আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

রানওয়ে নয়, এবার জলেই ল্যান্ডিং! ভারতে শুরু হতে চলেছে প্রথম বাণিজ্যিক সি-প্লেন পরিষেবা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভাবুন তো, বিমানবন্দরের দীর্ঘ রানওয়ে নয় বরং সমুদ্রের নীল জল থেকেই উড়ে যাচ্ছে বিমান! মেঘের রাজ্য থেকে সরাসরি সাগরের নীল জল বা নদীর শান্ত বুকে অবতরণ করার এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভারতের পরিবহণ মানচিত্রে এক অভাবনীয় বিপ্লব আনতে চলেছে। আকাশ আর জলের এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে এবার শুধু যাতায়াত নয়, যুক্ত হতে চলেছে অ্যাডভেঞ্চারের এক নতুন মাত্রা, যা দেশের দুর্গম প্রান্তকেও নিয়ে আসবে হাতের নাগালে। বদলে দেবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। প্রথমবারের মতো দেশে চালু হতে চলেছে বাণিজ্যিক সি-প্লেন (Seaplane) পরিষেবা, যা আকাশপথ ও জলপথকে একসঙ্গে যুক্ত করবে। 

ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর অনুমোদন পাওয়ার পর স্কাইহপ এভিয়েশন দেশের প্রথম বিশেষায়িত বাণিজ্যিক সি-প্লেন (Seaplane) পরিষেবা চালুর অনুমতি পেয়েছে। এর ফলে ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। প্রাথমিকভাবে এই পরিষেবা শুরু হবে লাক্ষাদ্বীপে, যেখানে দ্বীপগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনই মূল লক্ষ্য। এই প্রকল্পের আওতায় লাক্ষাদ্বীপের অন্তত পাঁচটি দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সাধারণ বিমানের মতো বড় বিমানবন্দর বা দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন না থাকায় সি-প্লেন সহজেই নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের জল থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। ফলে যেসব অঞ্চলে বিমানবন্দর নির্মাণ কঠিন, সেখানে এই পরিষেবা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন: বৈষ্ণোদেবীকে দর্শন করে ফেরার পথে গাড়িতে আগুন, পুড়ে ছাই ৫ জন

প্রথম পর্যায়ে ১৯ আসনের ছোট আকারের বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য উপযোগী। এতে যাত্রীরা শুধু দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছবেন না, প্রকৃতির কাছাকাছি এক ভিন্ন অভিজ্ঞতাও উপভোগ করতে পারবেন। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের গঙ্গা ব্যারেজ এলাকায় স্কাইহপ এভিয়েশন সফল পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। জলে বিমান ওঠানামার এই সফল প্রদর্শন প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের নদী, উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই পরিষেবা পর্যটন, ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত যোগাযোগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে এই সি-প্লেন পরিষেবা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভারতের পর্যটন ও আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবেও উঠে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্দামান-নিকোবর, সুন্দরবন, কেরলের ব্যাকওয়াটার, অসমের নদীঘেরা অঞ্চল কিংবা উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি এলাকাতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। যেখানে সড়ক বা রেলপথ পৌঁছাতে সময়সাপেক্ষ, সেখানে সি-প্লেন (Seaplane) দ্রুত ও কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও, দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজ, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সি-প্লেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনোর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি হতে পারে।

পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সমুদ্র, দ্বীপ ও নদীঘেরা এলাকায় ‘এয়ার-ওয়াটার ট্যুরিজম’ জনপ্রিয় হতে পারে। ভ্রমণকারীরা আকাশ থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সরাসরি জলভাগে অবতরণের অভিজ্ঞতা পাবেন, যা সাধারণ বিমানের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্প ভারতের ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’ উন্নত করতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, দেশের এমন বহু এলাকা যা এখনও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বাইরে, সেগুলিও দ্রুত মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। প্রযুক্তি, পর্যটন এবং উন্নয়নের এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতের ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট মিটতেই জামিন পেলেন আই-প্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেল

অনলাইন গেমিংয়ে বিপুল লোকসান, নিজেকে বাঁচাতে যা করলেন যুবক…

গরমকে হার মানিয়ে বিয়ের শোভাযাত্রায় চলল ‘মোবাইল কুলার’, শোরগোল নেটদুনিয়ায়

অপেক্ষার অবসান! আজই প্রকাশিত ICSE এবং ISC পরীক্ষার ফল, কীভাবে দেখবেন রেজাল্ট?

সতর্ক হোন, ১ মে থেকে বদলে যাচ্ছে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়ম

বৈষ্ণোদেবীকে দর্শন করে ফেরার পথে গাড়িতে আগুন, পুড়ে ছাই ৫ জন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ