এই মুহূর্তে

নেত্রকোনা-৪ আসনে জয়ী ভারতের গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া বাবর

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রত্যাশামতোই নেত্রকোনা-৪ আসনে ( (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লু‍ৎফুজ্জামান বাবর। তিনি পেয়েছেন  ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট। জয়ের পরে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বাবর বলেছেন, ‘এই বিজয় জনগণের বিজয়। এলাকার উন্নয়ন, পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করে যাব।’

২০০১ থেকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পরিকল্পনামতোই ভারতের উত্তর-পুর্ব রাজ্যগুলির জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লু‍ৎফুজ্জামান বাবর। শুধু তাই নয়, ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশে ঘাঁটি তৈরি করে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালাতে সহযোগিতা করেছিলেন। ২০০৪ সালে অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে সরবরাহ করার জন্য বিদেশ থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানিও করেছিলেন। কিন্তু ভারতে পাঠানোর আগেই চট্টগ্রাম বন্দরের বেশ কয়েকজন স‍ৎ ও দক্ষ আধিকারিকের ত‍ৎপরতায় ওই অস্ত্র আটক করা হয়। ওই অস্ত্র বাজেয়াপ্তের পরেও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে মায়ানমার হয়ে উত্তর-পূর্বের জঙ্গি গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরেবরাহ করতে থাকেন তিনি। ওই সময় ভারত সরকার ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আইএসআই এজেন্ট লু‍ৎফুজ্জামান বাবর। এমনকি ঢাকার সঙ্গে দিল্লির প্রচণ্ড দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনা জমানায় দেশদ্রোহিতা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচার মামলায় গ্রেফতার হন বাবর। ১৭ বছর ধরে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই সমস্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পান বাবর।

জেলমুক্ত হয়েই ফের আইএসআইয়ের নির্দেশে উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন বলে ভারতের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ফলে দিল্লির রাতের ঘুম খানিকটা উড়ে গিয়েছে। বাবর ফের সাংসদ হওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ভারতের গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের অন্যতম হোতা তথা সেভেন সিস্টার্সকে ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হাসনাত আবদুল্লা। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে প্রার্থী হওয়া হাসনাত পেয়েছেন ১,৭২,০০০ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জসিমউদ্দিন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মুন্সীরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে নিজের আপন ভাইকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। বিএনপির আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) জয়ী হয়েছেন বিএনপির নাছির চৌধুরী।  তিনি হারিয়েছেন জামায়াতের সশস্ত্র শাখা সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন নেতা শিশির মনিরকে।

বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে এগিয়ে নির্দল প্রার্থী রুমিন ফারহানা। বিএনপির টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। নেত্রকোনা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জয়ী হয়েছেন। রাত নয়টা পর্যন্ত মোট ৬টি আসনের ফলাফল জানা গিয়েছে, তার মধ্যে বিএনপি জিতেছে চারটিতে। জামায়াতে ইসলামী জোটের দখলে গিয়েছে দুটি আসন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিধনে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ শুরুর নির্দেশ তারেকের

ড্যামেজ কন্ট্রোল! বাংলাদেশের মন্দিরের পুরোহিতদের মাসে ৫ হাজার করে সরকারি ভাতা

রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধার তকমা দেওয়ার উদ্যোগ পাকপ্রেমী তারেক রহমানের

তারেকের ইন্ধনে বাংলাদেশে আরও ৩৫ প্রশিক্ষণ শিবির খুলল পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর

তারেক জমানায় হিন্দু নির্যাতন চরমে, তিন সপ্তাহে খুন ১১ জন, গণধর্ষিতা ৫ জন

সাবধান! ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ