এই মুহূর্তে

‘‌গঙ্গাসাগর মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলার একদিন অবসান হবে’‌, বার্তা মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের এবার শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর মেলা চলবে চলতি মাসের ১২ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত। এই মেলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেছেন। সেখানে রাজ্য সরকারের পরিষেবা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অবসান একদিন হবেই বলে আশা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই সেখানে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে।

এদিকে রাজ্য সরকারের সমালোচনা এবং বঞ্চনা করার পরও আজ, মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর পুণ্যস্নানে অংশ নিতে গঙ্গাসাগর পৌঁছলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেয়েছেন রাজ্য সরকারের ব্যাপক পরিষেবার আয়োজন। যদিও তা তিনি মুখে স্বীকার করেননি। আর গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‌ঐতিহ্যশালী ও ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘‌তীর্থ কর’‌ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না।’‌

 

অন্যদিকে কদিন আগেই এখানে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখন গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে যান তিনি। এই সেতু হয়ে গেলে স্থানীয় মানুষজনের থেকে শুরু করে পুণ্যার্থীদের অনেক সুবিধা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‌তার উপর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কপিল মুনির আশ্রম–সহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস–ভেসেল–লঞ্চ–জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল–ডাক্তার–নার্স–অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা—সবই করা হয়েছে।’‌

এছাড়া কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এখনও গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা হিসাবে তুলে ধরা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‌এবার গঙ্গাসাগর যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ তৈরি করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা, চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি বানাতে যে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, তা আমরাই দিচ্ছি। গত ৫ জানুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করে এসেছি। এটি তৈরি হয়ে গেলে তীর্থযাত্রীরা সরাসরি সড়কপথে খুব কম সময়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছতে পারবে। সাগরদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জন্যও এই সেতু হবে আশীর্বাদস্বরূপ। এলাকার পর্যটন শিল্পও বিপুলভাবে উপকৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে এই সেতুটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে। প্রার্থনা করি, সকল তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুভ হোক এবং সকলের মনোবাসনা পূর্ণ হোক। আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাঁকুড়ায় বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস, আটক গাড়ি, উদ্ধার চার হাজার ফর্ম ৭

‘‌বহিরাগত দিয়ে ভোট করিয়ে বাংলা দখলের ছক কষা হয়েছে’‌, নবান্ন থেকে কমিশন–বিজেপিকে তোপ মমতার

SIR সংক্রান্ত একাধিকবার নোটিশ, প্রতিবাদে পাঁশকুড়ায় রাজ্য সড়ক অবরোধ ভোটারদের

‘‌মোদি–শাহের সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে’‌, ‘মৃত’ ১০ জনকে মঞ্চে এনে তোপ অভিষেকের

কলকাতার এন্টালি থেকে গোটা দেশে পাচার ও মাদক তৈরির কিং পিন গ্রেফতার

‘‌কোচবিহার থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলা সময়ের অপেক্ষা’‌, চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ