চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘‌ভারতীয় সংবিধান টুকরো করে ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দাও’‌, ছাত্রীকে নিদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: তিনি শিক্ষক। সমাজ গড়ার কারিগর। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠেছে নানা অভিযোগ। নিয়মিত‌ ক্লাস না করানোর পাশাপাশি সবসময় ঠোঁটের ডগায় লেগে থাকে জাতপাতের প্রসঙ্গ। এবার সব সীমা অতিক্রম করে গেলেন ওই শিক্ষক। একজন ছাত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ভারতীয় সংবিধান ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দেওয়ার নিদান দিলেন ওই শিক্ষক বলে অভিযোগ। এই শিক্ষক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের। এই মন্তব্যের পরই গোটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এমনকী শিক্ষকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য এবং বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে?‌ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের তৃতীয় সেমেস্টারের এক ছাত্রী ভারতীয় সংবিধান নিয়ে পাঠ্যক্রমের কিছু প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অরূপ ভট্টাচার্যকে ফোন করে জানতে চান। তখনই ওই শিক্ষক ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে দাবি করেন, ভারতীয় সংবিধান বিষয়ে পড়ার তেমন কিছু নেই। আর ওই ছাত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‌স্যার ফোনে বলেন, ভারতীয় সংবিধান টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দাও। কে এই বাবাসাহেব আম্বেদকর? আজকের দিনে এই সংবিধানের কোন‌ও মূল্য নেই। তোমরা আন্তর্জাতিক বিভাগের পড়ুয়া। আম্বেদকরের প্রস্তাবনা পড়ে কী করবে!’‌ একজন শিক্ষক এমন কথা বলতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আর কী অভিযোগ আছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে?‌ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা যাচ্ছে, প্রায় ৬ বছর আগে অরূপ ভট্টাচার্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যোগ দেন। এই শিক্ষক আগে পড়াতেন ক্ষুদিরাম বোস সেন্ট্রাল কলেজে। তাঁর বিরুদ্ধে ক্লাস না করানোর অভিযোগও উঠেছে। আর ছাত্রীর অভিযোগ, ‘‌কোনও দিনই ক্লাস ঠিক মতো নেন না। এই বছর সমস্ত সংবিধান আমাদের নিজেদের মতো করে পড়ে নিতে বলেছেন। তাই কিছু প্রশ্ন তাঁকে করেছিলাম। আর তখনই ভারতীয় সংবিধান টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দিতে বলেন।’‌ এই ঘটনা সামনে আসার পর আর এক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক শুভজিৎ নস্করের বক্তব্য, ‘‌দেশের সংবিধান রক্ষায় ব্রতী হওয়ার কথা যাঁদের, তাঁরাই যদি এমন মন্তব্য করেন সেক্ষেরে মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়।’‌

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ তবে যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে তিনি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‌অভিভাবকসুলভ শিক্ষকরা সবসময় আতশকাচের তলায় থাকেন। আসলে আমি এমন মন্তব্য করতেই চাইনি। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আর তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তার মতো করে তদন্ত করবে।’‌ আর সবটা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‌অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখন আমি বাইরে আছি। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলব। আর তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তৃণমূল এবং ‘আইপ্যাকের’ বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

‘এবারে সরকার গড়তে না পারলে আর কোনও দিনই পারব না’,তমলুকে মন্তব্য হিমন্ত’র

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য গ্রেফতারের তালিকায় কারা?‌ আদালতকে জানাল তৃণমূল

ভোট চাইতে শেক্সপিয়র সরণির বহুতলের বাসিন্দাদের দুয়ারে হাজির মমতা

‘ডাল মে কুছ কালা..’, কলকাতায় গোপন বৈঠক আধা সেনার শীর্ষ কর্তাদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ