চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

এসএসসি কাণ্ডে বাগ কমিটির রিপোর্টে নাম প্রকাশ ৮জনের

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কুল সার্ভিস কমিশন(School Service Commission) বা এসএসসি’র গ্রুপ সি কর্মী পদে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে(Calcutta High Court)। সেই মামলাতেই আদালত প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি(Bag Committee) গড়ে দেয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। সেই কমিটিই এদিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে তাঁদের রিপোর্ট(Report) জমা দিয়েছে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি আনন্দ কুমার মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। সেই রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছে, ৩৮১জন ভুয়ো নিয়োগ হয়েছে। আবার তাঁদের মধ্যে ২২২জন এসএসসি’র পরীক্ষাই দেয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এদিন কমিটির তরফে ৮জনকে এই দুর্নীতি(Corruption) কাণ্ডে জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গিয়েছে বাগ কমিটির আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতকে জানান, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের স্কুলগুলিতে গ্রুপ সি পদে মোট ৩৮১জনকে ভুয়ো বা অবৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে আবার ২২২ জন এসএসসি’র পরীক্ষাই দেননি। বাকিরা পরীক্ষা দিয়েও পাশ করেনি। প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের মে মাসে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় পেন্ডিং রিক্রুটমেন্ট শেষ করতে বলেন। সেই মোতাবেক মেয়াদ শেষের পরও নভেম্বর মাস অবধি বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শান্তিপ্রসাদ সিংহের সুপারিশ মতো ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি করেন পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালের কাছে নতুন ভবন থেকেই সেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরুণাভবাবু এটাও জানিয়েছেন যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি গঠনই অবৈধ এবং এই বিষয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

পাশাপাশি জানা গিয়েছে, বাগ কমিটি আদালতে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে সেখানে ৮জনকে গোটা দুর্নীতি কাণ্ডের মূল মাথা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৮জন হলেন – সমরজিৎ আচার্য (স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রোগ্রামিং অফিসার), কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় (মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি), সৌমিত্র সরকার (স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান), অশোককুমার সাহা (স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব), সুবীরেশ ভট্টাচার্য (স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান), শর্মিলা মিত্র, শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিন, মহুয়া বিশ্বাস (কমিশনের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান), রাজেশ লায়েক (বোর্ডের টেকনিক্যাল অফিসার) এবং ধ্রুব চক্রবর্তী। এই ভুয়ো নিয়োগের গণ্ডগোলে এঁরা কোনও না কোনও ভাবে সবাই জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে বাগ কমিটির রিপোর্টে।

এদিন মূল মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘এই কমিটির রিপোর্ট দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিরাট বড় দুর্নীতি হয়েছে এই নিয়োগে। আর ওপর মহলের নির্দেশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। নম্বর বাড়িয়ে এবং ওএমআর সিটে গণ্ডগোল করে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এদিনও শুনানি শেষে এসএসসি নিয়োগ মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বজায় রাখল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ১৮ মে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, আদালতে বাগ কমিটি যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে সৌমিত্র সরকার, অশোক কুমার সাহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও সমরজিৎ আচার্যদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করার সুপারিশ করা হয়েছে। কার্যত বাগ কমিটি এদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করেছে। রিপোর্টে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে সুবীরেশ ভট্টাচার্য, চৈতালি ভট্টাচার্য, শর্মিলা মিত্র, মহুয়া বিশ্বাস, শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচন কমিশনের মোটরবাইক নিষেধাজ্ঞা, চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে কী বললেন কবি শ্রীজাত?

লক্ষ্য ছাব্বিশের ভোট! ২৭ পর্যন্ত বাংলাতেই থাকবেন অমিত শাহ  

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, কী কারণ?

বাইকই ভরসা! কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ

তৃণমূল প্রার্থী-ভোট ম্যানেজারদের প্রয়োজনে আটকে রাখার নির্দেশ কমিশনের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ