এই মুহূর্তে

তোলাবাজির ৩০০ কোটির বাঁটোয়ারা নিয়ে গোলমালের জেরে গুলিবিদ্ধ হাদি, বিস্ফোরক রিপোর্ট গোয়েন্দাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি। আর ওই হামলার পিছনে রয়েছে বাংলাদেশের চার শিল্পপতির কাছ থেকে তোলাবাজি বাবদ আদায় ৩০০ কোটি টাকার বাঁটোয়ারা নিয়ে বিবাদ। সন্ধেয় তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে এমনই বিস্ফোরক রিপোর্ট দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। হামলার পরেই ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।

সুত্রের খবর, প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মূল হোতা শরীফ ওসমান বিন হাদি গত কয়েক মাস ধরেই ব্যবসায়ী ও শীর্ষ শিল্পপতিদের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা তোলা আদায় করেছেন। দেশের চার শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা’, ‘ট্রান্সকম’, ‘যমুনা’ ও ‘সিটি’ গ্রুপের কর্ণধারদের হুমকি দিয়ে ওই টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের বাকি সদস্যদের ওই টাকার ভাগ না দিয়ে দেশে-বিদেশে বেনামে সম্পত্তি কেনেন হাদি। শুধু তাই নয়, কোটি টাকা মূল্যের চারটি গাড়িও কেনেন। গত কয়েকদিন ধরেই ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তোলা বাবদ আদায় করা টাকার বাঁটোয়ারা নিয়ে তার বিবাদ চলছিল। এদিন হাদির ঘনিষ্ঠ দুইজন মোটরসাইকেলে চেপে এসে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই ধুমকেতুর মতো উত্থান ঘটে ঝালকাঠির নলছিটির বাসিন্দা হাদির। বাবা ছিলেন স্থানীয এক মাদ্রাসার শিক্ষক। ঠিকমতো দুবেলা খাওয়ার জুটত না। নেছারাবাদের কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময়েই জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন হাদি। পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।  পড়াশুনা শেষে জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীতে নাম লেখান। পাকিস্তানে গিয়ে লস্কর ই তৈয়বার জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণও নেন। দেশে ফিরে প্রাইভেট টিউশনি করে সংসার চালাতে শুরু করেন।

গত বছর জুলাইয়ে শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে পুলিশের উপরে গুলি চালানো ও মেট্রো রেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাদি। হাসিনার পতনের পর রাতারাতি হিযবুত তাহরীর জঙ্গিদের নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তোলেন। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের দৌলতে ব্যাপক পরিচিতি পান। সেই পরিচিতিকে হাতিয়ার করে নেমে পড়েন তোলাবাজির ব্যবসায়। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের হুমকি দিয়ে কোটি-কোটি টাকা তোলা হিসাবে আদায় করতে শুরু করেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘ইউনুস একজন খুনি ফ্যাসিস্ট’, নির্বাসনের পর প্রথম জনসভায় শেখ হাসিনা

খালেদা পুত্র তারেককে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ জামায়াতে আমীরের

বিপিএলে গড়াপেটায় জড়িত বাংলাদেশ বোর্ড সভাপতি, বিস্ফোরক দাবি বিসিবি পরিচালকের

চট্টগ্রামে এক আঙিনায় ১৫ মণ্ডপে বাগদেবীর আরাধনা

গণহত্যাকারী জামায়াতকে বিজেপির সঙ্গে তুলনা ইউনূসের বিদেশ উপদেষ্টার

দেড় বছর আগেই মৃত, বাংলাদেশের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামলাবেন ‘ভূত’ শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ