আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

কেন্দ্রের চাপে ইস্তফা দিলেন ইন্ডিগো’র সিইও পিটার এলবার্স

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক ডিজিসিএ-র  চাপে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন ইন্ডিগো বিমান সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স। এখন থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস্টার রাহুল ভাটিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এই দায়িত্ব সামলাবেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিমান সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। মাস কয়েক ধরেই ইন্ডিগো বিমান সংস্থার পরিষেবা নিয়ে নানারকম অভিযোগ উঠছে। মাস তিনেক আগে ইন্ডিগো বিমান পরিষেবার নানা ভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। যার ফলে কমপক্ষে দশ লক্ষ যাত্রী আটকে পড়েছিলেন। যে কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক ডিজিসিএ ইন্ডিগোর উপর মোট ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করেছিল। এতকিছু অভিযোগের পর শেষমেষ সংস্থার সিইও পদত্যাগ করলেন। আজ ইন্ডিগোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা আপনাদের জানাতে চাই যে, আজ, সোমবার (১০ মার্চ, ২০২৬) একটি বৈঠকের মাধ্যমে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথা সিইও মিস্টার পিটার এলবার্সের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ। তিনি সংস্থার সিইও হিসেবে পদত্যাগ করেছেন। এখন থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস্টার রাহুল ভাটিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি দেখাশোনা করবেন।’

২০২২ সালে সেপ্টেম্বরে ইন্ডিগোর সিইও পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন পিটার এলবার্স। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইন্ডিগো বিমান পরিষেবা নিয়ে নানারকম অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে তিনি ক্রমাগত কেন্দ্রীয় সরকারের চাপের মুখে পড়েছিলেন। ইন্ডিগো নানা রকম দুর্নামও কুড়িয়েছিল। এবং সংস্থার প্রায় আর্থিক ২০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। যদিও সংস্থার পরিচালন পর্ষদকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে এলবার্স চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত সমস্যা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ইন্ডিগোর সিইও হিসেবে কাজ করা তাঁর কাছে সম্মান ও সৌভাগ্যের। পাশাপাশি তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, গত ২৯ জানুয়ারি বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইন্ডিগো ২০ বছরের সুনাম নষ্ট করেছে। ডিসেম্বরের ফ্লাইট ব্যাঘাতের ফলে বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক (MoCA) এবং DGCA এয়ারলাইন্সটির তীব্র সমালোচনা করেছিল। যদিও MoCA-এর নির্দেশে সিভিল এভিয়েশন মহাপরিচালক (DGCA) কর্তৃক গঠিত চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি জানিয়েছিল যে, ইন্ডিগো ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ার প্রাথমিক কারণগুলি ছিল অপারেশনের অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন, অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি, দুর্বল সফ্টওয়্যার সিস্টেম এবং ইন্ডিগোতে ব্যবস্থাপনা তদারকিতে ত্রুটি। এত কিছুর চাপের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন ইন্ডিগোর সিইও।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো বিপুল উড়ান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। ফলে যাত্রী ভোগান্তির জন্য তাঁদের জরিমানাও করা হয়েছিল ডিজিসিএর তরফ থেকে। ।দৈনিক ৫০০-৬০০টি পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জেরে ভোগান্তির শিকার হয়েছিল কমপক্ষে ১০ লক্ষ যাত্রী। যার মধ্যে ৯৩ শতাংশই ছিল ইন্ডিগো বিমান সংস্থার যাত্রী। ফলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ওই উড়ান সংস্থা। শুধু তাই নয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের বিমান সংস্থাগুলির উড়ান বাতিলের হার ছিল প্রায় ৭ শতাংশ। যেখানে ইন্ডিগোর হার ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ২৫% বাতিল হয়েছিল। ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ, ২,৩০০টির মধ্যে ১,৬৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছিল এবং ৬৫০টি বাতিল করা হয়েছিল। নতুন ফ্লাইট ডিউটি এবং বিশ্রাম বা রেস্ট নিয়ম (FDTL) মানতে গিয়ে রোস্টার বা শিডিউল অব্যবস্থাপনার কারণে এই বড় ধরণের ব্যাঘাত ঘটেছিল। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইয়ের মতো প্রধান হাবগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছিলেন। যার ফলে লাগাতার বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-এর চাপের মুখে পড়ছিল সংস্থার কর্মকর্তারা।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটগণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন?‌ সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল

প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো ইডি অফিসারকে বিশেষ পুরস্কার সংস্থার

বাণিজ্যিক গ্যাসের পরে এবার পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটারপিছু ৪-৫ টাকা বাড়ছে?

চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

স্বপ্নের সাজে অপেক্ষায় কনে, বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির বরের লিভ-ইন-পার্টনার! তারপর…

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ