বিতর্কের মধ্যেই ২ দিনের শাহী সফরে বঙ্গ আসছেন শাহ

বড়সড় বিতর্কের মধ্যেই বাংলায় ২ দিনের সফরের জন্য পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার এসে শুক্রবার ফিরবেন তিনি।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: বড়সড় বিতর্ক বেঁধেছে ইতিমধ্যেই। সেই বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার বাংলায়(Bengal) পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah)। একুশের বিধানভা নির্বাচনের পরে এটাই প্রথম শাহের বঙ্গ সফর। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় শাহ ডাক দিয়েছিলেন, ‘আবকে বার ২০০ পার’। যদিও বঙ্গের জনতা বিজেপির দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ৭৭টি আসনেই। সেই গোহারান হারের পরে এটাই প্রথম শাহের বঙ্গ সফর হতে চলেছে। শাহের এই সফর ঘিরে এখন রীতিমত উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে।  

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে শাহের যে সফরনামা সরকারি ভাবে সামনে আনা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এদিন সকালে তিনি দিল্লি থেকে বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টার যোগে পৌঁছাবেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জে। সেখানে তিনি বিএসএফের ৬টি ভাসমান আউটপোস্ট উদ্বোধন করবেন। তারপর জলপথে তিনি পৌঁছাবেন বনগাঁ মহকুমার হরিদাসপুরে। সেখানে তিনি বিএসএফের একটি মিউজিয়ামের উদ্বোধন করবেন। তারপর ফের হেলিকপ্টারে করে তিনি যাবেন নদিয়া জেলার কল্যাণীতে। সেখানেও তিনি বিএসএফের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেই সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও সারবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টার করেই তিনি ফিরে আসবেন কলকাতায়। বিকালে বিমানযোগে তিনি কলকাতা থেকে পৌঁছাবেন বাগডোগরাতে। সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির রেল ময়দানে করবেন জনসভা। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জনজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গেও থাকছে তাঁর বৈঠক। রাতে তিনি শিলিগুড়িতেই থাকবেন।

শুক্রবার শাহের গন্তব্য কোচবিহার। সেখানে তিনি তিনবিঘা করিডরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেই অনুষ্ঠান সেরে দুপুরেই তিনি ফিরবেন কলকাতায়। এরপর একটি বেসরকারি পাঁচ তারা হোটেলে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সেরে তিনি দলের রাজ্য নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বিকালে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে(Victoria Memorial) কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি অনুষ্ঠান যোগ দেবেন শাহ। সেই অনুষ্ঠান শেষেই শুক্রবার রাতেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন অমিত শাহ। আর এই ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠান নিয়েই যেমন বড়সড় বিতর্ক বেঁধেছে তেমনি ক্ষোভও ছড়িয়েছে সর্বস্তরে। কেননা বাঙালির দুর্গোপুজোর(Durga Puja) ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি স্বরূপ কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি রাজ্য সরকারকে। আমন্ত্রণ পাননি মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের কোনও মন্ত্রী। রাজ্যের প্রধান উৎসবে যেন ব্রাত্য রাখা হচ্ছে রাজ্যকেই। এ যেন বিজেপির নিজস্ব অনুষ্ঠান। যেখানে বিজেপির ‘পদ্মপাল’ জগদীপ ধনখড় আমন্ত্রণ পান, কিন্তু ডাকা হয়না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে(Mamata Banerjee)।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধিই আমন্ত্রণপত্র পাননি। অনুষ্ঠানে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এমনকি আমন্ত্রণ পাননি কলকাতার কোনও দুর্গাপুজোর কমিটিও। আমন্ত্রণ পাননি কোনও থিম শিল্পীও। যাদের হাত ধরে কলকাতার দুর্গাপুজোর এই সম্মান তাঁরাই ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন শাহের শাহী অনুষ্ঠানে। এই ঘটনায় বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্য এবং শিল্পীরা শুধু যে অবাক হয়েছেন তাই নয়, তাঁরা রীতিমত ক্ষুব্ধ ও অপমানিতও হয়েছেন। যে রাজ্যের দৌলতে এই স্বীকৃতি, সেই রাজ্যের মানুষকেও অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে নানান মহলে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দুর্গাপূজোকে ইনট্যানজিবল হেরিটেজ-র সম্মান প্রদান করে ইউনেসকো। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই দুর্গাপূজোর আন্তর্জাতিক আসনে বসাতে উদ্যোগী হয় রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিভাগে আবেদন করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবেদনকে খতিয়ে দেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা হেরিটেজ তকমা দেয় দুর্গাপুজোকে। অথচ রাজ্য সরকারের পাশাপাশি শাহের অনুষ্ঠানে ব্রাত্য রাখা হচ্ছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, শাহ এই অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য করছেন নাকি বাঙালিকে অপমান করার জন্য করছেন? বাংলার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে অপমান করার জন্য করছেন? প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল বাঙালি না হয়েও কি করে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতির কথা মঞ্চে শোনাবেন? থিম শিল্পীরাও দাবি করে জানিয়েছেন যে, ওই অনুষ্ঠানে দুর্গাপুজো নিয়ে কথা বলার এক মাত্র অধিকার যদি কারও থাকে, তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। এই ঘটনা বাঙালিকে অপমান করার জঘন্য প্রচেষ্টা বলেও বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বিজেপি বাংলা বা বাঙালিকে বিন্দুমাত্র ভালবাসে না। তাঁরা বাংলার সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, এসবকে পছন্দও করে না। তাঁরা শুধু উদগ্রীব বাংলার ক্ষমতা দখলের জন্য। ক্ষমতা দখল সম্পন্ন হলেই তাঁরা বাংলার সভ্যতা, সংস্কৃতি, আর কৃষ্টি ধ্বংসসাধন করতে উদ্যোত হবে। এখন দুর্গাপুজোর জন্য অনুষ্ঠান করলেও তখন হয়তো দুর্গাপুজোকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রামঠাকুরের পুজো করতে বলবে।

পিৎজা খেতে ভালোবাসেন? ময়দা ছাড়াই তৈরি করুন হাই-প্রোটিন স্পেশাল রেসিপি

অফিস পার্টিতে গিয়ে রহস্যজনক মৃত্যু ২৭ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারের, তদন্তে পুলিশ

‘ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন’, বন্ধু নেতানিয়াহুকে নিয়ে চাঞ্চল্য মন্তব্য ট্রাম্পের

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

নিয়োগ দুর্নীতি মামলা: সমনে সাড়া দিয়ে ইডির দফতরে অভিষেক

৩ বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

৫-১ গোলে তিউনিসিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু সুইডেনের

যুদ্ধ শেষ হচ্ছে ঘোষণা হতেই ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল চার দেশ

বন্ধ হচ্ছে ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ, জানুন কোথায়-কখন স্বাক্ষরিত হবে ‘শান্তি চুক্তি’

‘দলবদলু’দের নিশানা করা দলেই ‘ঠাঁই’ নিচ্ছেন কাকলি-শতাব্দী-দেবরা

দিল্লিতে তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টাকে ঢুকতে বাধা, আড়াই ঘন্টা বসিয়ে রাখা হল বিমানবন্দরে

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইতিহাস গড়ে বিশেষ একজনের আশীর্বাদকে কৃতিত্ব দিলেন দীপ্তি শর্মা

ফ্লিপকার্টে Samsung Galaxy S25 Edge-এ বাম্পার অফার, জেনে নিন নতুন দাম

দাম কমতেই চর্চায় Google Pixel 10 , অফার শুনলে অবাক হবেন