এই মুহূর্তে




ভয়ঙ্কর কাণ্ড, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার উর্দু গান-কবিতায় পালিত জিন্নার মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: উর্দু ভাষার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে ঢাকার রাজপথে পাক শাসকদের বুলেটের মুখে বুক পেতে দিয়েছিলেন সালাম-বরকত-রফিক-জব্বাররা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন গোটা বিশ্বের কাছে ইতিহাস হয়ে রয়েছে। পাক শাসকদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল ৩০ লক্ষ বাঙালি। পাক সেনা ও তার দোসর রাজাকার বাহিনীর হাতে ধর্ষিতা হয়ে খুন হতে হয়েছিল কয়েক লক্ষ বাঙালি মা-বোনকে। যে পাকিস্তানের শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানের পরে সেই দেশের প্রধানের পদে বসেছেন পাকিস্তানি রাজাকার মুহাম্মদ ইউনূস। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসাবে পরিচিত ইউনূসের জমানায় ক্রমশই নখদাঁত বের করতে শুরু করেছে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদীরা। বাংলাদেশের মানুষ দুঃস্বপ্নেও যা কোনও দিন ভাবেননি বুধবার সেই ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার ৫৩ বছর বাদে ফের প্রকাশ্যে শোনা গেল উর্দু গান-কবিতা। শুধু তাই নয়, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার সাড়ম্বরে পালিত হল পাকিস্তানের জাতির পিতা তথা কুখ্যাত দাঙ্গাবাজ মোহাম্মদ আলী জিন্নার ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর ওই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেই অনেকেই ক্ষোভ উগরে লিখেছেন, ‘কোনও দিন দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিল না যে দেখতে হবে জিন্নার জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন হচ্ছে। তাও আবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে।’

শেখ হাসিনা জমানার পতনের পরেই বাংলাদেশকে ‘নব্য’ পাকিস্তান বানানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন ‘রাজাকার’ মুহাম্মদ ইউনূস। মৌলবাদী ও পাকিস্তান প্রেমীরা নখদাঁত বের করে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমির তরফে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে  ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। যদিও তিনি আসেননি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার কামরান ধাঙ্গাল। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী জিন্না না থাকলে পাকিস্তান সৃষ্টি হতো না।  আর পাকিস্তান না থাকলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না।’

আলোচনা সভায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান পাকিস্তানের জাতির জনক জিন্নার জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের নানা ঘটনাবলি বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে জাফরুল হক জাফর জিন্নাকে নিয়ে উর্দু কবিতা পাঠ করেন। বাংলাদেশে অধ্যয়নরত দুই পাকিস্তানি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তাহির ও কামরান আব্বাস জিন্নাকে নিয়ে উর্দুতে গান পরিবেশন করেন। নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সামসুদ্দিন বলেন, ৫ অগস্ট আমাদের বিজয় দিবস। এটিই আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে যদি বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে না থাকত তবে আজ কাশ্মীরের মত ঘাড় ফেরানোর উপায় ছিল না। ভারতীয় সেনারা ঘাড়ের ওপর অস্ত্র ধরে রাখত। জিন্না পাকিস্তানের সঙ্গ নিয়েছে বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শেখ মুজিবকে নয় জিন্নাকেই জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

চিন থেকে নয়, ইতালি থেকে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

অন্ধকারে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন, ইন্দো-বাংলা বণিকসভার শীর্ষ পদে হিযবুত জঙ্গি‍!

ঘুম উড়েছে ইউনূসের, ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপন বৈঠক খালেদার দূতের

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বিএনপি, পোস্ট তারেকের

ঢাকাতেই চিকিৎসা চলবে খালেদা জিয়ার, শারীরিক অবস্থা কেমন?

খালেদাকে লন্ডনে নেওয়া অনিশ্চিত, মঙ্গলবার আসছে না এয়ার অ্যাম্বুলান্স

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ