চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়া রহস্যজনক’, কেন একথা বললেন এভারেস্ট জয়ী সুব্রত ঘোষের দিদি

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে রানাঘাটের বাসিন্দা সুব্রত ঘোষের মৃত্যু বেশ রহস্যজনক, এমনটাই দাবি করলেন এভারেস্ট জয়ী সুব্রত ঘোষের দিদি সুমিত্রা দেবনাথ। গত মে মাসে তারিখ এভারেস্ট এর শৃঙ্গ জয় করে বেস ক্যাম্পের দিকে নামার পথে নিখোঁজ হন রানাঘাটের বাসিন্দা সুব্রত ঘোষ। পরে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও লাভ হয়নি। এখনও দেহ মেলেনি সুব্রত ঘোষের।

আগামী বছর আবার এভারেস্ট এর রাস্তা খুললে এভারেস্টজয়ীর দেহের সন্ধান শুরু হবে। তবে এই রহস্যময় নিখোঁজ বা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সুব্রত ঘোষের দিদি সুমিত্রা দেবনাথ।

এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে সুব্রত ঘোষের সঙ্গী হয়েছিলেন তাঁর দিদিও। কিন্তু তিনি এভারেস্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। তার আগেই ফিরে আসতে হয়েছিল বেস ক্যাম্পে। সেখানে বসেই তিনি ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পান। এভারেস্ট জয়ী সুব্রত’র এইভাবে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দিদি সুমিত্রা দেবনাথের মনেও তৈরি করেছে ধোঁয়াশা।

তাঁর কথায়, “ভাই আর আমার পর্বতারোহনের জার্নিটা একসঙ্গেই শুরু হয়েছিল। তাই ভাই যে এই প্রথম পর্বতারোহনে গিয়েছিল তা নয়। ১৫ মে, ও যেদিন এভারেটের চূড়ায় পা রাখল, তার আগে পর্যন্ত আমি ভাইকে যেভাবে প্রতিদিন দেখেছি বা ১০ তারিখ আমার সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার পরে আমি অন্যদের থেকে যেভাবে খবর পেয়েছি তাতে আমি ভাইয়ের মধ্যে কোনও অসুস্থতা, কোনও সমস্যা ছিল বলে বুঝিনি। ১২ তারিখ ওর সঙ্গে আমার ওয়াকি টকিতে কথা হয়েছিল। কিন্তু ১৫ তারিখের পর শুনলাম যে ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে, সে নামতে চাইছে না। তারপর থেকে তো নিখোঁজ-সব মিলিয়ে এখন ধরে নেওয়া হয়েছে যে ভাই মারা গিয়েছে। মৃত্যু কেন বা কীভাবে এল আমরা কেউ বুঝতে পারছি না। শেরপার কাছ থেকে আমরা শুনেছিলেন ভাই নামতে চাইছে না। পরে ভিন্ন কথা শুনলাম।”

সুমিত্রা দেবনাথের নানা কথায় বোঝা যায় হয়তো স্বাভাবিকভাবে নিখোঁজ  হননি এভারেস্ট জয়ী সুব্রত ঘোষ। সুমিত্রা বলেছেন, “এভারেস্ট সামিট ভারতীয় সময় দুপুর ১২টায় হয়েছিল (নেপালি টাইম ১২:১০), অথচ আগে শোনা গিয়েছিল ২টোয় সামিট হয়েছে। আমি যেটুকু বুঝেছি ভাইয়ের মধ্যে কোনও অসুস্থতা বা সমস্যা ছিল না। তারপর ওপরে গিয়ে কী হয়েছে তা তো জানিনা।”

ভারত সরকারের থেকে কতখানি সাহায্য মিলেছিল? সুমিত্রা দেবনাথের কথায়, “দেশের মাটিতে তো আমাদের ভারত সরকার ছাড়া কেউ ছিল না। তখন ভারতীয় দূতাবাসই আমাদের সব। যখন ভাইকে উপর থেকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তখন প্রচুর টাকার দরকার। যারা এই সামিটের দায়িত্ব পেয়েছিল তাঁরা খরচ হিসাব করে বলেছিল ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ভারতীয় টাকা লাগবে রেসকিউ অপারেশনে। আমরা ধার দেনা করে এই সামিটে গেছিলাম। আমাদের কাছে এত টাকা কোথায় তখন? অসংখ্য মানুষ আমাদের সাহায্য করেছেন। ভারতীয় দূতাবাসকে জানানো হলে তারাও আমাদের প্রচুর সাহায্য করে। আমাদের জানানো হয় ওপরে গিয়ে যদি আমার ভাইকে দেখা যায়, তাহলে যে কোনওভাবে ওকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু ২৭ তারিখ যখন উপরে যান তাঁরা, তখন যেখানে শেরপা বলেছিলেন ভাইকে রেখে এসেছেন, সেখানে আর পাওয়া যায়নি। পরের বছর আবার যখন এভারেস্ট সামিট শুরু হবে তখন যেন সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ প্রসেস ভারতীয় দূতাবাস জারি রাখে, আমরা সেই অনুরোধ করে এসেছি ওদের। তাঁরাও জানিয়েছেন তেমনটাই হবে।”

রানাঘাটের মাঠের পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন সুব্রত ঘোষ। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার কাপাসাটি মিলনবিথী হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি। এভারেস্ট ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে গত ৩১ মার্চ রানাঘাটের বাড়ি থেকে দিদির সঙ্গে বেরিয়েছিলেন। শুধু আর ফেরা হয়নি বাড়িতে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ