ইতিহাস ও স্থাপত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন পশ্চিম মেদিনীপুরের কুরুমবেরা দুর্গ

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক ঐতিহাসিক স্থাপত্য রয়েছে, যেগুলি এখনও পর্যটকদের কাছে ততটা পরিচিত নয়। তেমনই একটি অফবিট গন্তব্য পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকের গগনেশ্বর গ্রামের কুরুমবেরা দুর্গ। প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য ইতিহাসপ্রেমী, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। ল্যাটেরাইট পাথরে নির্মিত বিশাল এই স্থাপত্য আজও অতীতের নানা কাহিনি বহন করে চলেছে। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫শ শতকে গজপতি রাজা কপিলেন্দ্র দেবের শাসনামলে এই স্থাপত্য নির্মিত হয়। যদিও এটিকে সবাই দুর্গ বলে চেনেন, গবেষকদের একাংশের মতে এটি প্রথমে একটি মন্দির ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাসকের আমলে এর ব্যবহার বদলায়।

আফগান ও মুঘল আমলেও এই স্থাপত্যের ব্যবহার হয়েছে বলে মনে করা হয়। ফলে এখানে বিভিন্ন যুগের স্থাপত্যশৈলীর ছাপ একসঙ্গে দেখা যায়। কুরুমবেরা দুর্গের চারদিক ঘিরে রয়েছে উঁচু প্রাচীর। ভিতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দীর্ঘ খিলানযুক্ত বারান্দা, সারি সারি পাথরের স্তম্ভ এবং বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ। পুরো স্থাপত্যটি ল্যাটেরাইট পাথরে তৈরি, যা পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর অন্যতম নিদর্শন। দুর্গের দেওয়ালে এখনও প্রাচীন শিলালিপির অস্তিত্ব দেখা যায়। এগুলি সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে বলে মনে করেন গবেষকরা। এই স্থাপত্যকে ঘিরে আজও রয়েছে নানা বিতর্ক ও রহস্য। অনেকের মতে এটি ছিল সামরিক দুর্গ, আবার অন্যদের মতে এটি ছিল শিবমন্দির বা ধর্মীয় কমপ্লেক্স। কেউ কেউ আবার মনে করেন, পরবর্তী সময়ে এটি সেনা ছাউনি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই নানা মতভেদের কারণেই কুরুমবেরা দুর্গ ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে গবেষণার অন্যতম বিষয়।

দর্শনীয় স্থান

  • বিশাল পাথরের প্রাচীরঘেরা দুর্গ।
  • প্রাচীন খিলান ও দীর্ঘ বারান্দা।
  • ল্যাটেরাইট পাথরের অনন্য নির্মাণশৈলী।
  • ঐতিহাসিক শিলালিপি।
  • বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ।
  • চারপাশের সবুজ গ্রামীণ পরিবেশ।
  • সূর্যাস্তের সময় অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য।

কীভাবে পৌঁছবেন?

রেলপথে: খড়গপুর বা বেলদা স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে এসে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন।

সড়কপথে: কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ধরে খড়গপুর হয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে একদিনের ট্রিপের জন্য এটি আদর্শ গন্তব্য।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় কুরুমবেরা দুর্গ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। শীতকালে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে। বর্ষাকালে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আরও মনোরম হয়ে ওঠে, যদিও বৃষ্টির কারণে চলাফেরায় কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। কুরুমবেরা দুর্গের সঙ্গে একই সফরে ঘুরে দেখতে পারেন মোগলমারি বৌদ্ধবিহার, খড়গপুর শহর। ফলে ইতিহাস ও প্রকৃতির সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উইকএন্ড ট্রিপ হয়ে উঠতে পারে। যাঁরা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে ভালবাসেন কিংবা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন কোনও গন্তব্য খুঁজছেন, তাঁদের জন্য কুরুমবেরা দুর্গ একটি আদর্শ ঠিকানা। শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য, রহস্যময় অতীত, শান্ত পরিবেশ এবং গ্রামীণ বাংলার সৌন্দর্য সব মিলিয়ে এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সেরা অফবিট হেরিটেজ ডেস্টিনেশন, যা একদিনের সফরেই মনে গেঁথে থাকবে।

‘যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে’, পড়ুয়াদের আন্দোলন গুটিয়ে ফেলার পরামর্শ সলমানের

অর্ধেক মানুষ-আধা জন্তু, চিনের তৈরি নয়া রোবট হয়রান করছে গোটা দুনিয়াকে

কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখে ঝাপসা, তারপর সব স্বাভাবিক, জানেন কোন রোগের ইঙ্গিত?

এক যুবকের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন তিন বোন, বিতর্ক উঠতেই বললেন ‘আমরা সুখী’

উল্টোরথের আগে গুপ্তিপাড়ায় জগন্নাথের মাসির বাড়িতে ভাণ্ডার লুঠ, দাঁড়িয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী

বৈভবের তাণ্ডব, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সাত উইকেটে জয়ী শ্রেয়সরা

ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

ভয় দেখিয়ে প্রোমোটারের থেকে ৫ লক্ষ ‘তোলা’ আদায়ের অভিযোগ, দল থেকে সাসপেন্ড অভিযুক্ত বিজেপি নেতা

জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৮ বলে ৫০ রান বৈভবের, ভাঙলেন শচিনের রেকর্ড

‘হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়নি, হেয় করতেই অসত্য প্রচার’, মুখ খুললেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

প্রথম টি টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে ১২৫ রানে বেঁধে রাখলেন ময়াঙ্ক-প্রিন্সরা

ইতিহাস ও স্থাপত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন! একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন পশ্চিম মেদিনীপুরের কুরুমবেরা দুর্গ

পডুয়াদের আন্দোলনে পাশে নেই, ‘ডিগবাজি’ খেয়ে জানালেন অরিজিৎ

‘বারণ সত্ত্বেও শোনেনি’, সিকিম ধসে ছেলেকে হারিয়ে আক্ষেপ মায়ের