আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

চিকিৎসা নয়, ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাসী পরিবার, ওঝার কেরামতিতে সর্পাঘাতে প্রাণ হারালেন মহিলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এখনও পৌরাণিক ভাবধারায় বিশ্বাসী অনেকেই। ভারতবর্ষে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে সাপে কামড়ালে মানুষ ওঝার ঝাড়ফুঁক কে বিশ্বাস করেন। বা একই গ্রামে পরপর মানুষ অসুস্থ হতে থাকলে সেটার জন্যেও কালো যাদুকে দায়ী করা হয়। একবারও বিজ্ঞানে বিশ্বাস করেন না। তবে এই বিষয়গুলি আধুনিক প্রজন্মের কাছে খুবই ফিকে। কেননা পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে সমাজ। তাও পুরনো ভাবধারাগুলি এখনও মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির গুনাগুন এখনও সেই ট্যাবু ভাঙতে পারেনি। এবার এমনই একটি ঘটনা ঘটল মালদা জেলার কালিয়াচক থানার সুজাপুরের বামুন গ্রাম এলাকায়। যেখানে একজন বয়স্ক মহিলা সর্পাঘাতে মারা গিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসা নয়, এর জন্যে দায়ী ওঝার কেরামতি। কারণ সম্প্রতি ওই মহিলাকে সাপে কামড়ে ছিল। কিন্তু তাঁর বাড়ির লোকজন মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে ওঝার ঝাড়ফুঁককে বিশ্বাস করেছিল। ফল হল মৃত্যু। মৃত মহিলার নাম নাজেরা বিবি। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। মৃত মহিলার পরিবারে রয়েছে তাঁর স্বামী রাব্বানি শেখ।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে ওই মহিলা আর পাঁচটা দিনের মতো পরিবারের সকলের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলেন। কোনও কিছুক্ষণ পরেই তিনি সারা শরীরে জ্বালা অনুভব করেন। ভেবে নেওয়া হয়, তাঁকে সাপে কামড়ে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই মহিলাকে হাসপাতালের পরিবর্তে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওঝা শুরু করেন ঝাড়ফুঁক। এরপর পরিবারের সদস্যদেরকে জানানো হয় যে, ঝাড়ফুঁক করার পর সমস্ত বিষ মহিলার শরীর থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এখন পুরোপুরি সুস্থ ওই মহিলা। ওঝার কথা মতো মহিলাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে রোগীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে শুরু করে। এরপরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার-সহ গোটা এলাকায়। এই ঘটনায় মৃত মহিলার ছেলের বউ জানিয়েছেন, ‘ঘটনার দিন মা রাতের খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল। তার কিছুক্ষণ পরে সে শরীরে যন্ত্রণা অনুভব করেন। তাঁকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ওঝা বলে তাঁকে সাপে কামড় দিয়েছে। ১০-১৫ মিনিট ঝাড়ফুঁকের পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে আনার পর মায়ের শরীর আরো খারাপ হতে থাকে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মারা যান।’ তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ওঝার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রবল ঝড়ের সঙ্গে তুমুল বৃষ্টির সতর্কতা, ভোটগণনার দিনেও দুর্যোগের সম্ভাবনা

ভোট মিটতেই একলাফে সিলিন্ডার পিছু ৯৯৪ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম

কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, এখনও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

‘মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে,’ স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা, ক্ষোভ পুলিশের ভূমিকায়

কালবৈশাখীর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের পাহারায় মমতা

এক্সিট পোল নয়, প্র‍্যাক্টিক্যাল পোলে বিশ্বাস করেন শুভেন্দু অধিকারী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ