুর দ্বারা কাম বাণ নিক্ষেপ করায় ক্রোধে মত্ত হয়েছিলেন তিনি। তখনই ক্রোধ বশত  খুলে গিয়েছিল মহাদেবের তৃতীয় নেত্র ও তিনি কামদেবকে ভস্মে পরিণত করেছিলেন।

এমন সময় কামদেবের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর প্রধানা স্ত্রী রতি অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্থ ও মানসিকভাবে আহত হন। তিনি মহাদেবের কাছে করুণ নিবেদন করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান। রতি বলেন, “হে দেবাদিদেব, আমার স্বামী কেবল দেবতাদের কল্যাণের জন্যই এই কাজ করেছিলেন। আমি বিনীতভাবে আপনার কাছে তাঁর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করছি।” শোনা যায়, এরপর রতি আত্মত্যাগ করতে গেলে মহাদেবের দৈববাণী শুনেছিলেন তিনি। দৈববাণীতে শোনা গিয়েছিল, “শিব ও পার্বতীর বিবাহের পর কামদেব পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে। কামদেবের শরীর ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু তাঁর আত্মা অক্ষত রয়েছে। তাঁর খুব শিগগিরই পুনর্জন্ম হবে এবং তিনি ‘অনঙ্গ’ নামে পরিচিত হবেন।”

মহাদেবের আশীর্বাদ অনুসারে, কামদেব পুনর্জন্ম লাভ করেন, তবে তিনি তখন থেকে শরীরহীন বা অনঙ্গ (নির্গুণ) হয়ে যান। তিনি কেবল মানুষের অন্তরে অনুভূতির মাধ্যমে প্রেম ও আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারেন, কিন্তু তাঁকে দেখা যায় না। পরবর্তীকালে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্মিণীর পুত্র প্রদ্যুম্ন রূপে কামদেবের পুনরায় জন্ম হয়। জনশ্রুতি আছে, রতিরও তখন মায়াবতী নামে পুনর্জন্ম হয়েছিল। মায়াবিদ্যা জানার দরুন মায়াবতীর নাম হয়েছিল মায়াদেবী। তিনি ছিলেন অসুর শম্বরের প্রধান পাচিকা। বিষ্ণুপুরাণ এবং হরিবংশম-এ মায়াদেবীকে শম্বরের স্ত্রী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ আবার, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে মায়াবতী শম্বরের সাথে নিশিযাপন করতেন না এবং মায়া দিয়ে তাঁর উপস্থিতি তৈরী করতেন।

শম্বর জানতে পেরেছিলেন কৃষ্ণ পুত্র প্রদ্যুম্নই তার মৃত্যুর কারণ ৷ তাই শম্বর, কৃষ্ণ ও রুক্মিণীর পুত্র হিসেবে প্রদ্যুম্নের জন্মের বিষয়ে জানতে পারলে প্রদ্যুম্নকে অপহরণ করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে এক সামদ্রিক মাছ তাঁকে অচ্ছিন্নভাবে ভক্ষণ করে ৷ পরে ঐ মাছ আবার জেলেরা ধরে শম্বরের গৃহেই পাঠায় ৷ মায়াবতী রান্নার জন্য মাছটি কাটার ব্যবস্থা করতেই প্রদ্যুম্নকে খুঁজে পান এবং আড়ালে তাঁকে পালন করেন ৷ এমন সময় দেবর্ষি নারদ বিস্মৃত মায়াবতীকে মনে করিয়ে দেন যে তিনিই রতি এবং এও বলেন যে মাছের পেট থেকে প্রাপ্ত শিশুটি কামদেবেরই পুনর্জন্ম ৷ তাই  মায়াবতী প্রদ্যুম্নকে মায়া বিদ্যায় পারদর্শী করেন ও যুদ্ধবিদ্যা শিখিয়ে শম্বরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন ৷ অতঃপর প্রদ্যুম্ন শম্বরকে যুদ্ধে পরাস্ত করেন ও মায়াবতীকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে তিনি শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকাতে প্রবেশ করেন ৷

হিন্দুধর্ম অনুসারে রতি ছিলেন প্রেম, লিপ্সা, জাগতিক আকাঙ্ক্ষা এবং যৌন পরিতৃপ্তির দেবী৷  স্ত্রী ও সঙ্গিনী হিসাবে বিভিন্ন মন্দিরের স্থাপত্যকর্মে কামদেবের সাথে দেবী রতির মূর্তিও দেখা যায় এবং কামদেব ও রতি সর্বদা যুগলে পূজিত হতেই পছন্দ করেন ৷ হিন্দুশাস্ত্রে রতিকে প্রায়শই প্রমোদমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে ৷ সংস্কৃত ভাষায় একাধিক যৌনপদ্ধতি ও যৌনাসনের নাম এসেছে রতির নাম থেকেই ৷

দিঘায় ঢোকার মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, কী কারণে বিপত্তি?

সংস্কার শেষে মা ফিরেছেন গর্ভগৃহে! এবার তারাপীঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণে নয়া উদ্যোগ

উ‍ৎসবের মরশুমে অতিথিদের চমকে দিতে বানিয়ে ফেলুন বিটের জিলিপি

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে অপসারিত হলেন কোচির পুলিশ কমিশনার

চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীমৃত্যুর অভিযোগ, নার্সিংহোমে বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ পরিজনদের

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ঝাপটায় অন্ধ্রপ্রদেশে নিহত ৩, ভেঙে পড়ল ৩১টি বাড়ি

অন্যরকমের মিষ্টি খেতে মন চাইছে? তৈরি করে নিন কাঁচা পেঁপের হালুয়া

‘আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভাল’ বয়স মনে করিয়ে মমতাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ শুভেন্দুর

আত্মঘাতী তিনবারের প্যারা এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী নীরজ, কী এমন ঘটেছিল?

সুদানে বাজারের মধ্যে আচমকা ড্রোন হামলায় মৃত শতাধিক, বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা

অন্ধ্রে আছড়ে পড়ল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কখন শুরু বৃষ্টি?

কোচিং ক্লাসে ১৩ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেফতার ২১ বছরের শিক্ষক

‘ঠান্ডা নয়, গরম জল খেয়ো!’ নিউজিল্যান্ডে বৈভবকে মায়ের মতো স্নেহের পরামর্শ, ভাইরাল মিষ্টি মুহূর্ত

নভেম্বরের শুরুতেই বন্ধ নৈহাটির বড়মার মন্দির, কত দিন মিলবে না দর্শন?