চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রকাশ্যে কিল-চড়-ঘুষি-ইসলামি জঙ্গিদের, দেখুন ভিডিও

নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক হওয়ার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে তাড়া করে ধরে ফেলে নির্মম অত্যাচার চালাল ইসলামি জঙ্গিরা। ওই শিক্ষককে গলা চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে লাথি-চড়-কিল-ঘুষিও মেরেছে সন্ত্রাসীরা। প্রহৃত শিক্ষকের নাম হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী প্রক্টর। আর যার নেতৃত্বে ওই হামলা চলেছে সেই ইসলামি জঙ্গি হল আবদুল্লাহ আল নোমান। যিনি রগকাটা শিবির হিসাবে পরিচিত ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দফতর সম্পাদক। তার সঙ্গে ছিল আরও তিন সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহ, ফজলে রাব্বি ও সোহানুর রহমান। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই ইসলামি জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর। গত কয়েক দশক ধরে দুই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামি সন্ত্রাসীদের ডেরা। আওয়ামী লীগ জমানায় খানিকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র শাখা ইসলামি ছাত্র শিবির। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের অবসানের পরে রাজাকার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ফের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল নেয় ইসলামী জঙ্গিরা। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-সহ উপাচার্য সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয় ইসলামি জঙ্গিদের। ফলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসীরা। গত মাসেই আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় বিভাগের ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল কুখ্যাত ইসলামি জঙ্গি সালাউদ্দিন আম্মার। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক কাউকে জ্যান্ত রাখা হবে না বলেও হুঙ্কার দিয়েছিল।

সেই ঘটনা নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে তাতে যে ইসলামি জঙ্গিরা মোটেও চাপে নেই, তা প্রমাণ হয়েছে এদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায়। সূত্রের খবর,  স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ। দুপুর বারোটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে ইসলামি জঙ্গি আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে চার সন্ত্রাসী  ওই শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে তাড়া করে। খানিকবাদে পাকড়াও করে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেখানে থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে ফের এক দফা মারধর চলে। তাতে ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে সামিল হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এমনকি হাসান মোহাম্মদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয। চোখের সামনে এক শিক্ষককে ওই ভাবে নিগৃহীত হতে দেখে পরীক্ষার্থি ও অন্যান্য শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তথা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের কোনও চিহ্ন আমরা রাখব না। শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করেছেন তিনি। ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা মারধর করে উপযুক্ত কাজ করেছে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ