চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ফিনিক্স পাখির মত উত্থান, ১০ জনের দলকে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস ড্র ইস্টবেঙ্গলের

নিজস্ব প্রতিনিধি: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জিতলেই লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। নিজেদের ঘরের মাঠ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল অস্কার ব্রুজোর শিষ্যরা। কিন্তু প্রথমার্ধের খেলা শেষে মাঠের ফুটবলের চেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এল কার্ড, ফাউল, মেজাজ হারানো আর বিতর্ক! দশ জনের দল নিয়ে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু তিন-তিন বার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ড্র রেখে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরলেন সাউল ক্রেসপোরা।

খেলার শুরুটা একেবারেই আশানুরূপ হয়নি লাল-হলুদ শিবিরের। প্রথম ১১ মিনিট অস্কার ব্রিগেডের খেলা ছিল চূড়ান্ত এলোমেলো এবং দিশাহীন। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় বেঙ্গালুরু। ১২ মিনিটের মাথায় আশিকের দুর্দান্ত এক গোলে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। গোল হজম করে কিছুটা যেন সম্বিত ফেরে তাদের। তবে খেলার রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার আগেই, ১৭ মিনিটে সুনীল ছেত্রীকে কড়া ট্যাকল করে বসেন সৌভিক। রেফারি অশ্বিন তাঁকে হলুদ কার্ড দেখাতে কালবিলম্ব করেননি। ২১ মিনিটে মিগুয়েলের নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে এক দর্শনীয় ব্যাক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। ১-১ ব্যবধানে ফিরে এসে ম্যাচে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে ইস্টবেঙ্গল।

সমতা ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি যুবভারতীতে। ২৪ মিনিটের মাথায় শুরু হয় চরম বিপত্তি। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে মাঠে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি সামলাতে রেফারি কার্ড বের করেন। এরপরেই বেঙ্গালুরুর আশিকের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল। মেজাজ হারানোর চরম মাশুল দিতে হয় তাঁকে। রেফারি তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং ফলস্বরূপ লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। দশ জনে হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। এই উত্তাপ শুধু মাঠের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে ডাগ-আউটেও। ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল বেঞ্চ ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং এই আচরণের জন্য রেফারি হেড কোচ অস্কার ও তাঁর সহকারীকেও হলুদ কার্ড দেখান।

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগটাই ফের কাজে লাগায় প্রতিপক্ষ। ৪০ মিনিটের মাথায় রায়ান উইলিয়ামসের একটি ভাসানো বল (টস) গ্রিপ করতে চরম ভুল করে বসেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গিল। তাঁর এই ক্ষমার অযোগ্য ভুলের ফায়দা তুলে বল সরাসরি গোলের জালে জড়িয়ে দেন সুরেশ। ২-১ ব্যবধানে ফের লিড নেয় বেঙ্গালুরু। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়েও এই আগ্রাসী ফুটবলের রেশ বজায় ছিল। অতিরিক্ত সময়ে কড়া ট্যাকলের কারণে বেঙ্গালুরুর রায়ান উইলিয়ামসকেও হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

প্রথমার্ধে মিগুয়েলের লাল কার্ড এবং গিলের মারাত্মক ভুলের পর অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে দশ জনের ইস্টবেঙ্গলকে সহজেই গুড়িয়ে দেবে বেঙ্গালুরু এফসি। কিন্তু যুবভারতীর বুকে আজ লেখা ছিল অন্য চিত্রনাট্য। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটে লড়াই, আত্মবিশ্বাস আর খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য গল্প লিখল অস্কার ব্রুজনের দল। ৩-৩ গোলের এই হাই-ভোল্টেজ ড্র বহুদিন মনে রাখবেন ময়দানের ফুটবলপ্রেমীরা।

দশ জনে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না লাল-হলুদ শিবির। দুই দলই শুরু থেকে চরম আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। আর সেই আক্রমণের ফল মেলে হাতেনাতেই। ৫৫ মিনিটের মাথায় গ্যালারিকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেন সাওয়ন। তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ের এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে বল সোজা আছড়ে পড়ে বেঙ্গালুরুর গোলের জালে। ২-২ ব্যবধানে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের জন্য সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। এই গোলের ধাক্কা সামলাতে বেঙ্গালুরুর কোচ সঙ্গে সঙ্গেই কৌশল বদলান। দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র, অভিজ্ঞ সুনীল ছেত্রীকে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামান তরুণ সহমকে। পিছিয়ে থাকেননি ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার অস্কারও। ৬৮ মিনিটের মাথায় তিনি একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন, লক্ষ্য ছিল দশ জনের দলের ক্লান্ত মাঝমাঠকে সতেজ করে তোলা।

কোচ অস্কারের স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানোর আগেই ফের ছন্দপতন। ৭১ মিনিটের মাথায় লাল-হলুদ রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে যান রায়ান উইলিয়ামস। সুযোগ হাতছাড়া না করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন তিনি। ২-৩ ব্যবধানে ফের পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের বয়স যত বাড়তে থাকে, শারীরিক সক্ষমতার লড়াই ততই তীব্র আকার ধারণ করে। ৮৬ মিনিটে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চরম মূল্য চোকাতে হয় বেঙ্গালুরুর বদলি খেলোয়াড় সোহমকে, রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে রেফারি ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় (ইঞ্জুরি টাইম) যোগ করেন। আর এই সাত মিনিটেই লুকিয়ে ছিল আসল নাটক! হার না মানা মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে অস্কারের দল। একেবারে শেষ লগ্নে এসে একটি দুর্দান্ত সুযোগ পকেটে পুরে নেন বদলি হিসেবে নামা সরবেজ। তাঁর পা থেকে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল! ৩-৩ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় দশ জনের ইস্টবেঙ্গল। পরে অবশ্য অতিরিক্ত সময়েই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইস্টবেঙ্গলের সহকারি কোচ। ম্যাচ ড্র হলেও যুবভারতীর গ্যালারিতে উত্তেজনার পারদ ম্যাচের পরেও ছিল তুঙ্গে। একাধিক হলুদ কার্ড, প্রথমার্ধের মিগুয়েলের পর এডমুন্ডের লাল কার্ড এবং রেফারির বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হলেও, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের এই লড়াকু ফুটবল মন জয় করেছে লাল-হলুদ জনতার।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মুম্বইকে দুরমুশ করে আইপিএলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে শ্রেয়সরা

‘প্রয়োজনে IPL ছাড়তে পারেন বিরাট-রোহিত’, বিশ্বকাপজয়ী তারকার মন্তব্যে চর্চা তুঙ্গে

চেন্নাই শিবিরে বড় ধাক্কা, চোটের কারণে আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন তারকা ক্রিকেটার

এমবাপেদের কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ

IPL-এ ‘দোসা-ইডলি-সম্বর’ গান নিয়ে বিতর্ক, BCCI-এর কাছে বড় অভিযোগ জানাল চেন্নাই

একপেশে ম্যাচে লখনউকে দুরমুশ করে জয়ী বিরাটরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ